Loading...
You are here:  Home  >  দেশ জুড়ে  >  Current Article

ঈদে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২৫৪, আহত ৬৯৬

c7cbda0e92fede39a9cde4514582ca7e-59a94765d5e63
সম্প্রতি ঈদুল আজহায় বাড়ি ফেরার সময় দেশের মহাসড়কে ২১৪টি পৃথক দুর্ঘটনায় ২৫৪জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৯৬ জন। আর সড়ক, রেল ও নৌপথে সব মিলিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৭২টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩২২ জন। আহত হয়েছেন ৭৫৯ জন।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে এ-তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল বৈঠক মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মাহবুব আলম তালুকদার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি রুস্তম আলী খান ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হানিফ খোকন প্রমুখ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রার শুরুর দিন ২৮ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরার সময় ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। সড়কপথের দুর্ঘটনার পাশাপাশি নৌপথেও ঘটেছে ১৫টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন ৪৩ জন।

সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল ২২টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক এবং ১০টি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ৩৯.১০ শতাংশ পথচারী গাড়িচাপায়, ১২.৬০ শতাংশ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, ৩২.৬০ শতাংশ দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১.৪০ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে, ৩.২০ শতাংশ গাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ও ১১.২০ শতাংশ অন্যান্য কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।

যেসব কারণকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ভাঙ্গা ও খানাখন্দপূর্ণ রাস্তাঘাট, অতিরিক্ত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেকিং, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় যানজটে আটকে থাকা গাড়ির চালকদের ওপর মালিকদের চাপ প্রয়োগজনিত মানসিক অস্থিরতা, সড়কে দ্রুতগতির যানের পাশাপাশি ধীরগতির পশুবাহী ট্রাক, নছিমন-করিমন, রিকশা, ভ্যান, অটোরিক্সা ইত্যাদির একত্র চলাচল, দ্রুতগতির মোটরসাইকেল এবং ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় রাস্তার ওপর দিয়ে জনসাধারণের চলাচল।

এসব সমস্যার সমাধানকল্পে প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলেঅ হচ্ছে: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি সড়ক দুর্ঘটনা সেল গঠন, যানবাহনে গতি নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ, দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন করে দেওয়া, যানবাহনে প্রশিক্ষিত চালক থাকার বিষয়টি রনিশ্চিত করা, ফিটনেস আছে এমন নিরাপদ যানবাহন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ, মহাসড়কে নসিমন, করিমন, অটোরিক্সা, রিকশার চলাচল বন্ধে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা এবং পথচারীবান্ধব ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং, ওভারপাস ও আন্ডারপাস গড়ে তোলা।

বক্তারা এ সময় বলেন, বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থাপনা ও আইনের শিথিলতার কারণে বাংলাদেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলো দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এতে সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেমন বাড়ছে তেমনি দীর্ঘায়িত হচ্ছে যানজট। সেইসঙ্গে বাড়ছে অসহনীয় জনভোগান্তি। ঈদের মওসুমে সড়ক দুর্ঘটনার হার প্রতিবছর আশঙ্কাজনক হারে কেবল বেড়েই চলেছে। আর ফিরতি যাত্রায় দুর্ঘটনার হার অনেক বেশি হচ্ছে।

    Print       Email

You might also like...

_97944134_gettyimages-846527948

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে এখনও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ

Read More →