Loading...
You are here:  Home  >  অস্ট্রেলিয়া  >  Current Article

অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী অভিবাসন ভিসাতে আবার পরিবর্তন

2ae2e1651dd8145d11801f34d4b4d099-5b38e1feca498

অস্ট্রেলিয়ার অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই থেকে। আর প্রতি অর্থবছরের শুরুর দিনই দেশটিতে সরকারি প্রায় সকল নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হয়। এ নিয়মের বাইরে নয় দেশটির অভিবাসন বিভাগও। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন সংক্রান্ত বড় নীতিমালার পরিবর্তন কিংবা নতুন আইন প্রণয়ন করা হয় এ দিনটিতেই। আজ ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে দেশটির ভিসা সংক্রান্ত বেশ কিছু পরিবর্তন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে পয়েন্ট ভিত্তিক জেনারেল স্কিলড মাইগ্রেশন ভিসাসহ অন্যান্য ভিসায়। অস্ট্রেলিয়ার ভিসার নতুন পরিবর্তনগুলো হলো।

স্কিলড মাইগ্রেশন ভিসার পয়েন্ট বৃদ্ধি
অস্ট্রেলিয়ায় পয়েন্ট ভিত্তিক জনপ্রিয় জেনারেল স্কিল মাইগ্রেশন (জিএসএম) ভিসার আবশ্যিক সর্বনিম্ন পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। আজ ১ জুলাই থেকে এ ভিসা প্রত্যাশীদের যোগ্যতা প্রমাণের পয়েন্ট সর্বনিম্ন ৬০-এর পরিবর্তে ৬৫ করতে হবে। এ শর্ত পূরণ হলেই ভিসায় আবেদনের আমন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে ভিসা প্রত্যাশীদের। জিএসএম ভিসার অন্তর্গত সাবক্লাস ১৮৯, ১৯০ ও ৪৮৯ ভিসার ওপর নতুন এ পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে। ইতিমধ্যে ৬০ পয়েন্ট স্কোর করেছেন, তবে এখনো ভিসায় আবেদনের আমন্ত্রণ পাননি, এমন সকলেই নতুন শর্তের আওতায় গণ্য হবেন।
অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ভিত্তিক ভিসাগুলোয় আবেদনের জন্য অভিবাসন প্রত্যাশীর বিভিন্ন যোগ্যতার ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়া হয়। এর মধ্যে বয়স, শিক্ষা, কর্ম অভিজ্ঞতা ও ভাষা দক্ষতা ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। এ বিষয়গুলোর ভিত্তিতে সর্বনিম্ন পয়েন্ট ৬৫ সংগ্রহ হলে অভিবাসনের ইচ্ছা প্রকাশ করে আরজি করতে হয় অভিবাসন বিভাগের কাছে। সর্বনিম্ন স্কোর নিশ্চিত পূরণ হয়েছে এ রকম ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা প্রত্যাশীদের বিভিন্ন বিভাগে জিএসএম ভিসায় আবেদন করার জন্য আমন্ত্রণ জানায় অভিবাসন বিভাগ। এ ভিসাগুলো সযোগ্যতা বা স্বাধীন, রাজ্য অথবা আঞ্চলিক মনোনয়ন ভাগে প্রদান করা হয়। সযোগ্যতা বা স্বাধীন সাবক্লাস ১৮৯ ভিসাধারী অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো রাজ্যেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেন। তবে রাজ্য কর্তৃক মনোনীত সাবক্লাস ৪৮৯ ভিসাধারীরা প্রাথমিক অবস্থায় শুধুমাত্র সেই রাজ্য বা অঞ্চলেই বসবাস ও কাজ করার গ্রহণযোগ্যতা পান।

স্কিলড পার্টনার ভিসার বয়সসীমা কম করা হয়েছে
জেনারেল স্কিলড মাইগ্রেশন (জিএসএম) ভিসার অন্তর্গত স্কিলড পার্টনার ভিসায় আবেদনের আবশ্যিক শর্তেও পরিবর্তন এসেছে। বয়সসীমা এখন ৫০ থেকে ৪৫ এ কমিয়ে আনা হয়েছে।

নতুন গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা চালু
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন একটি ভিসা চালু হয়েছে এ মাস থেকে। দেশটির প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনী উন্নয়নে অতি পারদর্শী কর্মী আকর্ষণ করতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা নামের নতুন একটি স্কিম চালু করেছে অভিবাসন বিভাগ। ভিসাটি আগামী ১২ মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকবে। অর্থাৎ আগামী ১২ মাসের মধ্যেই এ ভিসায় আবেদন করা যাবে। এ ভিসায় আবেদন করতে অস্ট্রেলিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অবশ্যই মনোনয়ন পেতে হবে। অভিবাসন আইনজীবীদের অনেকেই বলছেন, গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাওয়া ৪৫৭ ভিসার মতোই।

ভিসা ফি বৃদ্ধি
অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু ভিসা আবেদনের ফি বাড়তে চলেছে। পার্টনার মাইগ্রেশনের ভিসার ফি ৭ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ১৬০ ডলার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবক্লাস ১৮৮ ভিসার ফিতেও ১৯০ ডলার বাড়তি গুনতে হবে। ২০১৭ থেকে ২০২১ অর্থবছরের মধ্যে ভিসা ফির মাধ্যমে ৪১০ মিলিয়ন ডলার আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির সরকারের। শতাংশ হারে প্রতিটি ভিসাতে ফি বেড়েছে।

পার্টনার ভিসা
অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিকদের স্ত্রী বা স্বামী পার্টনার ভিসায় আবেদন করে দেশটিতে বসবাসে প্রত্যাশী হলে অবশ্যই আগে স্পনসরশিপের জন্য আবেদন করতে হবে। শুধু তাই নয়, এ আবেদন মঞ্জুর করা হলে তবেই স্ত্রী বা স্বামী পার্টনারের ভিসা আবেদন করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে পারিবারিক কলহের হার কমলেও ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সম্ভাব্য সময় বৃদ্ধি পাবে।

বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ খরচ দিতে হবে
অস্ট্রেলিয়ার সরকার স্কিলড অস্ট্রেলিয়ান ফান্ড নামের নতুন একটি স্কিম চালু করেছে। অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মনোনীত কাজের অর্থাৎ ব্যবসা থেকে স্পনসর ভিসায় এ স্কিম প্রযোজ্য হবে। দেশের বাইরের কর্মীকে মনোনয়ন করতে চাইলে মনোনয়ন প্রশিক্ষণ চার্জ (এনটিসিসি) প্রদান করতে হবে চাকরিদাতাকে। সাবক্লাস ৪৮২ (টিএসএস), ১৮৬ ও ১৮৭ ভিসার ওপর এ এনটিসিসি কার্যকর হবে। ১০ মিলিয়ন ডলারের নিচের বার্ষিক আয়ের ব্যবসাগুলোকে প্রতি ৪৮২ মনোনয়ন ভিসার জন্য ১ হাজার ২০০ অস্ট্রেলীয় ডলার এবং ১৮৬ ও ১৮৭ ভিসার জন্য ৩ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার পরিশোধ করতে হবে। ইতিপূর্বে ব্যবসা থেকে স্পনসর ভিসায় আবেদন করতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজেরায় বাৎসরিক বেতনের ২ শতাংশ কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিতে অথবা বাৎসরিক বেতনের ১ শতাংশ নিজেদের কর্মীদের প্রশিক্ষণে খরচ করত।

কাউসার খান: অভিবাসন আইনজীবী, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া। ইমেইল:

    Print       Email

You might also like...

115602_bangladesh_pratidin_Ayub_Ali_BDP

দুর্বৃত্তের গুলিতে ফ্লোরিডায় যুবলীগ নেতা খুন

Read More →