Loading...
You are here:  Home  >  আমেরিকা  >  Current Article

অভিবাসন প্রশ্নে সুর নরম করলেন ট্রাম্প

Trumpযুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেয়া প্রথম ভাষণে ‘আমেরিকান স্পিরিট পুনরুদ্ধার’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে  দেয়া এ ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আশাবাদের এক নতুন ঢেউ অসম্ভব সব স্বপ্নকেও দৃঢ়ভাবে আমাদের মুঠোবন্দী করতে শুরু করেছে।” ভাষণে তিনি ইহুদিদের কবরস্থানগুলোতে সাম্প্রতিক ভাংচুরের ঘটনা এবং কানসাসে জাতিগত ঘৃণায় এক ভারতীয়কে গুলী করে হত্যার নিন্দা জানান।
ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ যা ঘৃণা ও অনৈতিকতার নিন্দায় একতাবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।”  প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘটনাবহুল শুরুর পর তলানীতে নেমে যাওয়া জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনাই তার এ ভাষণটির লক্ষ্য ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এক ঘণ্টার এই ভাষণে তিনি ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্য চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ও যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে  দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করার নির্দেশ  দেয়ার বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অভিবাসন নীতির বাস্তব ও অনুকূল সংস্কার সম্ভব।” এর কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউজে সংবাদ উপস্থাপকদের এক মধ্যাহ্নভোজে তিনি জানিয়েছিলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা  দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন তিনি। এই মন্তব্য তার অভিবাসন নীতি থেকে সরে আসার বড় ধরনের ইঙ্গিত।
কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের অভিবাসন আইনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা মজুরি বাড়াতে পারবো, বেকারদের সাহায্য করতে পারবো, শত শত কোটি ডলার বাঁচাতে পারবো এবং আমাদের সমাজকে সবার জন্য নিরাপদ করে তুলতে পারবো।”
এই ভাষণ ছিল প্রেসিডেন্টের গতানুগতিক ভাষণ, গতানুগতিকভাবেই তা সারা হয়েছে। অন্য কোনো বছর হলে এর প্রতি হয়তো তেমন মনোযোগই  দেয়া হতো না। কিন্তু ট্রাম্পের যুগে সাধারণ বিষয়গুলোই অবিশ্বাস্য হয়ে ওঠে, কিন্তু মঙ্গলবার রাতের ভাষণটি ছিল ব্যতিক্রম।
ভাষণের অনেকগুলো বিষয়ই আগের মতো একই ছিল, সেই নিরাপত্তা বাড়ানোর ডাক, অবৈধ অভিবাসীদের নিন্দা, আমেরিকানদের কাজ ও চাকরি দিয়ে আমেরিকাকে পুনর্গঠন করার প্রতিশ্রুতি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের তাদের অংশের চাঁদা ঠিকভাবে  দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করা ইত্যাদি।
তবে এই প্রথম এগুলো বলা হলো স্বাভাবিকভাবে। একবার হলেও ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বললেন, কিন্তু চিৎকার করলেন না, বিবিসি/রয়টার্স।
বুশ-ওবামার ধারাবাহিকতায় ছেদ, ‘ইসলামী জঙ্গিবাদ’কে সরাসরি শত্রু ঘোষণা, মুসলিমবিরোধী যুদ্ধনীতিতে কমতি ছিল না কারও। তবু বিগত বুশ আর ওবামা প্রশাসন সন্ত্রাসবাদ কিংবা জঙ্গিবাদ প্রশ্নে সরাসরি ‘মুসলমান’ কিংবা ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। ট্রাম্প পূর্বুসূরীদের ধারাবাহিকতা ভেঙেছেন। সরাসরি ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি। প্রত্যয় জানিয়েছেন, আইএস নির্মূলের। মুসলিম মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে এই প্রত্যয় বাস্তবায়নের আশাবাদ জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে) দেশটির ক্যাপিটল কমপ্লেক্সে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বক্তৃতায় ট্রাম্প এমন প্রত্যয়ের কথা জানান। বুধবার কংগ্রেসে দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। বলেন, ‘ইসলামী জঙ্গিবাদের কবল থেকে আমেরিকাকে বাঁচাতে আমরা দৃঢ় এবং কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করছি।’ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে ‘পৃথিবীর সব থেকে বড় শত্রু’ উল্লেখ করে তাদের নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ বসবাস করলেও আমরা যেকোনো ধরনের খারাপ ও হিংসাত্মক পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করার সময় এক হয়ে যাই।’ অভিবাসন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডন্ট বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের প্রতি সম্মান বৃদ্ধির কারণে অভিবাসন নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামি মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। যারা আমাদের ক্ষতি করবে তাদের আমরা বের করে দেবো, আমাদের জাতির সুরক্ষার জন্য আমরা নতুন পদক্ষেপ নেবো- বলেন ট্রাম্প।
বিশ্বের মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমরা বিশ্বের মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবো। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে) দেশটির ক্যাপিটল কমপ্লেক্সে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বক্তৃতায় ট্রাম্প এমন প্রত্যয়ের কথা জানান। আমেরিকাকে ফের মহান হিসেবে গড়ে তোলার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন। সেই মহানুভবতার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, আমরা অবশ্যই আমেরিকান কম্পানি ও শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করব। ঐতিহাসিক ট্যাক্স সংস্কারে তার টিম কাজ করছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, কম্পানিগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্সের হার কমাব, যাতে তারা এবং যে কেউ যেখানে ইচ্ছে সেখানে কাজ করে উন্নতি লাভ করতে পারে। মধ্যবিত্তদের জন্য বড় ধরনের ট্যাক্স ছাড়  দেয়ার কথাও জানান তিনি।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামী মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। যারা আমাদের ক্ষতি করবে তাদের আমরা বের করে দেব, আমাদের জাতির সুরক্ষার জন্য আমরা নতুন পদক্ষেপ নেব- বলেন ট্রাম্প।
কংগ্রেসের প্রথম ভাষণে আমেরিকানদের জাতীয় চেতনা পুনর্জাগরণ করারও প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এ প্রেসিডেন্ট বলেন, আশাবাদের নতুন ঢেউ অসম্ভব স্বপ্নের জয়গা দখল করে নিচ্ছে। আমেরিকান মহানুভবতার নতুন অধ্যয় এখন উন্মুক্ত।
সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদি সমাধিস্থলে সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন তিনি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিরাপত্তা ও কাজের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্যদিয়ে বাস্তব ও ইতিবাচক অভিবসান নীতি পুনর্গঠন করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

    Print       Email

You might also like...

6afed405318d4219e5ce1f58be1a4401-5a1580a4a4885

২৭ নভেম্বর লন্ডনে কারি শিল্পের ‘অস্কার’

Read More →