Loading...
You are here:  Home  >  প্রবন্ধ-নিবন্ধ  >  Current Article

আমরা কোথায় আছি?

ফরীদ আহমদ রেজা :

farid a reza

বিলাতের বাঙালি পাড়া এখন অপরাধের দ্বিতীয় স্থান। এসব অপরাধ দেখতে ছদ্মবেশে নয়, প্রকাশ্যে ‎দাঁড়িয়ে থেকে আমরা ‎প্রতিদিন দেখছি। যে দেখছে তার যেমন লজ্জা নেই, যে দেখায় তারও কোন ‎শরম-বালাই নেই। চোখ দুটো অন্ধ হয়ে আছে, ‎যাদের কিছু করার সামর্থ আছে তাদের। অন্যদিকে ‎ধর্ম ও জাতীয়তার জিগির এখন প্রবলভাবে জেগে আছে। খুবই স্পর্শকাতর ‎ভাবে জাগ্রত হয়ে আছে ‎এ বিষয়গুলো। তরুণসমাজের কী হয়েছে সে ব্যাপারে কোন খবর না রাখলেও এ দুটো ব্যাপারে কেউ ‎‎কথা বললে ধর্মসত্ত্বা-জাতিসত্ত্বা এক সঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে ওঠে।‎

আমাদের স্বপ্নগুলো এভাবে মরে যাচ্ছে। আমরা ক্রমশঃ শূন্য হয়ে যাচ্ছি। ঘরে ঘরে আগুন ‎লেগেছে। প্রতিবেশী দেখছে। ‎আমরাও দেখছি। প্রবল ঝড় ধেয়ে আসছে। আমরা বালিয়াড়িতে ‎‎‎উটপাখির মতো মাথা গুঁজে ভাবছি, কোথায় ঝড়, এতো সামান্য ‎বাতাস। না, সামান্য নয়। ঘরের ‎ছাউনি উড়ে যাবে। ‎‎ভিটেমাটি ধ্বংস হয়ে যাবে। ভিটেমাটিতে শেয়াল-কুকুর চরে বেড়াবে। ‎

‎আপনি হয়তো প্রশ্ন করবেন, কোথায় ঝড়? না, আবহাওয়া অফিসের কাছে এর খবর নেই। গুগল ‎ওয়েদারে তা পাওয়া যাবে না। ‎হাঁটুন ‎‎বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায়। যেখানে তরুণরা বসে আড্ডা দেয় ‎সেখানে যান। কান পেতে শুনুন তাদের কথা। বাংলা, ‎‎‎সিলেটী, ককনি এবং নিজস্ব সাঙ্কেতিক ভাষা ‎মিলিয়ে তারা কথা বলে। তাদের ভাষা বুঝলে অনেক কিছু জানতে ‎‎পারবেন। কথা ‎বলুন আপনার ‎সন্তানের সাথে। কথা বলুন উঠতি বয়সী ছেলে এবং মেয়ের সাথে। জানার চেষ্টা ‎করুন, ‎কে তাদের ‎হিরো এবং ‎কারা তাদের কাছে ঘৃণ্য। তাদের ‘রোল মডেল’ কী আপনি? আপনার প্রিয় নেতা-‎নেত্রী? ‎না ‎গ্যাংস্টার? জানুন তাদের আকাঙ্খা ‎এবং স্বপ্ন।‎

‎আপনি বলবেন, আমাদের সোনার ছেলেমেয়ে কত পাশ দিচ্ছে! ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে। উচ্চ ‎বেতনে ‎চাকরি ‎করছে। বাড়ি ‎কিনছে, দামি গাড়ি হাঁকাচ্ছে। এ সব কি মিথ্যে? না মিথ্যে নয়। কিন্তু ‎শতকরা হিসেবটা করুন। ‎বিলাতের ‎অধিকাংশ বাঙালি ‎তরুণ। অন্ততঃ শতকরা ৫০ ভাগের বয়স ‎তিরিশের নিচে। তাদের কয়জন পাশ দিচ্ছে? ‎কয়জন ‎চাকরি করছে? কয়জন জেলে ‎আছে? কয়জন ‎সেক্স-অফেন্ডার হিসেবে তালিকাভুক্ত? কয়জনের পায়ে ট্যাগ ‎লাগানো ‎আছে? আপনার ছেলে বা ‎আপনার পরিচিত ‎তরুণদের কেউ কি এ রকম? পুলিশের খাতায় দাগি আসামী ‎হিসেবে ‎কয়জনের ‎নাম আছে? কয়জন পথে পথে ঘুরে বেড়ায়? ‎কয়জন ড্রাগ খেয়ে বুদ হয়ে পড়ে থাকে? কয়জন ‎ড্রাগ ‎বিপণনে ‎জড়িত? এ সকল হিসেব কি আপনার কাছে আছে?‎

‎ভিজিট করুন ফ্যামিটি কোর্টে। জানবেন, আমাদের তরুণ দম্পতিদের হাড়ির খবর। জানলে চমকে ‎উঠবেন। ‎‎পরিসংখ্যান সংগ্রহ ‎করলে আঁতকে উঠবেন। আমাদের মধ্যে সিঙ্গল মাদারের সংখ্যা ‎কতো? বাঙালি পরিবারের ‎‎কয়টা বাড়িতে শান্তি বিরাজ করছে? ‎আপনি কি জানেন, কয়জন বাঙালি ‎তরুণ বলৎকারের কারণে জেলে আছে? সেখানে ‎‎মধ্যবয়সী লোকও আছে। আপনি কি জানেন, ‎‎আমাদের কয়জন তরুণ নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণের দায়ে জেল খাটছে? ‎‎কয়জন নিজ গৃহে স্ত্রীকে বা ‎নিজের সন্তানকে নির্যাতনের দায়ে ‎‎জেল খাটছে? এসব অভিযোগ মাথায় নিয়ে ‎কয়জন ‎নিজের বাড়ি ‎ছেড়ে বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে থাকছে?‎

‎আমরা যে আগ্রাসন ও অশান্তির শিকার হচ্ছি এর মোকাবেলার জন্যে ‎লন্ডন বা বৃটেনবাসীর কী ‎কোন করণীয় আছে? নাকি ‎বাঙালিপাড়াকে আমরা কেবল ভোট ও বানিজ্যের জন্যে ব্যবহার করতে ‎থাকবো? প্রতিরোধ ‎না করতে পারি গণসচেতনতা ‎‎তৈরিতে কি আমরা ভূমিকা ‎রাখতে পারি না? যারা ‎হারিয়ে যাচ্ছে তাদের জন্যে কিছু ‎করতে না পারলেও যারা এখনো এ সবের ‎‎ছোঁয়া থেকে ‎হেফাজতে ‎আছে তাদের তো আমরা রক্ষা করতে পারি অথবা কমপক্ষে ‎রক্ষার চেষ্টা করতে পারি। যারা চলে ‎গেছে ‎বা পঁচে ‎গেছে তাদের মাঝেও অনেক মানিক রতন আছে। গল্পের সেই ‎নিজাম ডাকাত ‎সেখানেও লুকিয়ে থাকতে পারে। আমার ‎‎বিশ্বাস, আমরা যদি ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যাই তা হলে ‎তারা ‎আমাদের ভালোবাসাকে উপেক্ষা করতে পারবে না।‎

    Print       Email

You might also like...

326957_112

পলাশি : ইতিহাসের কালো অধ্যায়

Read More →