Loading...
You are here:  Home  >  মুক্তচিন্তা  >  Current Article

আনান কমিশনের প্রতিবেদন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান

রাখাইন রাজ্যে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি এড়িয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ অবশ্যই তুলে নিতে বলেছে আনান কমিশন। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন এটাও বলছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট কৌশল ও সময়সীমা ঠিক করতে হবে, যা হবে স্বচ্ছ ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশনের (যা সংক্ষেপে আনান কমিশন নামে পরিচিত) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়েছে। ‘রাখাইনের জনগোষ্ঠীর জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, নায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক ৬৩ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

কমিশনের ওই প্রতিবেদন নিয়ে কফি আনান গতকাল বিকেলে ইয়াঙ্গুনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সকালে তিনি কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচির কাছে তুলে দেন। এর আগে বুধবার প্রতিবেদনের একটি কপি দেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কিউর হাতে।

আনান কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৮৮টি সুপারিশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে রাখাইনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, লোকজনের অবাধ চলাচল ও নাগরিকত্ব আইনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ কিংবা নাগরিকত্বনির্বিশেষে রাখাইন রাজ্যের সব জনগোষ্ঠীকে অবাধে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। গত মার্চে আনান কমিশন তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দিয়েছিল মিয়ানমার সরকারকে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর কফি আনান তাঁর টুইটে রাখাইনের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দেরি না করে দ্রুত সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে বলে তাঁর প্রত্যাশা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে কফি আনানের নেতৃত্বে মিয়ানমারের ছয়জন এবং নেদারল্যান্ডস ও লেবাননের দুজন নাগরিককে নিয়ে ৯ সদস্যের কমিশন গঠিত হয়। গত এক বছরে মিয়ানমারের সিটুওয়ে, মংডু, বুথিডং, ইয়াঙ্গুন, নেপিদো ছাড়াও ব্যাংকক, ঢাকা, কক্সবাজার ও জেনেভায় অন্তত ১৫৫টি বৈঠক করে প্রায় ১ হাজার ১০০ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন তাদের প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

কমিশন গঠনের এক মাস পর গত ৯ অক্টোবর রাখাইনের মংডুতে সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার জেরে রাজ্যটিতে সামরিক বাহিনী নির্বাচারে লোকজনের ওপর অভিযান শুরু করে। পরিবর্তিত ওই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে যুক্ত করা আনান কমিশনের জন্য জরুরি হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী অক্টোবরের সহিংসতার জেরে রাখাইন রাজ্য থেকে অন্তত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

আনান কমিশনের প্রতিবেদনে নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের বিষয়টি রাখাইনে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে বড় বাধা। প্রসঙ্গটি বিতর্কিত হলেও এটি এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। বিষয়টির সুরাহা না হলে নাগরিকদের মানবিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা যেমন অব্যাহত থাকবে, তেমনি তা সামগ্রিকভাবে রাজ্যের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথ আটকে দেবে। স্বল্প মেয়াদে সমস্যার সমাধান করতে হলে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুসারে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় গতি আনতে হবে। তবে ওই আইন পর্যালোচনারও সময় এসেছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়োজিত সীমান্তরক্ষীদের দুর্নীতি রোধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের সুপারিশ মেনে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমারের আগ্রহকে কমিশন স্বাগত জানিয়েছে। দুই দেশের যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেসব লোক স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে আগ্রহী, আন্তর্জাতিক আইন মেনে দুই দেশকে সে জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিশন। বাংলাদেশ থেকে যেসব লোক রাখাইনে ফিরবে, তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানবাধিকারকর্মীরা নিপীড়ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আনান কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ অং সান সুচির সরকার ইতিমধ্যে কমিশনের সুপারিশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফোর্টফাই রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ বলেন, অনেকটা বর্ণবৈষম্যমূলক এসব বিধিনিষেধ সেখানকার সম্প্রদায়গুলোকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল, নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করেছিল এবং গণহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছিল।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক ফিল রবার্টসন আনান কমিশনের প্রতিবেদনকে সুচির জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    Print       Email

You might also like...

Mufti-news-bg20171122232853

Read More →