Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

এক্সেলসিয়র থেকে রাতারগুল : শ্যামল শ্যামল নীলিমায় নীল

Ratargul Swamp Forest2সাঈদ চৌধুরী: উনিশে ডিসেম্বর কনকনে শীতের সকাল।এক্সেলসিয়র সিলেট থেকে শাহ পরান (র) এর মাজারের সামন দিয়ে এমসি কলেজ হয়ে শাহী ঈদগাহে এসে গাড়ি থামল। স্নেহাস্পদ এনাম চৌধুরী ও ড্রাইভার নিয়ামত খান নিয়ে এলো প্রয়োজনীয় সফ্টড্রিংক্স ও ফাস্টফুড। জালালাবাদ থেকে এডভোকেট রফিক চৌধুরী ও নয়াসড়ক থেকে এডভোকেট আব্দুর রহমান এসে সফর সঙ্গী হলেন।
গাড়ি চলল ওসমানী বিমান বন্দর সড়কে।ক্যাডেট কলেজ পাড়ি দিয়ে বাইপাস ধরে সাহেব বাজার হয়ে ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত রাতারগুল। মাঝখানে পাথর ভাঙ্গা, দক্ষিণ খলা, মহালদি, বড়বন, টিলাপাড়া, পিররগাও, লাউগুল, রামনগর চৌমুহনী, বাগবাড়ি, দেওয়ানের গাও প্রভৃতি জনপদ ও লোকালয় পাড়ি দিয়ে রাতারগুল জলাবন (Ratargul Swamp Forest)। ৩৩২৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত জলাবনে প্রায় ৫00 একর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট এটি।
রাতারগুলের কাছে এসে আটকে গেল আমাদের গাড়ি। রাস্তার কাজ চলছে। সামান্য জায়গা পাড়ি দিতে হবে ধান কাটা জমিনের মাঝদিয়ে।আগন্তকদের সুবিধার জন্য এলাকাবাসী আইল কেটে পথ করে দিয়েছেন। শেষ প্রান্তে এসে গাড়ি মূল সড়কে উঠতে পারছেনা।তাতেও সমস্যা হলোনা। দিল দারাজ কিছু মানুষ দ্রুত এগিয়ে এলেন। বাড়ি-ঘর থেকে কোদাল এনে রাস্তার পাশ কেটে ঢালু করে দিলেন তারা। রামনগর থেকে ছুটে এলেন মো: আব্দুল কাইয়ুম। বেশ বাহাদুরের মত পাওয়ার টিলার নিয়ে নিছ থেকে উপরে ও উপর থেকে নিছে নেমে রাস্তাটি আমাদের উপযোগী করে দিলেন। কাইয়ুম, ইব্রাহিম, কাসেম আলীসহ সহায়তাকারী সকলকে ধন্যবাদ জানালাম। শ্রমিকদের কিছু হাদিয়া দিয়ে কৃতজ্ঞতা চিত্তে আপন গন্তব্যে ছোটে গেলাম আমরা।
উত্তরে মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্রোতস্বিনী গোয়াইন নদী, দক্ষিণে শিমুল বিল ও নেওয়া বিল হাওর বেষ্ঠিত জলাবন’। ভারতের মেঘালয়ের জলধারা গোয়াইন নদী দিয়ে চেঙ্গর খাল নদীতে মিলিত হয়ে প্লাবিত করে পুরো রাতারগুলকে। বর্ষাকালে অথৈ জলে বাসে। এখন সে অবস্থা নেই। ছোট ছোট খাল দিয়ে নৌকা চলে আর মেঠোপথে হেটে চলে নিকটবর্তী গ্রামবাসী।
ছোট্ট একটি দোকানের মত জায়গায় কয়েকজন মাঝি ও গ্রামবাসী বসে আছেন। তারা গোটা জলাবনের একটা চিত্র তুলে ধরলেন। দাম দর করে চার/পাচ শত টাকায় একেকটা নৌকা করে লোক জন ঢুকে যাচ্ছে জঙ্গলের ভেতর। আমরাও একটি ডিঙ্গি নৌকায় চড়লাম।রহমান ভাই ও রফিক ছবি তুলতে শুরু করলেন। এনাম ভয় পাচ্ছিল। প্রবাসে বড় হয়েছে। সাতার জানেনা। তাকে অভয় দিলাম। আস্তে আস্তে সেও সাহসী হয়ে ওঠল।
সবার নজর এখন সবুজ শ্যামলিমার দিকে।দুনিয়ার বহুদেশ ঘুরেছি। কিন্তু এমন নজর কাড়া পরিপাটি ঝোপ জঙ্গল কোথাও দেখেছি বলে মনে হয়না। উদ্ভিদ বৈচিত্রে ভরপুর Ratargul Swamp Forestরাতারগুলে রয়েছে বিপুল পরিমান মুর্তা বা পাটিবেত, যা দিয়ে শীতল পাটি তৈরি হয়। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিছানার মাদুর এই শীতল পাটি সুদূর লন্ডন পর্যন্ত বিখ্যাত।
শ্যামলে শ্যামল নীলিমায় নীল এই জলাবনে রয়েছে অসংখ্য হিজল গাছ। এর ডালপালার বিস্তার চারদিকে। হিজল ফল বেশ তিতা, দেখতে অনেকটা হরতকির মতো। লম্বা পুষ্পদণ্ডের মধ্যে গোলাপি রঙের হিজল ফুল ঝুলন্ত অবস্থায় ফোটে। রাতে ফুটে আর সকালের আলোয় ঝরে যায় বলে দুপুরে গিয়ে হিজল ফুলের আসল রূপ দেখা হয়নি।তবে মনে পড়ে কবি নজরুল ইসলামের লেখা – পিছল পথে কুড়িয়ে পেলাম হিজল ফুলের মালা। কি করি এ মালা নিয়ে বল চিকন কালা•••।
ভেষজশাত্রে ঔষধি গাছ হিসাবে আর্জুনের ব্যবহার অগনিত।বলা হয়ে থাকে, বাড়িতে একটি অর্জুন গাছ থাকা আর এক জন ডাক্তার থাকা একই কথা। রাতারগুলের চারিদিকে রয়েছে অনেক অর্জুন। কোন কোনটি ৫০/৬০ ফুট পর্যন্ত উঁচু। পাতাগুলির আকারটা একটু বড় হলেও মানুষের জিভের মত।পাতার ধারগুলি খুব সরু দাঁত করাতের মত।রয়েছে ছাতিম গাছ।বহু শাখা বিশিষ্ট গাছটির ছাল গন্ধহীন, অসমতল ও ধুসর। ছাতিম পাতার উপরের দিক চকচকে আর তলার দিক ধুসর। ১০থেকে ১৫সে.মি. লম্বা পাতা একই মূলাবর্তে ৪থেকে ৭টা পর্যন্ত । শাখার শীর্ষে সবুজ মেশানো সাদা রংয়ে থোকায় থোকায় ক্ষুদ্রাকৃতি ফুল ফোঁটেছে। লম্বা লম্বা সরু ফল এক বৃন্তে দুটো করে ঝুলে আছে।
দেখতে দেখতে কেটে গেল অনেক বেলা। আমাদের নৌকা এসে থামল পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের কাছে।কংক্রিটের তৈরি বেশ উচু টাওয়ার৷ এখান থেকে শুধু রাতারগুল নয়, উত্তর-পূর্ব সীমান্তের নয়নাভিরাম পর্বত শ্রেণী ও ঝরণা ধারার দৃশ্য অবলোকন করা যায়। চমৎকার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশ! বিহবল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি আমরা। খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়, অসংখ্য ছোট বড় হাওর-নদী বিধৌত অপূর্ব শোভায় শোভিত এই জনপদ আর বন-জঙ্গলের মধ্যে নৌকা চড়ে বেড়ানোর অপরূপ দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। অনুপম প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক পরিবেশ দেখে মনে হয় সৃষ্টিকর্তা যেন নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছেন এটি। অদ্ভুত গাছ আর নানা জাতের পাখির মিশেলে রাতারগুল যেন একদম রুপকথার জগৎ।
টাওয়ারের কাছে কথা হলো রাজশাহী থেকে আশা মাহবুব মুর্শেদের সাথে। দলবেধে তারা এসেছেন দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট দেখার জন্যে।পরিচয় পর্ব সেরে মাহবুব বললেন, দেখেছি সুন্দরবন, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবন। কিন্তু এমন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জায়গাটি আগে দেখিনি।এটা জানা ছিলনা। সম্প্রতি কিছু লেখালেখি হচ্ছে। তাই দেখতে এলাম। না এলে এমনটা বুঝতে পারতাম না। সরকারের উচিত রাতারগুলকে বিদেশিদের উপযোগী করে পর্যটনের সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা। সাথে থাকা সুন্দরী জ্যোৎস্না বেগম সায় দিলেন। আর আফসানা বললেন, একেবারে বাংলার আমাজন। বিশ্বময় তুলে ধরা উচিত।
মৌলবী বাজার থেকে আসা হামিদ রহমান জানালেন, বাড়ির কাছে আরশি নগর, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া। আর সম্ভবত একারণেই কবিগুরু বলেছেন, বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে দেখিতে গিয়েছি পর্বত মালা, দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশির বিন্দু।
Ratargul Swamp Forest3পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাঝখানে দেখা মিললো সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সাথে। অনেক দিন পর এমন একটি স্মৃতিময় জায়গাতে তাকে পেয়ে ভীষন ভালো লাগল। টাওয়ারের একেবারে উপরে নিয়ে গেলাম। রাতারগুল নিয়ে তার ভাবনা, সরকারী পরীকল্পনা, বিপুল সংখ্যক মানুষের পদচারনায় উদ্ভিদরাজির ক্ষয়ক্ষতির আশংকা ইত্যাদি বিষয়ে অনেক কথা হল। সেখানে দেখা হল তার নিজ এলাকা থেকে আসা একঝাক তরুণের সাথে। তাকে পেয়ে তারাও বেশ খুশি হল।
সময় দ্রুত এগুচ্ছে। টওয়ার থেকে নেমে আবারো নৌকা চড়লাম। পড়ন্ত বেলা। চারিদিকে সবুজের বিশাল সমারোহ। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছেয়ে আছে নানা ধরণের পাহাড়ি লতাপাতা ও গাছগাছালিতে। পিঠালি, গুটিজাম, কদম, করচ, বরুণ আরো কত কি!
অদ্ভুত সুন্দর ও দুর্লভ সব উদ্ভিদরাজির সমারোহ নিয়ে বয়ে চলা খাল-বিল। সারি সারি কদম গাছ চোখে পড়ল। রূপসী তরুর মধ্যে কদম আমার প্রিয় পছন্দ। কদমের কাণ্ড সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ, কর্কশ। শাখা অজস্র এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতাগুলো বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। পূর্ণ প্রস্ফুটিত মঞ্জরির রঙ সাদা-হলুদে মেশানো হলেও হলুদ-সাদার আধিক্যে প্রচ্ছন্ন। বেশ কটি বাদুড় ও কাঠ বিড়ালির মিশে আছে কদমগাছ ঘিরে।
এরই মাঝে ঝোপঝাড় থেকে বেরিয়ে এলো এক ঝাঁক সাদা বক। খালের পার ঘেঁষা কাশবন আর আকাশে শুভ্র তুলোর মতন মেঘ মিলেমিশে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব দৃশ্য! দূর থেকে একটি বাজপাখি ওড়তে দেখে এদিক ওদিক ছুটলো আরো কটি মাছরাঙ্গা, পানকৌড়ি ও বালিহাঁস। মনে হয় এরা শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ও জলজ পোকামাকড় খেতে ব্যস্ত।
ফিরতে চাই নতুন পথ দিয়ে। আর দেরী করা যাবেনা। দ্রুত ছুটে চললাম গোয়াইনঘাটের রাস্তা ধরে। চিকনাগুল হয়ে আসছি।বাতাসে চায়ের ঘ্রান অনূভব করলাম। চারিদিকে সুবজ আর সবুজ। হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাড়ি দিয়ে সুরমা গেইট হয়ে আবারো ফিরে এলাম এক্সেলসিয়র সিলেট হোটেল এন্ড রিসোর্টে।
এক্সেলসিয়রে এসে দেখা হল আরো কিছু বন্ধুদের সাথে। আমেরিকা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন তারা। দুপুরের খাবার এখনো হয়নি। তবুও তাদের নিয়ে গেলাম সুইমিংপুলে। শিশুরা সাতার কাটবে।তাদের লাইফজ্যাকেট দেয়া হল।সবার ছোট্টটি আগে নেমে যেতে চায়। বেশ মজা হল তাকে নিয়ে। অদুরে একটি বানর লাফালাফি করছে। কয়েকজন ছুটে গেল বানরের ছবি নেবে। এদের নিয়ে গেলাম পাখি ও হরিণের অভয়ারণ্যে। সুনসান নিরবতা। চারিদিকে যেন গাছপালার মাঝে পশু পাখির আবহ সঙ্গীতের মুর্চ্ছনা! এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করে বন্ধু মুহিত বললেন, এখানে কোন বায়ু দুষণ নেই, শব্দ দুষণ নেই। আমি এখানে থেকে যেতে চাই। কথা শেষ হতে না হতেই হাজির হলেন বিলেত প্রবাসী মানচেষ্টারের লায়েকুর রহমান। তার মেয়র বিয়ে তেইশ ডিসেম্বর।ব্যাংকুয়েটিং হলে নয়, একেবারে খোলা মাঠে।প্যান্ডেল বেধে সাজাতে চান।নান্দনিকতার নানা দিক নিয়ে কথা হলো অনেক্ষণ।
প্রচন্ড ক্ষিদে অনুভব করছি।উচু টিলায় হিলভিউ রেষ্টেুরেন্টে খাবারের আয়োজন। মধুমালতি থেকে জীবন ও ক্যামেলিয়া থেকে মেহদি এগিয়ে এলো। টেবিলে বাহারি খাদ্য সাজিয়ে রেখেছে কাশেম।এরই মাঝে ফারুক এসেছেন কয়েকজন দর্শনার্থী নিয়ে।খাবারে আবারো ছন্দপতন।বড় বড় গ্লাসের উইন্ডো দিয়ে হরিণের ছুটাছুটি দেখে অপলক নেত্রে চেয়ে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করলাম কেমন লাগছে? উত্তর দিলেন, বর্ণমালায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এত বিশাল পরিসর আর সৌর্ন্দয্য অন্য কোথাও আছে কিনা জানা নেই।
খাবার শেষে সবাই ছুটলেন বিলয়ার্ড রুমে। টেনিস আর পুল খেলছেন দু’ভাগ হয়ে।হঠা্ৎ এলেন মার্কেটিং ডাইরেক্টর আহমদ আলী।সাথে ঢাকার এক বন্ধু। ফেব্রুয়ারিতে আবারো আসতে চান দলবল নিয়ে।তাৎক্ষনিক পরীকল্পনা সাজানো হল তার সাথে। দুটি কাঠবিড়ালী হাটছে মহুয়া কন্ফারেন্স হলের সামন দিয়ে। একটি শিশু এগিয়ে গেল ওদিকে। এমনি কাঠ বিড়ালী ছুটে পালাল।এ দৃশ্যে মুগ্ধ হলেন অনেকে।
পড়ন্ত বেলার সূর্যের সর্বাঙ্গে মালদহি আমের মতো রং ধরেছে।আমরা ছুটে গেলাম বাঘের টিলায়।যেখানে দাড়িয়ে সুনীল আকাশ আর গাঢ় সবুজ পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য আর শিল্পীর তুলিতে আঁকা মখমলের মত চা বাগানের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়। যে দৃশ্য পর্যটকদের টেনে আনে বার বার।
কী সুন্দর রূপ! কবি ঠিকই বলেছেন ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি’।

    Print       Email

You might also like...

6afed405318d4219e5ce1f58be1a4401-5a1580a4a4885

২৭ নভেম্বর লন্ডনে কারি শিল্পের ‘অস্কার’

Read More →