Loading...
You are here:  Home  >  ক্রীড়া  >  Current Article

এবার বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাবে মুসলিম দেশগুলো

317859_12

রাশিয়ার বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে আগামী ১৪ জুন। ২১তম আসরে ৩২টি দল অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে সাতটি মুসলিম দেশ। এই দেশগুলো হলো মিসর, সৌদি আরব, ইরান, মরক্কো, নাইজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও সেনেগাল। এই দলগুলোতে আছে বর্তমান বিশ্বকাঁপানো বেশ কয়েকজন ফুটবলার।

মিসর : গ্রুপ-এ’তে আছে মিসর। সর্বপ্রথম তারা বিশ্বকাপ খেলে১৯৩৪ সালে। এরপর সুযোগ আসে ১৯৯০ সালে। সর্বশেষ ২৮ বছর পর সুযোগ এবার সুযোগ মিললো রাশিয়া বিশ্বকাপে। সে সুযোগটি এসেছে বর্তমান ফুটবল বিশ্ব কাঁপানো সুপারস্টার মোহাম্মদ সালাহর কল্যানে। শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে দীর্ঘ ২৮ বছর পর সময় পর বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।

সালাহ ছাড়াও মিসরে আছেন সাঈদ, আহমদ হাসান ও মাহমুদের মতো ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাবে তারা। সালাহ’র উপস্থিতিতে যে কোনো অঘটনও ঘটাতে পারে মিসর- এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে প্রতিপক্ষরা। বর্তমানে দলটির কোচের দায়িত্বে আছেন হেক্টর কুপার। ভ্যালেন্সিয়া, ইন্টার মিলান, রিয়াল বেতিসের মতো ক্লাবের কোচ ছিলেন তিনি।

সৌদি আরব : মিসরের সাথে একই গ্রুপে আছে সৌদি আরব। ১২ বছর পর এবারের আসরে ফিরে এসেছে তারা। বিশ্বকাপে ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি। সর্বশেষ দুটি বিশ্বকাপ ছাড়াও বেশ কয়েকটি আসরে অংশ নিতে পারেনি তারা। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম অভিষেক হয় দেশটির। প্রথমবারই চমক দেখায় তারা। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে নাম লেখায় সৌদি আরব। পরে সুইডেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় আসর ধেকে। এরপর টানা তিনটি (১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬) বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিতে পারেনি তারা। খেলতে পারেনি ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতিও। অবশেষে দীর্ঘ এক যুগ পর জাপানকে ১-০ হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পায় সৌদি আরব।বর্তমানে দলটির বেশ কিছু ফুটবলার আছেন যারা বিশ্বকাপে জ্বলে উঠতে পারেন। এরা হলেন তাইসির আল জাসিম, মুহান্নাদ, নওয়াফ, ফাহাদ আল মুয়াল্লাদ, ইব্রাহিম মোহাম্মদ, নাসের আল সামরানি, ওসামা ও নায়েফ হাজী।

ইরান : গ্রুপ-বি’তে আছে ইরান। বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক হয় ১৯৭৮ সালে। তবে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচেও ভালো করতে পারেনি তারা এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে ইরান। ১৯৭৮, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৮। তবে একমাত্র ১৯৯৮ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচেই যুগোস্লাভিয়াকে হারিয়েছিল তারা। এরপর আরে কোনো আসরে জয়ের মুখ দেখতে পারেনি তারা। বর্তমান দলে নতুন-পুরনো মিলে বেশ কিছু ফুটবলার রয়েছে ইরানের। সর্দার আজমুন ও মেহদি তারেমি, আসকান দেজাঘার মতো বাঘা বাঘা তারকারা ইরানের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। দলটির কোচের দায়িত্বে আছেন কার্লোস কুইরোজ। রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও কোচিং করান এই পর্তুগীজ। ধারণা করা হচ্ছে, সফল এই কোচের অধীনে এবার বিশ্বকাপের আসরে চমক সৃষ্টি করবে ইরান।

মরক্কো : ইরানের সাথে একই গ্রুপে আছে মরক্কো। ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তাদের। সেই থেকে শুরু। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চমক লাগিয়ে দেয় আফ্রিকার এ দেশটি। ইংল্যান্ড, পোল্যান্ডের মতো দলকে ধরা খাইয়ে দেয় তার। দুই দলের বিপক্ষেই গোলশূন্য ড্র করে মরক্কো। এখানেই শেষ নয় পর্তুগালকে ৩-২ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ‘এফ’ গ্রুপ থেকে নেদারল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে মরক্কো। ১৯৯৮’র ফ্রান্স বিশ্বকাপে খেলে দলটি। সে বছর গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে একটি জয়, একটি হার আর একটি ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় মরক্কোকে। এরপর টানা চার বিশ্বকাপে সুযোগ পায়নি তারা। দুই দশক পর আবারো বিশ্বকাপে পা রাখতে যাচ্ছে মরক্কো। এই সময় বেশ কিছু প্রতিভাধর খেলোয়াড় জোগাড় করেছে দেশটি। মেহেদি বেনাটিয়া, উইঙ্গার নাবিল দিরার, আশরাফ লাজার, ইউসেফ আল আরাবি, হামিদ, ওমর আল কাদুরি ও নরদিন আমারবাতের মতো ফুটবলাররা এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে দলটির কোচিংয়ের দায়িত্বে আছেন সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার হেরভে রেনার্ডকে।

নাইজেরিয়া : গ্রুপ-ডি’তে আছে নাইজেরিয়া। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পেয়েই সবাইকে চমকে দিয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি। পরেরবারও নকআউট পর্ব থেকে বাদ পড়ে। তবে প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে হারায় তারা। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বুলগেরিয়াকে। তবে শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সাথে আর জিততে পারেনি। নকআউট পর্বে ডেনমার্কের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। এরপর ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব পার করেই বিদায় নেয় তারা। বর্তমানে নাইজেরিয়ার জাতীয় দলে আছেন বিশ্বের অন্যতম নামকরা গোলরক্ষক ভিনসেন্ট এনইয়ামা। তিনি ছাড়াও দলটিতে আছেন জন ওবি মিকেল, জোয়েল ওবি’র মতো নামকরা ফুটবলাররা। দলটির কোচিংয়ের দায়িত্বে আছেন জার্মান কোচ গেরনট রোহর। দেশ-বিদেশের বহু ক্লাবে কোচিং করান তিনি। তার কোচিংয়ের কল্যানেই রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকেট হাতে পেয়েছে নাইজেরিয়া।

তিউনিসিয়া : গ্রুপ-জি’তে আছে তিউনিসিয়া। পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ আসরে সুযোগ পেয়েছে তারা। এর আগে ১৯৭৮, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। কিন্তু কখনোই গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছিল তারা- এটাই এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। দলটির নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ওয়াবি কাজরি, আনিস বিন হাতিরা, আইমেন আব্দেননুর ও আহমেদ আকাইসি। তাদের কোচ হিসেবে আছেন নাবিল মালুল। পোলিশ কোচ হেনরিক ক্যাসপার্সজাকের চেয়ারে বসানো হয় নাবিলকে।

সেনেগাল : গ্রুপ-এইচ’এ আছে সেনেগাল। ২০০২ সালে সর্বপ্রথম বিশ্বকাপে সুযোগ পায় তারা। সেবার গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেয় তারা। পরের দুই ম্যাচে ডেনমার্ক, উরুগুয়ের সাথে ড্র করে চলে যায় নকআউট পর্বে। যেখানে সুইডেনকে ২-১ হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে চলে যায় সেনেগাল। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট পায় দলটি। বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার আছেন। এরা হলেন মৌসা সো, পেপে কন্তে, ম্যামে বিরাম ডিউফ ও সাদিও মান। বিশ্বকাপে তারা প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। দলটির কোচের দায়িত্বে আছেন সাবেক অধিনায়ক আলিও সিসেই। ২০১৫ সালের পর থেকে সেনেগালকে কোচিং করাচ্ছেন তিনি।

    Print       Email

You might also like...

25709BC4-5340-457E-8BCC-9A009962E559

সৌদি আরবের নেতৃত্বে নতুন ফুটবল ফেডারেশনে বাংলাদেশ ও ভারত

Read More →