Loading...
You are here:  Home  >  প্রবন্ধ-নিবন্ধ  >  Current Article

আমার সাধের ধানমন্ডি

02-262

ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমাদ : আমার সাধের রাজমহল রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি। সত্যিই এই ধানমন্ডি এক ঐতিহাসিক মহল। আমার মনের জগতে এই ধানমন্ডি অতি অল্প দিনেই রাজধানীর এক সেরা রাজ মুলুকের স্মরণীয় চিহ্ন হিসেবে গেথে গেল। আমার দ্বিতীয় ছেলে তারেকের চাকুরী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায়। সেই সুবাদে তারা স্বামী স্ত্রীসহ এই ধানমন্ডির আবাসিক এলাকায় আমাদের ফ্ল্যাট বাড়ীতে বাস করার সৌভাগ্য হল। রায়ের বাজারের গোলাপশাহ আবাসিক এলাকার ৭তলা ফ্ল্যাট বাড়ীতে ৪র্থ তলায় অবস্থান করে যেন মহাসুখীদের পরশ পেলাম। ধানমন্ডির ভিতর বাহির বুঝতে পেরে নিজেকে খুবই ধন্য মনে করলাম। অশেষ শুকরিয়া মহান আল্লাহ পাকের। সেই ধানমন্ডির অভিজাত আর পরম সুখের শহরের সুগন্ধ কিছুতেই ভুলতে পারছিনা। অভিজাত শ্রেণীর উচু স্তরের মানুষের এই আধুনিক শহরে মানুষের সেবায় অতন্ত্র প্রহরীর মত সর্বদা দাড়িয়ে আছে ইবনে সিনা হাসপাতাল, দক্ষিণ কোরিয়ার সেরাজেম, শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পপুলার হাসপাতাল, ল্যাব এইড হাসপাতাল, স্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভারসিটি, নর্দান ইউনিভারসিটি, বিডিআর ইত্যাদি। ধানমন্ডির কেন্দ্র থেকে আশে পাশে উল্লেখযোগ্য আরো আছে রায়ের বাজার বৃহত্তম কবরস্থান, মুহাম্মাদপুরের অভিজাত এলাকা, আবাহানী খেলার মাঠ, বুড়িগঙ্গা নদী, জিগাতলা, লালবাগ কেল্লা, হাজারীবাগ, ট্যানারির মোড়, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল সমূহ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, কলাবাগান, শ্যামলী, গাবতলী, সাইন্স ল্যাবরেটরী, শাহবাগ হাসপাতালসহ সদা ব্যস্তময় ঢাকা মহানগরীর চমকপ্রদ নিদর্শনাবলী। মাত্র দেড় বছর আগে ১লা জুন- ২০১৬তে হাড়ি পাতিল আর বিছানাপত্রসহ এই ধানমন্ডি এসে আবার ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৭তে সুখের এই ঠিকানা থেকে নারায়নগঞ্জে বিদায় হতে গিয়েই এর প্রতি মায়া মমতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। ধানমন্ডির রাজমহলের রাজপথ ধরে দুধারে সুরম্য গ্লাস আর টাইল্স ফিটিং অট্টালিকাসমূহ। চোখ জুড়ানো সাজে সজ্জিত ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত নর-নারীর বাণিজ্য ভান্ডারের সাথে সারি সারি ভবন মালায় গ্রথিত এই ধানমন্ডি।
এই যে ঢাকার সেরা রূপ মহল ধানমন্ডি এর ইতিহাস কিন্তু বেশী দিনের নয়। এই ধানমন্ডি ছিল ক্ষেত খামার, হাওর, বিল আর নদ নদীর জলাধার আর নিচু ভূমির গ্রাম। হাজার হাজার মন ধানের ক্ষেত খামার ছিল এই এলাকায়। ধান আর ধানেই যেন সোনালী রূপে ভরপুর ছিল ইহা। ধান ক্ষেতের ধান মাড়াই আর ধান থেকে চাউল তৈরীর কারখানা ছিল এই গ্রাম ভরে। পরে ভারত প্রবাসীরা এসে এখানে স্থাপনা গড়ে। আস্তে আস্তে গড়ে উঠে শহর। নাম করণ হয় ধানমন্ডি। আজ আর এখানে ধান ক্ষেত নেই। তবুও ইহা ধানমন্ডি। শুনতে কার না ভালো লাগে। এখানে গড়ে উঠেছে নতুন আয়োজনে শান্তি নিকেতন। জলাধার থেকে অনেক উচুতে এনে তাকে তৈরী করা হয়েছে আধুনিক সাজে সুসজ্জিত শহর ধানমন্ডি। নতুন করে সাজানো হয়েছে শস্য শ্যামল গাছ গাছালীর চমৎকার বাগান দিয়ে। এখানে আছে ফুলে ফলে ভরা সারি সারি সুন্দর বৃক্ষরাজি। চোখ জুড়ানো ঝর্ণাধারার অনুরূপ টল টলে জলাধার প্রবাহমান। সুবৃহৎ বাগানের মাঝ পথ দিয়ে প্রবাহিত সুদৃশ্য লেক বড়ই চমৎকার। নানান জাতের মাছসহ প্রবাহমান পানির উপর লাল লাল শাপলা আর সবুজ কচুরী পানায় বড়ই আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে ধানমন্ডি লেক। মাঝে মাঝে শিশু কিশোরদের খেলার সুন্দর মাঠ সাজানো আছে অনেক জাতের খেলনা আর যন্ত্র দ্বারা। বিকাল থেকে রাত অবধি শিশু থেকে যুবক-যুবতীরা এখানেই খেলাধুলা আর আমোদ আহলাদে ব্যস্ত থাকে। মাঠ, ঘাট, বিল, বন বনান্তর আর রাজ প্রাসাদের মাঝে নিরিবিলিতে বসে আল্লাহর ধ্যান তন্ময়তাসহ পরকালের পূঁজি সঞ্চয়ের এবাদত গাহ কেন্দ্রীয় শাহী মসজিদ আর মাদ্রাসাও রয়েছে ফাঁকে ফাঁকে। কি নেই এখানে? তাই ধানমন্ডির রূপের বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না।
দিন যত যাচ্ছে তত আধুনিকতা এখানে বেড়েই চলেছে। দশ তলা থেকে বিশতলার আধুনিক কারুকার্য্যরে সুরম্য ভবন সমূহের ভিতর বাহিরে নানান আলো ঝলমল আর নিয়ন বাতিতে সুসজ্জিত এই ধানমন্ডি। সবার চোখ কেন্দ্রীভূত এখানে। সুযোগ পেলেই ধানমন্ডি লেকের দুই পাশ দিয়ে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে জোয়ান-বুড়ো ধনী মানুষের মিছিলে নিজেকে হারিয়ে ফেলি। কোটিপতি ঐসব অশান্ত বন্ধুদের চেহারা দেখে শুধু চেয়েই থাকি। আর ঘন ঘন সালাম দিয়ে কাছে পৌঁছার চেষ্টা করি। কারো কারো সাথে ব্যক্তিগত আলাপ করলে বুঝতে পারি যে আসলে তারা সুখী নয়। প্রাসাদের উপরে নিচে যেখানেই থাকুক তারা আসলে মানসিক আর শারীরিক রোগে আক্রান্ত। নির্ঘুম রাত কাটানোর দালান আছে, বস্তু আছে, শীতকে গরম করার আর গরমকে ঠান্ডা করে সুখী হবার আধুনিক কোন মেশিনই এখানে মওজুদ করার অভাব নেই। কিন্তু তবুও সুখের অভাব পুরন ওদের হচ্ছে না। ধানমন্ডি আর তার চার পার্শ্বে সুখের নিবাস যাদের আছে তারা কেউ কেউ আমাকে আর আমি তাদেরকে ভুলতে পারিনি। অল্প কয়েক দিনের আচরণে তাদের সাথে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠে।
বন্ধু স্বজন মনের বাধন
ধানমন্ডিতে মাত্র দেড় বছরের সৃষ্ট বন্ধু স্বজনের সাথে মনের বাধন অটুট হয়ে গেল। বহু কোটিপতি ব্যবসায়ী অফিসার আর রাজনীতিবিদের সাথে সালাম ও কুশল বিনিময় হয়। অনেকে মনে রেখেছে। আর অধিকাংশই মন থেকে বাদ দিয়েছে। যারা আমার সাথে গেথে রয়েছে তারা সবাই দীনদার মোমেন মুসলমান। মসজিদ বা ইসলামী আন্দোলনের সহযাত্রী যারা আমি তাদের থেকেই কিছু নীতি নৈতিকতা বা চরিত্রের শিক্ষা পেয়েছি। তারাও আমাকে এভাবেই আপন পেয়েছে। এটা বড় মজবুত আদর্শ। তাই তাদেরকে ভোলা যায়নি। আশরাফুল ইসলাম উজ্জল ভাই কুরআন হাদীসের উপর পড়া লেখা করে নামাযী জীবনে বিপ্লব সাধন করেছে। হানাফী মাজহাবের অনুসারী পরিবারের এই উজ্জল ভাই আহলে হাদীস অনুসারী হয়ে সহি তরিকায় সালাত আদায় করার সিন্ধান্ত নিয়ে তার জীবনকে উজ্জ্বল করেছে। আর আমি জন্মগত ভাবে আহলে হাদিস তরিকায় সহি সালাতের অনুসারী। তাই উজ্জল ভাইয়ের সাথে আমার বাধন খুবই মজবুত হয়ে গেল। ঠিক একই রূপে আমার সাথে গভীর সম্পর্ক হলো ট্যানারির মোড়ের হুমায়ুন কবির ও মাকসুদুর রহমান ভাই রায়ের বাজারের মুদি দোকানদার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ ভাইও ইন্টারনেট থেকে পড়ে পড়ে সহি আমলদার হয়েছেন তেমনি আরো কত জন। তাই আমাকে তারা খুবই মহব্বতের ভাই হিসেবে বরন করেছেন। বোরহান ভাই একজন নামাজী। তিনি আমাদের লন্ড্রি এর মালিক। সর্ববৃহৎ কবর স্থান হল রায়ের বাজার কবর স্থান। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর কবর জিয়ারত করতে এখানে প্রাত:ভ্রমণ ও শরীর চর্চা হয় অনেকের সাথে। এখানে গিয়ে দীনি সম্পর্কের যেসব ভাইকে খুবই নিকটস্থ করতে পারলাম তারা হলেন- সর্বজনাব আব্দুল হাই, ডা: আবুল কাশেম, মাও: আ: রহমান, মাস্টার নুর মুহাম্মাদ, শফিক ভাই, এস.আই. আবুল হাশেম, ম্যানেজার লিয়াকত আলী। গাড়ী ব্যবসায়ী আব্দুল হাই ভাইয়ের আন্তরিকতায় ঘন ঘন নাস্তা খাওয়ানো আমাকে খুবই অভিভুত করেছে। সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত কর্মবর্তা জাতিসংঘের চাকুরীরত ও বিশ্ব পন্ডিত জাকির নায়কের সাথী ডা: আবুল কাশেম থেকে ইসলামের উপর জটিল সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে আমি অশেষ উপকৃত হয়েছি। উনি এবং মাওলানা আব্দুর রহমান ভাই, সফিক ভাই, শরীর চর্চার কায়দা কানুন শিক্ষা দিয়ে আমাকে যথেষ্ট উপকার করেছেন। ইসলামী আন্দোলন জামায়াতে ইসলামীর যেসব ভাইকে আমি খুবই কাছে থেকে পেয়েছি তারা হলেন মোশাররফ ভাই, মামুন ভাই, ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার মোতাহার হোসেন ভাই এবং ব্যবসায়ী মুস্তাফিজ ভাই, ইব্রাহীম ভাই, মোখলেছুর রহমান ভাইদেরকে। তাদের সেরা হলেন ইবনে সীনার পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ মামুনুর রশিদ ও মোতাহার ভাই। মামুন ভাই দীনি ভাই হিসেবে আমাকে সহ বেশ অনেক ভাইকে চিকিৎসা সহযোগিতায় আগ্রহী হয়ে আমার মনের মনিকোঠায় ঠাঁই নিয়েছেন। আবাসিক এলাকার ঘনিষ্ট বন্ধুরা হলেন হাজী সফিক, রাকিব ও আবুল হোসেন। এরা সবাই বাড়ীর মালিক। সেরাজেম ধানমন্ডি শাখার একজন সদস্যও আমি। মেরুদন্ড ও রক্ত সঞ্চালনের ব্যায়াম কেন্দ্র দক্ষিন কোরিয়ার সেরাজেম। অনেকের মত আমিও এখানে অনেক দিন সেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছি। সুস্থ করেছি আমার স্ত্রীকেও। এখানকার বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম আঃ আজিজ আরিফুল ইসলাম, সগির হোসেন, ইসমাঈল, লিটন, বাদল প্রমুখ। মার্কেন্টাইল সিকিউরিটির আমি একজন সক্রিয় সদস্য হয়ে শেয়ার ব্যবসায় ছিলাম।
সেখানে নানা রকমের মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়। আল্লাহ পাক আমাকে তাদের সাথে আর তাদেরকে আমার মাঝে মহব্বতের সাথে গেথে রাখুন।
সবুজ শ্যামল বাগান মাঝে প্রবাহিত নদী
সুন্দর আর সুন্দরে ভরপুর ধানমন্ডির সবুজ শ্যামল অট্টালিকা ঘেরা আবাসিক মহল। সৌন্দর্য্যে মন্ডিত ফুল ও ফলের বৃক্ষরাজির বাগান। হাজার হাজার সবুজ পাতার গাছ গাছালীর প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধন করে রোগ শোকে আক্রান্ত অর্ধমৃত নারী পুরুষেরা সতেজ ও তাজা হতে প্রতি দিন সকাল বিকালে এখানে ঘুরে বেড়ায়। শরীর চর্চা করে প্রচুর অক্সিজেন গ্রহন করে ঘর্মাক্ত হয়ে বৃদ্ধরা চাঙ্গা হওয়ার সুযোগ নেয়। চমৎকার দালান সমূহের মাঝে ছোট বড় সবুজ পাতার অসংখ্য গাছ। তারই মাঝ দিয়ে তৈরী স্বচ্ছ টল টলায়মান চোখ জুড়ানো জলাধার সুদীর্ঘ নদী বা লেক। চারিদিকে দাড়িয়ে আছে সারি সারি ফুল ও ফলের সাজানো বৃক্ষরাজি। আছে আকাশচুম্বি দালান আর দালান।
আম, জাম, কাঠাল, লিচু, কমলা, আমড়া সহ অসংখ্য ফলের গাছ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। গোলাপ, জবা, জুই, চামেলী, বেলী, শিউলি, রজনীগন্ধা ইত্যাদি ফুল গাছ বাগানের চারিদিকে শোভা বর্ধন করে আছে। তার চেয়েও দামী ও বিরল ফুলের টব দিয়ে সাজানো আছে প্রতিটি বহুতল প্রাসাদ। মহান আল্লাহ পাক পরকালে মোমেনদেরকে শান্তিময় জান্নাত দানের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই জান্নাতের নিচ দিয়ে উপভোগ্য তৃপ্তিময় প্রবাহিত ঝর্ণাধারা প্রবাহের খবর দেয়া হয়েছে। ধানমন্ডি এই সবুজ শ্যামল এলাকায়। বাগানের মাঝপথ দিয়ে প্রবাহমান নদী দেখে আল্লাহ পাকের সেই ঝর্ণাধারার কথা মনে পড়ে বার বার। মানুষের গড়া এই বাগান আর নদী দেখেই মানুষের মনের মাঝে কত সুখের প্রবাহ চলে আসে। তাহলে পরকালে মহান আল্লাহ পাকের ঝর্ণাধারা ও জান্নাতের উপভোগ না জানি আরো কত মজার কত মধুর আর কত শান্তির।
ধানমন্ডি যাদের সুখের ঠিকানা
প্রকৃতি ও প্রযুক্তিতে আধুনিক সুন্দর সুখের ঠিকানায় গড়ে উঠেছে এই ধানমন্ডি। আধার চিরে আলোর পরশ পেয়ে অনেক বেশী সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে এই ধানমন্ডি। রাজধানীর শোভা বর্ধনের প্রবাহে ধানমন্ডি রূপ রস আর গন্ধে সেরা নগরীতে গড়ে উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তির শহর এই ধানমন্ডিতে দশতলা বিশতলা দালানের যারা মালিক আর যারা এখানে সুখের ঠিকানা পেতেছে তাদের সাথে গ্রাম গঞ্জের গণমানুষের তুলনা হয় না। চারিদিকে ফুল ফলের বাগানের মাঝে সর্বশেষ মডেলের গ্লাস, টাইলস্, লিফট, স্কেলেটর, এসি, ফ্রিজ, দামী জাজিম, খাট পালঙ্ক, চেয়ার টেবিল, নিয়ন বাতির রং বেরঙের আলোকমালা, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সরবরাহ, বাতাস, অর্থসহ সমৃদ্ধশালী সুন্দর বাড়ীগুলি আধুনিক ফ্যাশনের নর-নারীদের অবাধ জীবন-যাপনের আধার। যখন যা চায় তাৎক্ষনিক ভাবে সবাই পেয়ে ধন্য হচ্ছে। কোটিপতি এসব ভাগ্যবান অনেকেই হেসে খেলে দিন কাটায়। আয় রোজগারের কোন ব্যস্ততা তাদের নেই। জীবন চালাতে যা প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশী যাদের বাড়ী ভাড়া আসে তাদেরতো আর আয়ের পেরেশানী নেই। তাই তারা খায় আর ঘুমায়। বিশ তলায় সুখ নিদ্রায় যে নিমগ্ন সে রাতে বা ভোরে যদি বিশ হাজার টাকা এখনই পেতে চায় তাহলে দরজার সামনেই অবস্থিত ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড ঢুকিয়ে কাংখিত টাকা বের করে নেয়। তাদের জন্য মিনা বাজার বা স্বপ্ন সপের দরজা সর্বদাই খোলা। মাছ গোস্ত থেকে শুরু করে শাকসবজি মসল্যাপাতিসহ সবকিছুই টাটকাভাবে অনায়াসে সংগ্রহ করতে কোন বেগ পেতে হয় না। শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের কোন সংকট এখানে নেই। তাপে, ঠান্ডা আর শীতে গরম পেতে নেই কোন প্রতিবন্ধকতা। বাড়ীর সামনে বা ডাইনে বায়ে রুচিমত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ব্যাংকসহ যাবতীয় প্রয়োজনে জরুরী মার্কেট সামনেই খোলা রয়েছে। খেলাধুলা, আনন্দ উল্লাস বা খাওয়া দাওয়ার জন্য আধুনিক হোটেলে টাটকা খাবার সর্বদাই পাওয়া যাচ্ছে। যারা ধর্মকর্মসহ জান্নাতমুখী হতে পরহেজগারী জীবনের কান্ডারী হতে চায় তাদের জন্য কেন্দ্রীয় শাহী মসজিদসহ অনেক মসজিদ মাদ্রাসা খোলা রয়েছে। আগামীর সৈনিক শিশু কিশোর আর যুবক যুবতীদের সুন্দর মহাসমাবেশে এই ধানমন্ডি বড়ই ধন্য। ভাগ্যবান এই শিশু কিশোরেরা কোন দিন কোন কিছুতেই অভাবের মোকাবেলা করতে হয় না। খাওয়া দাওয়া, বই পত্র, পোষাক পরিচ্ছদ, যানবাহন, বাসস্থান এবং প্রাসংগিক কোন কিছুতেই তাদের কোন সমস্যা নেই। তাদেরকে বলা হয় আলালের ঘরের দুলাল। তাদের মন আর দেহ উন্নত। দামী পরিবারের দামী ছেলে মেয়েরা দামী স্কুলে পড়ে। সমাজের উপরের শ্রেণীর সেরা মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার মোক্ষম সুযোগ তাদের। বিদ্যা ও সততার পরশে যারা এগিয়ে যায় তারা দেশের পরিচালক কিংবা সেরা বিজ্ঞ জ্ঞানী গুনী হবে। আর যারা পদস্খলিত হয়ে অসৎ সংগে যাবে তারা অধঃপতনের চরম নি¤œস্তরে পৌঁছে যাবে। ধানমন্ডির আবাসিকে আগামীতে যারা থাকবে তারাও আজকের মতই হবে। নিজের কর্মগুনে কেউ সুখী। কর্মদোষেই অন্যরা অসুখী হবে। এটাই জান্নাত আর জাহান্নাম।
জানার আছে আরো অনেক
ঢাকার সন্তান আমি। ধানমন্ডি আমার বাড়ী থেকে বেশী দূরে নয়। অথচ আমার খিলক্ষেত উত্তরা থেকে ধানমন্ডি অনেক বেশি আধুনিক ও রূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর। অভিজাত শ্রেণীর কোটিপতিদের ব্যবসা বাণিজ্য আর আবাসিক এলাকা এই ধানমন্ডি। ক্ষনকালের আবাসিক অধিবাসী হয়ে অভিজাত ও উপরের শ্রেণীর অনেক মানুষকে নিবিড়ভাবে জানার সুযোগ হয়েছে। অনেক অজানা থেকে পৃথক করে ধানমন্ডিকে কিছুটা হলেও জানা বুঝার সুযোগ হল। এতটুকুতেই আমি অভিভূত। অনেক নতুন আর অপরিচিত জনদেরকে আপন পরিসরে পেলাম। পেলাম অনেক তথ্য, জ্ঞান, ব্যবসা, আর আমদানী-রপ্তানীর খবর। তাই অভিজ্ঞতার আরো এক ধাপ বাড়তি সুযোগ পেলাম।

    Print       Email

You might also like...

পর্যটন বিশ্বে নতুন আকর্ষণ হালাল হলিডে

Read More →