Loading...
You are here:  Home  >  মধ্যপ্রাচ্য  >  Current Article

আবুধাবিতে বাংলাদেশ সমিতির নতুন ভবনের উদ্বোধন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসসংলগ্ন একটি বাড়ি। আজ থেকে এটা বাংলাদেশ সমিতির সদর দপ্তর। কিছুক্ষণ আগে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে গেল। উদ্বোধন করলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন।

‘খোলো খোলো দ্বার, রাখিয়ো না আর বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে।’ গানটি শুরু থেকেই বাজছিল। আহা, এতো দেখছি সবাই নেমে এসেছে, জয়শ্রী কিছুটা বিস্মিত।
এই দেশের সরকার অনুমোদিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ সমিতি। সে কারণে নতুন ভবনে ওঠার লগ্নটি অনেকের কাছেই আগ্রহের। তারপর দিনটি আবার একুশে ফেব্রুয়ারি। বিশ্বজিৎ তরুণীর দিকে তাকান। ১৯৭৪ সালে নিবন্ধনপ্রাপ্তির মাধ্যমে সমিতির যাত্রা শুরু হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে এর গোড়াপত্তন ঘটে স্বাধীনতার আগেই। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে তিন শ ওয়ারলেস সেট পাঠিয়ে সমিতি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে। ঝড়ের বেগে বলে যান বিশ্বজিৎ। তবে তরুণী মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন।

গাছগাছালি ঘেরা একটি পরিবেশ। পাখি ডাকছে, কিচিরমিচির শব্দে হারিয়ে যেতে পারে বাঙালি মন, এমনই অবস্থা। কেউ কেউ প্রায় হারালেনও। এমনই ভাবালুতার মধ্যে রাষ্ট্রদূত এগিয়ে এলেন। প্রকৃতির পত্র-পল্লব আর বেলুনে সাজানো তোরণ। এরই মধ্য দিয়ে মুখগুলো ফুটে উঠল সূর্য রাঙা রূপ নিয়ে। তাম্র পাত্রে এগিয়ে দেওয়া হলো কাঁচি। লাল ফিতা কাটা হলো। মুহুর্মুহু হাতের তালিতে ভাঙল নীরবতা।

বিশ্বজিৎ ঠিক জায়গাটিতে দাঁড়াতে পারেননি। বোধ করি এই বিবেচনা থেকেই ক্যামেরাটা কেড়ে নেন জয়শ্রী। ক্লিক ক্লিক শব্দে এক নাগাড়ে এক ডালা ছবি তুলে যন্ত্রটি তুলে দেন তরুণের হাতে।

আয়োজনে ছিল একুশের ওপর আলোচনা। রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে বললেন স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আজ দেশ অগ্রসরমাণ। তিনি আশা করেন, সমিতির মাধ্যমে এসব জয়ের সমাচার জানতে পারবে দেশ বিদেশের মানুষ। কথার সঙ্গে তাঁর হাসিটিও আকর্ষণ করে সুধীদের।

তরুণ-তরুণী এক পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। ছবি তোলার জন্য স্থানটি মন্দ নয়। আলোচনার মাধ্যমেই সুনির্দিষ্ট একটি আহ্বান, সেটা ধরতে পারেন বিশ্বজিৎ। মাথাটা একটু নিচের দিকে নিয়ে মৃদু কণ্ঠে বলেন কাছের মানুষটিকে, এই পাটাতনটি ব্যবহার করেই অনেক দূরে যাওয়া সম্ভব। হুমম, জয়শ্রীরও বুঝতে কষ্ট হয় না। সুর বাজে—‘দাও সাড়া দাও, এই দিকে চাও, এসো দুই বাহু বাড়ায়ে॥’

আয়োজনে বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি এক বার্তা দিলেন। এডিবির সহায়তায় ৩৫০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা! কর্মীর হাতকে ইলেকট্রিক্যাল মেকানিক্যাল প্লাম্বিং কর্মে জুতসই করে গড়ে তোলার জন্য এই উদ্যোগ।

তরুণীর পরনে সাদা রং আর কালো পাড়ের শাড়ি। নিচের দিকে একটু এলোমেলো হয়ে গেছে বুঝি! জয়শ্রী সেটা ঠিক করতে করতে বলেন, ওপর মহলে সভাপতির বেশতো যোগাযোগ। বক্তব্য চলছে, সে কারণে মঞ্চের দিকে তাকিয়েই তরুণ বলেন, তা না হলে কী আর নেতৃত্ব।

অনুষ্ঠানের সূচনা, সে ছিল শহীদের বুকের রক্তঋণের ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার বীরত্বগাথার ধারাভাষ্য। রাজপথে রক্ত ঝরেছে। সেই ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি, বসন্ত দিনে পলাশ ফুটেছে, কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে। লাল টকটকে, যেন আগুন ঝরছে। ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিলেন তারা হলেন শহীদ। শহীদ মিনার হলো নির্মিত। ফাগুন আজ রক্তরাখী। আবিরের রঙে রঞ্জিত। সেই শুরু, সেই শুভ সূচনা। দাবি ও অধিকার আদায়ের পথে নিজেদের এগিয়ে চলা। রক্তমাখা আলপনা এই ভাষাশহীদরা আমাদের মাঝে যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল সালাম তালুকদার। মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন দূতাবাস কাউন্সেলর ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শহীদুজ্জামান ফারুকী।
মঞ্চ থেকে আরও দুজন কথা বলেন। বাংলাদেশ স্কুলের অধ্যক্ষ মীর আনিসুল হাসান ও জনতা ব্যাংকের নির্বাহী আমিরুল হাসান।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান। তার হাতে মাইক। বাংলাদেশ সমিতির পক্ষে এই বাড়ি ভাড়া নেওয়া একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঠিকইতো। ১৯৭৪ সাল থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এর দৃশ্যমানতা চোখে পড়ে না।

ভারতের নিজস্ব ভবন আছে। তাদের কার্যক্রম রীতিমতো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভবনের পরিসর এ ক্ষেত্রে বিরাট সুযোগ করে দিয়েছে। হ্যাঁ, এ তার পর্যবেক্ষণ।
জয়শ্রী মাথা ঝাড়ি দিয়ে ওঠেন। তরুণী জানেন ইন্ডিয়া সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার—আইএসসি সম্পর্কে। বিশাল এক সাগর যেন! যে কেউ হারিয়ে যাবে এই বাড়িতে। ব্যায়াম, খেলা কীসের না ব্যবস্থা আছে সেখানে। নিজের কন্যা রসমঞ্জুরি নামের নাচের প্রতিষ্ঠানে কত্থক শেখে। ক্লাস ও মঞ্চায়নের জন্যও এখানকার হল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এদের কি ভবন নেই? বিশ্বজিতের দিকে অবাক মুখে তাকান তরুণী। নেই। মানে? নেই মানে নেই।
জয়শ্রী আরও কিছু বলতে চেয়েছিলেন। এ যাত্রায় থামিয়ে দিয়ে বিশ্বজিৎ তাকে মঞ্চ দেখিয়ে দেন। বলেন, মনোযোগ দিয়ে শোনো।

নতুন এ ভবনটি চার বছর ধরে দূতাবাসের কাছে ছিল। এখন সেটা ভাড়া নিল সমিতি। এখানে বসে দুই প্রতিষ্ঠান দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষের সেবা দিতে পারে। রাষ্ট্রদূত বলেন, বন্ধের দিনও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২১৬টি পাসপোর্ট বিতরণ করেছেন। সমিতিও এই ভবন ব্যবহার করে সেবা দানের এই কাতারে শামিল হতে পারে।

বিশ্বজিৎ জয়শ্রীর দিকে তাকান। এর অর্থ, শুরুতে এই আভাসটিই দিয়েছিলেন তরুণীকে। বলেন, রাষ্ট্রদূত সবাইকে নিয়ে চলতে চান।
গানের আবেশ দেহ মন দুইয়ে। ইলেকট্রন মিডিয়ার সাংবাদিকেরা ছবির জন্য দৌড়াদৌড়ি করেন। আর নিজের আসনে বসে ছবি তোলেন বিশ্বজিৎ। জয়শ্রীর ঠোঁট নড়ে সুরে সুরে। ‘কাজ হয়ে গেছে সারা, উঠেছে সন্ধ্যাতারা, আলোকের খেয়া হয়ে গেল দেওয়া, অস্তসাগর পারায়ে।’

বাংলাদেশ স্কুলের অধ্যক্ষ মীর আনিসুল হাসান দাঁড়িয়ে। সুবিস্তৃত এই ভবনে সমিতির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ তার আনন্দ। বললেন, আমি অভিভূত।
জনতা ব্যাংকের নির্বাহী আমীরুল হাসান প্রবাসে এলেন এই কিছুদিন ধরে। তার ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা ছিল। সমস্যা নিরসনে সমিতির সভাপতি সহযোগিতা করেছেন। কোনো ব্যাপারে সমিতিতে জনতা ব্যাংকের অবদানের সুযোগ থাকলে তিনি সেটা করবেন। এটা পাল্টা কিছু নয়, সহজ প্রকাশ তার। এরই মধ্যে জয়শ্রী বলে ওঠেন, বাহ্!
একুশ জাতিসত্তার উন্মেষের প্রধান দিন। একুশ না হলে একাত্তর হতো কিনা সন্দেহ। রাষ্ট্রদূতের কথা। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান উর্দু ভাষাকে একক রাষ্ট্রভাষার ঘোষণা দেয়। এই দেশের তরুণেরা তা সহ্য করেনি। তার বলা শেষ হয়নি। চেতনার স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠল দেশ।
কপালে কালো টিপ্ পড়েছেন জয়শ্রী। একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য এটাই মানানসই। তরুণী ঢিলে টিপটাকে তর্জনী দিয়ে ঠিক করে আবার শক্ত হয়ে বসেন। ঝালাই করেন নিজের জানাকে।
বিশ্বজিৎ শুনছেন মনোযোগে।

এরপর বঞ্চনা আর বৈষম্যের ইতিহাস। বলেন, বৈষম্য ধরা পড়ল সব জায়গায়। চাকরি, ব্যবসা সব ক্ষেত্রে। চন্দ্রঘোনা পেপার মিল থেকে উৎপাদিত কাগজ পাঠানো হতো করাচি। তারপর সিল মেরে তা আসত ঢাকা। এ কারণে দাম বেড়ে তা হতো দ্বিগুণ।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা ঘোষণা করলেন। ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাঁড় করল পাকিস্তান সরকার।
অভিযোগ আনা হলো, আগরতলায় বসে বঙ্গবন্ধু ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন, সেটাইতো নাকি? বিশ্বজিৎ জয়শ্রীর এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বললেন, বঙ্গবন্ধু সেটা করতে যাবেন কেন!
মুক্তিযুদ্ধে সেই ভারতই সহায়তা করল, তাহলে জয়শ্রী হয়তো অন্য কিছু বলতে চান! তবে তাও বোঝা যায় না। ওগুলো এখন বাদ দাও, মৃদু বিরক্তি বিশ্বজিতের। চাঁদের আলোয় গা ধোবে আর বলবে তার গায়ে কলঙ্ক, তা কী হয়!
পাঞ্জাবির হাতা টানতে টানতে বিশ্বজিৎ দ্রুততার সঙ্গে বলেন, এরই পরিণামে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান।
বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব দিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জিতলেন। কিন্তু ওরা নানা কৌশল খাঁটিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বঞ্চিত করল ক্ষমতা থেকে। তরুণ-তরুণীর কান কিন্তু ওই দিকে।
৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ আমরা সেই আন্দোলন সংগ্রামের সুফল ভোগ করছি।
তরুণী অত কিছু গায়ে মাখেন না। সে জন্য মনের গান তার শেষ হয় না। আর জয়শ্রীতো গানেরই মানুষ। ‘ভরি লয়ে ঝারি এনেছি তো বারি, সেজেছি তো শুচি দুকূলে, বেঁধেছি তো চুল, তুলেছি তো ফুল, গেঁথেছি তো মালা মুকুলে।’
এক গাড়ি কথা। সমিতির মাধ্যমে প্রবাসীরা বাংলাদেশকে জানবে, এই প্রত্যাশা তাতে। রাষ্ট্রদূত দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের চিত্রটি সামনে আনেন। বলেন, পদ্মা ব্রিজ নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। আর্থিক সক্ষমতা, সাহস ও নেতৃত্ব আছে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে। এগুলোর প্রচার প্রয়োজন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে। উন্নয়ন প্রচারের লক্ষ্যে ৯ মার্চ উন্নয়ন মেলা হচ্ছে। স্থান বাংলাদেশ স্কুল। এই আয়োজনে সবাইকে আসার আহ্বান। বাহ্, আরও একটু ঘোরা, আরও একটু বিনোদনের সুযোগ। জয়শ্রী বলেই ফেলেন।

নতুন উদ্যোগ, সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে সমিতির নবযাত্রা আজ। ওপরে বিশাল জায়গা। দুই দিন আগে সভাপতির সঙ্গেই বিশ্বজিতের কথা হয় এ ব্যাপারে। এক কক্ষে সভাপতির দপ্তর। পাশে চলবে নাচ গানের মহড়া। অন্য একটি ঘর, সেখানে দীর্ঘ আলোচনার টেবিল। এই স্থানটিতে সমিতির সভা বসবে। কিংবা ছোট পরিসরে হবে সাহিত্য চর্চার আসর। নিচে সেমিনার অথবা অন্য কোনো সভার আয়োজনের জন্য ঢের জায়গা। আর বাইরে আরও একটি খালি পরিসর, সেটা সরাসরি যুক্ত করে দেওয়া হবে অনুষ্ঠান অঙ্গনের সঙ্গে। আসনগুলোকে কি সুন্দর করেই না সাজানো যাবে! দারুণ পরিকল্পনা, বলেন বিশ্বজিৎ। জয়শ্রী পাশে ছিলেন। মৃদু হাসি ছিল তখনো তরুণীর মুখে।
‘ধেনু এল গোঠে ফিরে, পাখিরা এসেছে নীড়ে, পথ ছিল যত জুড়িয়া জগত, আঁধারে গিয়েছে হারায়ে।’
সমিতি পৌঁছে গেছে নির্দিষ্ট একটি জায়গায়। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি তার কর্ম পরিচালনা করতে পারবে। এই বিশ্বাস আজ সবার চোখে।
এরই মধ্যে মিষ্টির ছড়াছড়ি। মিষ্টি মুখ করছেন জনতা ব্যাংকের দুই ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক ও মফিজুল ইসলাম। বিশ্বজিৎকে সে মিষ্টি খাওয়াতে তারা মৃদু জোর খাটান। অন্যদিকে আছেন দিদারুল আলম, শওকত আকবর, নাসির তালুকদার, নূর মোহাম্মদ ও সাকাওয়াত হোসেন–তারাও মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন একজন আরেকজনকে। দুবাই ও শারজাহর বন্ধুরা মিষ্টিময় করে তুলছেন গোটা হল। আহা সে কী আনন্দ!
টানা পাত্রে মিষ্টি। কে কত খায়। বিশ্বজিৎ এরই একটি জয়শ্রীর দিকে নিতেই তরুণী নিজ হাতে তা মুখে পোরেন। মিষ্টির মৌ মৌ গন্ধ ছড়ায় চতুর্দিকে।

নিমাই সরকার: আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

    Print       Email

You might also like...

Amirat-inner20180418144841

আমিরাতে তিন মাসের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

Read More →