Loading...
You are here:  Home  >  কলাম  >  Current Article

আস্থার পুঁজি উবে গেলে মানুষ নিঃসহায় হয়ে যায়

ড. সা’দত হুসাইন :

Saadat-hossain

পৃথিবীতে কর্মসহায়ক নানা রকম পুঁজির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুঁজি হচ্ছে আস্থা। যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পোদ্যোগ কিংবা অন্য কোনো আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা প্রতিনিয়ত এ সত্যের যথার্থতা অনুভব করেন। জীবনের অন্যান্য এলাকা, যেমন—রাজনীতি, প্রশাসন, সাধারণ ব্যবস্থাপনা, পারিবারিক ও মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থার সংকট মহাসমস্যার সৃষ্টি করে। জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোনো চেনা-অচেনা ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ও আচরণের পবিত্রতার ওপর আস্থা রাখার কোনো বিকল্প থাকে না। যেমন আপনি ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলেন। কাউন্টারে টেলারকে চেক দেওয়ার পর তিনি আপনাকে টোকেন দিলেন। আপনি যে চেক দিয়েছেন তার প্রমাণ এই টোকেন। যতক্ষণ টোকেন আপনার হাতে রয়েছে ততক্ষণ আপনার চিন্তা নেই। টোকেন জমা দিলে আপনাকে চাহিত নগদ টাকা দেওয়া হবে। নম্বর ডাকার পর আপনি টোকেন নিয়ে আবার কাউন্টারে গেলেন। এবারও কাউন্টারের টেলারকে টোকেন দিলেন, নগদ টাকা পাবেন বলে। টোকেন হাতে নিয়ে টেলার এদিক-ওদিক এটা-ওটা নড়াচড়া করলেন। সামান্য ঘোরাফেরা করলেন। এরপর আপনাকে নগদ টাকা গুনে দিলেন। আপনি খুশি মনে টাকা গ্রহণ করলেন। যদি কাউন্টারের টেলার এদিক-ওদিক ঘুরে আর না আসতেন অথবা এসে বলতেন যে আপনি তাঁকে কোনো টোকেন দেননি, তাহলে আপনি কী করতেন? প্রথমে হতভম্ব হতেন, তারপর চিৎকার করে বলতেন যে আপনি টোকেন দিয়েছেন, লোক ডেকে তাত্ক্ষণিক বিচার বসাতেন। এতেও কিছু না হলে ম্যানেজারের কাছে প্রথমে মৌখিক এবং পরে লিখিত অভিযোগ করতেন। এরপর তদন্ত, সিদ্ধান্ত ইত্যাদি নানা ঘটনা।

জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে আস্থার বিষয়টি এসে পড়ে। রাস্তায় চলতে গিয়ে আপনাকে আস্থা রাখতে হবে যে সব চালক নিরাপদ পদ্ধতি-প্রক্রিয়ায় গাড়ি চালাবে। এ আস্থা না থাকলে আপনি রাস্তায় চলতে পারবেন না। দেশের শাসনব্যবস্থা থেকে নিবন্ধের মূল বক্তব্য শুরু করা যাক। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শাসক (গোষ্ঠী) বাছাই করার ক্ষেত্রে যাদের যোগ্যতা এবং সৎকর্ম করার ইচ্ছার ওপর জনগণ আস্থা স্থাপন করতে পারে, সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে তারা শাসক হিসেবে নির্বাচিত করে। যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁদের কারো না কারোর ওপর আস্থা স্থাপন করা ছাড়া উপায় নেই। অন্যথায় দেশের শাসনব্যবস্থায় শূন্যতা দেখা দিতে পারে। যাঁদের ওপর আস্থা স্থাপন করা হয়েছে তাঁরা যদি নির্বাচনোত্তর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আস্থা ভঙ্গ করেন, তবে জনগণ হতাশ হয়। এতৎসত্ত্বেও পরবর্তী নির্বাচন কিংবা গণরোষে বা অন্য কোনো উপায়ে বিশ্বাস বা আস্থা ভঙ্গকারীদের নিষ্ক্রমণ না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে অপেক্ষা করতে হয়। শাসকের ওপর জনগণ আস্থা হারালে দেশে নৈরাজ্য, অশান্তি এবং অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। জনগণের অসহায়ত্ববোধ দেশের জন্য অকল্যাণকর হবে।

সমাজজীবনে আমরা পাড়া-পড়শি ও সমাজের সদস্যদের মূল্যবোধ ও আচরণ বৈশিষ্ট্যের ওপর আস্থা রেখে জীবন যাপন করি। পাড়া-মহল্লার লোকজন, সমাজের কারো ক্ষতি না করে, অন্য সদস্যের বিরক্তি উৎপাদন না করে সহযোগিতা, সহমর্মিতার মনোভাব নিয়ে আচার-আচরণ করবে—এ আশা ও আস্থা নিয়ে নাগরিকরা সমাজে বসবাস করে। কোনো সদস্যের আচার-আচরণে বিচ্যুতি ঘটলে সমাজের লোকজন সংক্ষুব্ধ হয়, হতাশ হয়। সামাজিক প্রতিষ্ঠান কোনো উদ্যোগ না নিলে বা ন্যায়াচরণ প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে সেই প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষ আস্থা হারায়। তখন সামাজিক বন্ধন তথা সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। সমাজ দুর্বৃত্তায়নে আক্রান্ত হয়। শান্তিপ্রিয় আইন মান্যকারী ব্যক্তিরা এই সমাজ, এমনকি এই জনপদ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে চায়। এভাবে সমাজের ভাঙন সৃষ্টি হয়। সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। উন্নত বিশ্বের বর্ণবিভক্ত সমাজের অনেক ঐতিহ্যবাহী জনপদ এভাবে হারিয়ে গেছে।

পেশাজীবীদের পেশাদারি নৈতিকতা (Professional Ethics) এবং ন্যূনতম সততা ও নিষ্ঠার প্রতি আমাদের বিশ্বাস থাকতে হয়। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে একজন ডাক্তার রোগীর রোগমুক্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবেন, একজন আইনজীবী তাঁর মক্কেলের পক্ষ হয়ে আন্তরিকভাবে আদালতে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিঠানে লড়বেন। একজন গবেষক নিরলসভাবে সৎ মানসিকতা নিয়ে তাঁর অনুসন্ধানকাজ চালিয়ে যাবেন। একজন রাজনীতিবিদ জনস্বার্থকে তাঁর নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেবেন, একজন প্রশাসক জনসেবা ও ন্যায়ানুগ আচরণকে সব কিছুর ওপরে প্রাধান্য দেবেন। একজন বিচারক ন্যায়ানুগ বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে আপস করবেন না। একজন শিক্ষক অধ্যাপনাকে জীবনের ব্রত হিসেবে নেবেন। ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞানদানের জন্য তিনি বড় রকমের ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি থাকবেন। পাঠদান ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ক্লান্তি-শ্রান্তি তাঁকে স্পর্শ করবে না। নিরাপত্তা নির্বাহী ও কর্মীরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিরন্তর সতর্ক দৃষ্টিতে কাজ করবেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য তৎপর থাকবে বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে। বিপদে-আপদে তাদের কাছে ছুটে যায়। তারা বিশ্বাস করতে চায় যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকৃতই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালনে ব্রতী হবে। তবেই সমাজে শান্তি বিরাজ করবে।

পেশাজীবীদের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডে অনেক সময় নৈতিকতার ঘাটতি দেখা যায়। ডাক্তাররা রোগীর রোগমুক্তিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেন না। ডাক্তারিকে তাঁরা ব্যবসা হিসেবে দেখেন। একজন রোগীকে গড়ে এক মিনিটও সময় দেন না। সময় নিয়ে, আন্তরিকতা দিয়ে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন না। এর বদলে ওষুধ কম্পানির স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় ওষুধের সমাহার ঘটিয়ে রোগীকে লম্বা প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেন। আইনজীবীরা মক্কেলের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব না দিয়ে অনৈতিক রুজিরোজগারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। প্রশাসকরা জনস্বার্থ ও জনসেবার কথা ভুলে গিয়ে সারাক্ষণ নিজের চাকরি এবং ক্যারিয়ার গঠনের প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন। ফলে তাঁবেদারি-মোসাহেবি, তালাফি-তদবিরেই তাঁদের সময় কেটে যায়। সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাও ভুয়া সনদ দাখিল করে চাকরিতে অনৈতিক সুবিধা নেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন না করে তার উল্টোটাই বেশি করেন। তাঁরা নিজেরাও নানা অপকর্ম এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। বুদ্ধিজীবীরা ক্ষমতাধরদের চাটুকারিতা করে চাকরিবাকরিসহ নানারূপ সুবিধা জোগাড়ের চেষ্টা করেন। মানুষ হতাশ হয়, পেশাজীবীদের ওপর তাদের আস্থা হারিয়ে যায়। আস্থাহীনতার বিভ্রান্তি পেশা এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। সাংস্কৃতিক নৈরাজ্যে সমাজ ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক পুরোপুরি আস্থার ওপর নির্ভরশীল। অভিভাবক মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে তাঁর সন্তান-সন্ততি শিক্ষকের আদর-স্নেহ, তত্ত্বাবধানে ভালো শিক্ষা পেয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। শিক্ষক ছাত্রকে শাসন করবেন, একই সঙ্গে সোহাগ করবেন। শাসনের ধরন যেন এমন না হয়, যাতে ছাত্র শারীরিকভাবে আহত হয়। আমাদের ছেলেবেলার কথা বলছি। অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের শিক্ষকের কাছে নিয়ে বলতেন, ‘মাস্টার সাহেব, ছেলেকে আপনার কাছে দিয়ে গেলাম। হাড্ডি আমার, মাংস আপনার। ওকে শাসন-সোহাগে সত্যিকারার্থে শিক্ষিত করে তুলবেন।’ মাস্টার অতি স্নেহে ছাত্রকে গ্রহণ করতেন। এরপর তাকে শাসনে-সোহাগে বড় করে তুলতেন। অবশেষে একদিন অভিভাবকের হাতে শিক্ষিত ছেলেটিকে তুলে দিতেন। তার হাড্ডি ঠিকই রয়েছে। মাংস বেড়েছে, সে এখন কিশোর হয়েছে। অভিভাবক তাকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিতেন। সজল নয়নে শিক্ষক তাকিয়ে থাকতেন। আমি আমাদের শিক্ষকদের কথা বলছি। তাঁরা সবাই প্রয়াত হয়েছেন। যত দিন বেঁচে ছিলেন আমরা তাঁদের কাছে ছাত্রই ছিলাম। ভক্তি-শ্রদ্ধায় তাঁদের আপ্লুত করেছি।

নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান এবং ছাত্রকে প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষকদের সেই আন্তরিকতা আছে কি না, তা আজকে জিজ্ঞাসার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রেণিকক্ষের স্থান দখল করে নিয়েছে কোচিং সেন্টার। শিক্ষকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে পরীক্ষায় সুবিধা

(Facility) দানকারী জালিয়াতচক্র। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকরাও শামিল হয়ে গেছেন এই চক্রে। শিক্ষক এবং মূল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারিয়ে গেছে অভিভাবকদের। ধুঁকছে শিক্ষাব্যবস্থা। অসহায় শিক্ষার্থীরা।

ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিস্তম্ভ হচ্ছে আস্থা। ব্যাংকের লেনদেনের পবিত্রতায় শতভাগ আস্থা রেখে গ্রাহকরা তাদের অর্থ-সম্পদ ব্যাংকে জমা রাখে এবং প্রয়োজনমতো তা উত্তোলন করে। যেহেতু বিপুলসংখ্যক গ্রাহক স্বল্প সুদের বিনিময়ে তাদের অর্থ জমা রাখে এবং সবাই একসঙ্গে সে অর্থ উত্তোলন করে না, সেহেতু ব্যাংকের কাছে সব সময় বড় পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত থাকে, যা উচ্চতর সুদে ঋণ হিসেবে অন্য গ্রাহকের কাছে বিনিয়োগ করে ব্যাংক লাভবান হয়। এভাবে গ্রাহকের আস্থাকে পুঁজি করে ব্যাংকিং ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বর্তমান যুগে ব্যাংক থেকে ঋণ না পেলে উদ্যোক্তা তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে পারে না। ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান কুঋণের (Bad Loan) মাধ্যমে যদি ব্যাংকে গচ্ছিত গ্রাহকের অর্থ তছনছ করে ফেলে, তবে প্রয়োজনের সময় গ্রাহক তার অর্থ ফেরত পাবে না। এমন অবস্থার সৃষ্টি হলে গ্রাহকরা শঙ্কিত হবে, আস্থার সংকট দেখা দেবে। সব গ্রাহক তখন একসঙ্গে তাদের সঞ্চিত অর্থ তুলে ফেলতে চাইবে। ব্যাংকের ওপর মারাত্মক চাপ (Run) সৃষ্টি হবে। সে চাপে-তাপে ব্যাংকের পুরো কাঠামো ভেঙে গলে পড়তে পারে। যে আস্থার পুঁজিকে ভিত্তি করে ব্যাংকের সৃষ্টি হয়েছে, সেই পুঁজি যদি উবে যায়, তবে ব্যাংকের ধসে পড়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না। দেশের কিছু ব্যাংক এমন সংকটে পড়েছে। ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও উদ্যোক্তারা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ-সম্পদ নানা অপকৌশলে সরিয়ে নিয়েছে; এক অর্থে বলা যায় লোপাট করেছে। গ্রাহকরা দারুণভাবে শঙ্কিত, লুটপাটের কারণে মূলধন হারানো কিছু ব্যাংককে সাধারণ মানুষ থেকে আদায় করা অর্থ দিয়ে কর্তৃপক্ষ বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করছে। গ্রাহকের আস্থা হারানো ব্যাংকগুলোকে এভাবে কত দিন টিকিয়ে রাখা যাবে নিশ্চিত করে কেউ তা বলতে পারে না। আইন মান্যকারী সজ্জন গ্রাহকদের দাবি, যেসব ঋণখেলাপি ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি এমন অবস্থার জন্য দায়ী, তাঁদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হোক। তাদের সে দাবি কোনো দিন পূরণ হবে কি না, তা-ও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না।

ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থার গুরুত্ব সমধিক। শুধু নগদ লেনদেন করে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। মুখের কথার (Word of honour) ওপর বিশ্বাস রেখেই একজন সওদাগর (Whole Seller) তাঁর পণ্যসামগ্রী ব্যবসায়ী ক্রেতার (Retailer) হাতে তুলে দেন। ক্রেতা এ পণ্য বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে পাইকারের পাওনা টাকা ফেরত দেয়। লাভের টাকা দিয়ে সংসার চালায় এবং সম্ভব হলে ব্যবসা সম্প্রসারিত করে। এভাবে ব্যবসায়ীর নিজ নিজ বলয় গড়ে উঠেছে। অংশীদারদের মধ্যে ন্যায়ানুগ ভাগবাটোয়ারা, ঠিকাদার, জোগানদার-সরবরাহকারীর সঙ্গে উদ্যোক্তা ও চাহিদাকারীর লেনদেনের পবিত্রতা, আমদানিকারকদের প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাস করে দেশি-বিদেশি ব্যাংকের লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার ওপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা টিকে আছে। সেই আস্থায় চিড় ধরলে ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে দাঁড়ায়। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুঃখজনক যে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেরূপ আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হতে চলেছে। একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিশ্বখ্যাত অ্যাকাউন্টিং ফার্ম এবং পেশাগত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং (EY) একটি জরিপ চালিয়ে দেখতে পেয়েছে যে বাংলাদেশে ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে নৈতিকতার মান খুবই নিচু। এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য তারা কিছু পরামর্শ রেখেছে। এ ক্ষেত্রে দুর্বলতম দিকগুলো হচ্ছে—১. অনৈতিক জেনেও ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া; ২. অনৈতিক পন্থা অবলম্বনকারীর কাছে ব্যবসা হারানো; ৩. কর্মীদের ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিরোধী কোনো প্রশিক্ষণ না দেওয়া এবং ৪. ভেন্ডর বা তৃতীয় পক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখতে অস্বীকৃতি ও ব্যর্থতা।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে আস্থার পুঁজি একটি বিরাট সম্পদ। যেহেতু আমরা অর্থ-সম্পদের দিক থেকে কিছুটা দুর্বল, তাই এ পুঁজি ধরে রাখা আমাদের নিজ নিজ এবং জাতীয় কর্তব্য। এ পুঁজি উবে গেলে আমরা নিঃসহায় হয়ে যাব।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

    Print       Email

You might also like...

‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরালেই ঠুস’

Read More →