Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

আল্লাহর মেহমানগণ হজ্জ থেকে কি নিয়ে এলেন

hajjজাফর আহমাদ: হে আল্লাহর মেহমানগণ! মুসলিম মিল্লাতের পিতা জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম আঃ-এর আহ্বানে আল্লাহর রাজকীয় মেহমান তাঁরই ঘর তথা বাইতুল্লাহ, ওয়াদিল মুকাদ্দাস বা পবিত্র উপত্যকা মক্কা-মদীনায় বেশ কিছুদিন বেরিয়ে এলেন। আল্লাহ্র মেহমানদারীর অনেক কিছুই সেখানে উপভোগ করেছেন। দীন-দুনিয়ার কল্যাণের অনেক নমুনা দেখে এলেন। আরাফাতের ময়দানে মানবতার নবী সাঃ তাঁর শেষ বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমার এ কথাগুলো পরবর্তি বা পিছনে পড়ে থাকা লোকদের কাছে পৌঁছে দিও। হতে পারে তারা তোমাদের চেয়ে অধিকতর দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবে।’
হে মেহমানগণ! এখন বলুন, আপনি আপনার পরিবার, আপনার সমাজ, আপনার দেশ ও জাতির জন্য কি পয়গাম নিয়ে এলেন? যদি নিয়ে এসে থাকেন, তাহলে কোন প্রকার দ্ধিধা-সংকোচ নয়, সকল প্রকার জড়তা ছাড়াই আপনার পরিবার, সমাজ ও জাতির সামনে দাঁড়িয়ে যান এবং হযরত ইবরাহিম আঃ এর মতো সগর্বে ঘোষণা দিন যে, হে আমার পরিবার! হে আমার জাতি! তোমরা আজ যা করছ আমি সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে একমাত্র সেই প্রভুর দিকে ফিরে যাচ্ছি যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, যার সাথে কোন শরিক নাই, আসমান জমিনে একমাত্র তাঁর রাজত্বই চলবে। আমি আরো ঘোষনা করছি, সৃষ্টি যার হুকুম চলবে তাঁর। কারণ তালবিয়ার মাধ্যমে আমি আল্লাহ্র কাছে সেই কথাই বলে এসেছি। আমি বলে এসেছি ‘লা শারীকা লাকা লাব্বায়িক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মূলক’। হে আমার জাতি! আল্লাহ্র মেহমানদারীর সময়টাতে একবার নয় দু’বার নয় শত বার হাজার বার এই কথা বলে এসেছি। বলে এসেছি রাজত্ব ও হুকুমাত একমাত্র তোমারই চলবে। পুরো দেড়টি মাস সেই ওয়াদাই তো করে এলাম। আর প্রকৃত সত্য তো এটাই যে, তাঁর সৃষ্ট জমিনে অন্যের হুকুমাত তো কখনো চলতে পারে না। অর্থাৎ সৃষ্টি যার, আইনও চলবে তার।
সুতরাং হে আমার জাতি! আমি তো নিমকহারামী করতে পারি না। যদি এমনটি করি তবে আমি একই সাথে ওয়াদাভঙ্গকারী, মিথ্যাবাদী ও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো। বাইতুল্লাহ্র চারদিকে তাওয়াফের মাধ্যমে আমি এই ওয়াদা করে এসেছি যে, আমার সকল কিছুই তথা আমার জীবনাচরণ এই ঘরকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হবে। তাই আজ থেকে আমার জীবনে পরিবর্তনের একটা সূচনা সৃষ্টি হয়েছে। আমার আরো ওয়াদা করেছি যে, আমি দেশে গিয়ে আমার রাজনীতি, আমার সমাজনীতি ও আমার অর্থনীতি তথা আমার সমাজ ও রাষ্ট্রকে এ ঘরের দিকে ফিরিয়ে আনার আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এ জন্য যদি আমার জান আমার মাল ও আমার পরিবার হুমকির সম্মুখীন হয় তাতে কোন আপস ও পরোয়া কোনটিই করবো না। যেমনটি করেননি উহুদের ময়দানে শায়িত সাইয়েদুশ শুহাদা বীর আমির হামযাসহ ৭০জন সাহাবী রাজিআল্লাহু আনহুম, যেমন সামান্যতম পিছপা হননি জান্নাতুল বাকীতে শায়িত লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরাম। যেমনটি জীবন-মরণ সংকটেও সামান্যতম হতোদ্যম হননি গারে সওরে আশ্রয় নেয়া সারোয়ারে আলম ও তাঁর সাথী। মক্কার রাজা-বাদশা, ধনদৌলত ও সুন্দরী নারীর প্রলোভন যাঁর লোভকে উসকে দিতে পারেরি মক্কার কাফের সরদাররা। নিজ জাতির চরম বিরোধীতার মুখে মদীনায় হিযরত করে হলেও আল্লাহ্র আইন বাস্তবায়ন করে পৃথিবীবাসীর সামনে তার সুফল তিনি দেখিয়ে গেছেন।
হে আমার জাতি! আমি আমার বাস্তবচক্ষে দেখে এসেছি আল্লাহ্র কয়েকটি আইনের সুফল।
এক, চুরির আইন। সেটি সৌদিতে বলবৎ থাকায় কোটি কোটি টাকার মূল্যবান গাড়ী রাস্তায়, মাঠে ময়দানে খোলা আকাশের নীচে পড়ে আছে, উল্লেখ্য, সৌদিতে কারো বাড়ীতে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক কোন গ্যারেজ নেই, অথচ কোন গাড়ীর ছোট্ট একটি যন্ত্রাংশও চুরি হয় না।
দুই, কিসাস বা হত্যার আইন। ৪০/৪৫ দিন বাংলাদেশ থেকে খবর পাওয়া গেছে যে, প্রায় শতাধিক প্রাণ বিভিন্ন খুনখুনানিতে নিহত হয়েছে, কিন্তু সৌদিতে কুরআনের কিসাস আইনটি বলবৎ থাকায় এ ক’দিনে একটি খুনের খবরও মিলেনি।
তিন, জিনা, ব্যাভিচার, নারী হাইজ্যাক-এর একটি খবরও পাওয়া যায়নি। কারণ সেখানে রজম আইনটি বলবৎ রয়েছে। চার, আল কুরআন বলছে ‘নিশ্চয় নামায মানুষকে ফাহেশা ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।” নামাযের আযান হওয়ার সাথে সমস্ত দোকান পাঠ বন্ধ হয়ে যায়, সকলেই নামাযের দিকে চলে যায়। অর্থাৎ সেখানে নামায কায়েম আছে। ফলে রাস্তা-ঘাটে, বাজার ও মার্কেটে আমাদের দেশের মতো বেলেল্লাপনা নেই, দোকান বা কোন প্রতিষ্ঠানে আমাদের দেশের মতো কোন গান-বাজনা বাজছে না। ২/১জন নারী রাস্তা ঘাটে পাওয়া গেলেও অত্যন্ত শালীনতার সাথে চলছে, কেউ তাদের উত্ত্যক্ত করছে না।
হে আমার জাতি! আমি আমি রাতের ইতারে কান পেতে শুনেছি, এই বুঝি মহাকালের মহান রাষ্ট্রপতি হযরত ওমরে ফারুক রাঃ পিটে খাদ্য নিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। অর্ধেকটা পৃথিবীর দুর্দণ্ড প্রতাপশালী বাদশা ‘ফুরাতের তীরে একটি কুকুরও না খেয়ে মরে যাওয়ার ভয়ে সদায় কম্পমান থাকেন। মনের চক্ষু দিয়ে দেখতে পেলাম ঔ যে গাছটির নীচে মাথার নীচে ইট দিয়ে নিশ্চিন্তে আরামে ঘুমোচ্ছেন ইসলামী দুনিয়ার সেই শাসক। যেই শাসক মানুষের প্রতি জুলুম করেন না, মানুষের হক মেরে নিজের পেট পুরেন না, মানুষের সকল প্রকার অধিকারকে খর্ব করে স্বৈরাচারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন না।
হে আমার জাতি! আল কুরআন এমনই একটি সমাজ কায়েম করতে চায়। আমি পবিত্র হজ্জ থেকে সেই শিক্ষাই নিয়ে এসেছি। এখানে অন্যদের শাসন চলতে দেয়া মানে নিজেকে তাগুতের হাতে ছেড়ে দেয়া, তাগুতের সাথে আপস করা অথবা পুরোপুরি তাগুতের অনুসরণ করা, পক্ষান্তরে আল্লাহ্কে ছেড়ে দেয়া, আল্লাহর সাথে অন্যদের শরীক করা। যদি আল্লাহ্ ছাড়া অন্যদের শাসন ব্যবস্থা মেনে নেই, তবে আমার নামায, আমার রোযা, আমার যাকাত ও হজ্জ কি কাজে আসবে?
হে আমার জাতি! আমি আবারো ঘোষণা করছি, আমি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো আইন, অন্য কারো পথ ও মত মানি না। আজ থেকে আমি সব পরিহার আল্লাহ্র আইন বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবো। তোমরাও আমার সাথে শরিক হও। হে আল্লাহ্ তুমি সাক্ষী থাকো, আমি তোমার মেহমানদারীতে যে পয়গাম নিয়ে এসেছিলাম তা আমি আমার জাতির কাছে পৌঁছে দিলাম। যাতে আমার জাতি আমাকে তোমার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে না পারে। আমাকে তুমি কবুল করো।
অত্যন্ত বেদনাহত হৃদয়ে সত্য কথাটা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, প্রকৃতপক্ষে এই ৪০/৪৫ দিনের হজ্জের মূল শিক্ষাগুলো হয় আমরা বুঝি নাই অথবা বুঝেছি কিন্তু এ সমস্ত শিক্ষা লোহিত সাগরের ওপারেই রেখে এসেছি। সাথে নিয়ে এসেছি শুধুমাত্র হাজী বা আলহাজ ঊপাধি আর কিছু আতর, পাথর ও জমজমের পানি ও খেজুর।

    Print       Email

You might also like...

3beacdcde2a669c2103e83ce980f3dd9-5a182942ec897

মিসরে মসজিদে হামলা, নিহত ২৩৫

Read More →