Loading...
You are here:  Home  >  ধর্ম-দর্শন  >  Current Article

ঈদ এবং উৎসবের আনন্দ

ফরীদ আহমদ রেজা

Farid A Rezaআরবী ‘ঈদ’ শব্দের অর্থ আনন্দ-উৎসব। এর আরেক অর্থ যা বার বার ফিরে আসে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ বার বার ফিরে আসে এবং আবার ফিরে এসেছে। ঈদুল ফিত্র বা রমজানের পর যে ঈদ সে দিনের সবচেয়ে বড় দৈহিক ইবাদাত জামাতের সাথে দু রাকাত ঈদের নামাজ এবং আর্থিক ইবাদাত ফিতরা আদায় করা। নতুন কাপড় পরিধান করা, উপহার বিনিময়, মজাদার খাবার পরিবেশন ইত্যাদি এর আনুষঙ্গিক উপাদান। মুসলমানদের ঈদ উৎসবের মধ্যে ইবাদাত, দান-খয়রাত, সামাজিকতা, আনন্দ-উৎসব ইত্যাদির আপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

মুসলমানরা সংসার-বিরাগী সন্যাসী নয়। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মুসলমানদের ধর্মবোধ খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়’ এবং ‘অসংখ্য বন্ধন মাঝে লভিব মুক্তির স্বাদ’। মুসলমানদের ঈদ উৎসব শুধু ব্যক্তিগত ধর্মীয় ইবাদত বা আচার-অনুষ্ঠান নয়। সেখানে ব্যক্তির আত্মিক উন্নয়ন এবং সামাজিক চিন্তার সমন্বয় রয়েছে। ঈদের নামাজে হাজির হয়ে মুসলমানরা বিশ্ব-জাহানের প্রভূর উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হন। ব্যক্তি সেখানে ব্যক্তিগত ভাবে উপস্থিত হলেও নামাজ আদায় করতে হয় জামাতের সাথে, গরীব-ধনী সকলে এক কাতারে এক সাথে দাঁড়িয়ে। আল্লাহর কাছে যখন তারা মুনাজাত করেন তখন স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের জন্যে কল্যাণ কামনা করেন না। তারা সকলের জন্যে দোয়া করেন। তারা বলেন, ‘আমরা’ তোমারই ইবাদত করি এবং ‘আমরা’ তোমার কাছেই সাহায্য চাই। ‘আমাদের’ সিরাতাল মুস্তাক্বিম বা সহজ, সরল ও সঠিক পথে পরিচালিত করো। ‘আমাদের’ দুনিয়া এবং আখেরাতের মঙ্গল দান করো। মুসলমানদের প্রার্থনায় ‘আমি’র পরিবর্তে ‘আমরা’ এবং ‘আমাদের’ প্রাধান্য দেয়া হয়। তারা শুধু পরকালের কল্যাণ কামনা করেন না, পার্থিব জীবনের কল্যাণও প্রার্থনা করেন।

কুরআন মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ হলেও সেখানে বহু ইহলৌকিক বিধি-বিধান রয়েছে। মহানবী (স)-এর জীবনও ধর্মীয় এবং ইহলৌকিক আচার-অনুষ্ঠানে ভরপুর। স্বাভাবিক কারণেই মুসলমানদের ঈদ উৎসবের মধ্যে ধর্মীয় আচার এবং ইহলৌকিক মেজাজের সমন্বয় ঘটেছে। দেড় হাজার বছরের পথ-পরিক্রমায় সেখানে সামাজিকতা এবং দেশাচারও ভূমিকা রাখছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতির কারণে পৃথিবীর একপ্রান্তের আচার-অনুষ্ঠান, ফ্যাশন, সমাজিকতা প্রভৃতি অন্য প্রান্তের মানুষের কাছে নতুন আমেজ নিয়ে উপস্থিত হবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের মতো ঈদ উদযাপনেও আমরা একটা গ্লোবাল চিত্র প্রত্যক্ষ করছি।

ঈদের জামাতে শুধু বয়স্ক পুরুষরা উপস্থিত হন না, ছেলেমেয়ে এবং মহিলারাও সেখানে উপস্থিত থাকার নিয়ম রয়েছে । দেড় হাজার বছর থেকে এ নিয়ম চালু রয়েছে। ঈদের জামাতে মহিলাদের অংশ গ্রহণের বিধান ইসলামেএমন এক যুগে চালু করেছে যখন পৃথিবীর কোথাও ধর্মীয় সমাবেশে মহিলাদের উপস্থিতি অকল্পনীয় ব্যাপার ছিল। ঈদের শুরু মহানবী (স) মদীনায় হিজরত করার পর। তখন রোজা ফরজ হয় এবং ঈদ উৎসবের প্রচলন হয়। রাসুল (স)-এর যুগে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়া হতো এবং মদীনার মহিলারা ঈদের নামাজে শরিক হতেন। মহানবী (স) পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের মাঠে যেতে মুসলমানদের বলেছেন। তিনি সকল বয়সের মেয়েদের ঈদের জামাতে হাজির হতে বলেছেন। শারীরিক কারণে যাদের জন্যে নামাজ পড়া ফরজ নয় তাদেরও যেতে বলেছেন। তারা নামাজ পড়তে না পারলেও সমাবেশে হাজির থাকবেন এবং খুতবা শুনবেন। তিনি আরো বলেছেন, যে সকল মহিলার বাইরে যাবার নিজস্ব চাদর নেই তারা যেন অন্য মহিলার চাদরে নিজেকে আবৃত করে ঈদের জামাতে হাজির হন।

মহানবী (স)’র সময় তাঁর উপস্থিতিতে মহিলারা মসজিদে নববীতে স্বাধীনভাবে যাতায়াত করেছেন। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ঈদের জামাতে মহিলাদের উপস্থিতি নিয়ে সঠিক ধারণা নেই। অনেকে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানেন না এবং অনেকে এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলেন। বাংলাদেশে এবং বিলাতে বাঙালি পরিচালিত অধিকাংশ মসজিদে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নেই। মহানবী (স)’র একটি বানী উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘মহিলাদের ঘরে নামাজ পড়া উত্তম’। সুতরাং তাদের ঈদের জামাতে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু মহানবী (স)’র এ বক্তব্য সাধারণ নামাজের ব্যাপারে, ঈদের নামাজের ব্যাপারে নয়। তা ছাড়া মহানবী (স) এটাও বলেছেন, ‘তোমরা মহিলাদের মসজিদে যেতে বাঁধা দিবে না।’

    Print       Email

You might also like...

7fc972b0bc200e4113f29996ce9a3388-5a1ba591e4b9f

সংস্কার- আরব বসন্ত অবশেষে সৌদি আরবে

Read More →