Loading...
You are here:  Home  >  সাহিত্য  >  Current Article

কবি ওমর আলীর জীবন ও সাহিত্য

6FE465FA-0609-464E-AE08-508A0B3432E8

আজাদ এহতেশাম : পৃথিবীতে সব মানুষের জন্ম সার্থক হয় না, সব মানুষকে মানুষ মনেও রাখে না কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু কিছু মানুষের জন্ম হয় তাঁদের মানুষ চিরদিন হৃদয়ে স্থান দিয়ে লালন করে যুগ যুগ ধরে। তাঁদের কৃতকর্মের কারণে মানুষ তাঁদের মনে রাখে। তাঁরা শুধু দিয়েই যায় বিনিময়ে গ্রহণের মানসিকতা তাঁদের থাকে না। কবি ওমর আলী তাঁদেরই অগ্রগণ্য একজন নিভৃতচারী মানুষ। লোক সমাগমে, বৈঠকী বাগাড়ম্বরে তিনি একেবারেই ধাত নন। বলা চলে অনেকটাই লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা একজন অত্যন্ত সাদামাটা মানুষ। গ্রামীণ খেটে খাওয়া কৃষক পরিবারের সন্তান, গ্রাম বাংলার পল্লি প্রকৃতির মতোই উদার ও সহজ-সরল একজন মানুষ তিনি। তাঁর রচিত বিশাল কাব্যভূমে তিনটি অনুষঙ্গ পাঠক সমালোচকের দৃষ্টিনিবদ্ধ করে (ক) গ্রামীণ প্রকৃতির শৈল্পিক উপ¯’াপনা, (খ) প্রেম ও রোমান্টিকতা যার ভিত্তিমূলে মুখ্য নারী এবং (গ) স্বদেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের স্বরূপ ও সৌন্দর্যের উদ্ভাসন। ষাটের দশকে যে কজন হাতেগোনা কবির লেখনি আধুনিক বাংলা কবিতায় যে নতুন যাত্রার সূত্রপাত ঘটেছিল যুগ ও কাল সচেতন কবি ওমর আলী সে ধারারই পুরিপুষ্টি সাধনে উত্তরসূরী কবিদের সাথে অন্বিষ্ট হয়েছিলেন সচেতনভাবেই। এ সময়ের কবিদের বিষয় ভাবনার বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হলেও কবি ওমর আলীর কাব্য খুব একটি বিচিত্রগামী পরিলক্ষিত হয় না। ঘুরে ফিরে প্রেম ও রোমান্টিকতা, প্রকৃতি ও নিসর্গপ্রীতি, সৌন্দর্য চেতনা তার কবিতায় মায়াবী রূপ লাভ করেছে। এ অর্থে তাকে রোমান্টিক প্রেমের কবি বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত। তীব্র প্রেম চেতনা ও প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্যের বর্ণনা আছে তার বেশিরভাগ কবিতার পঙক্তি পঙক্তিতে।

কবি ওমর আলীর জন্ম ১৯৩৯ সালের ২০ শে অক্টোবর, পাবনা সদর থানার চরশিবরামপুর গ্রামে। পাবনা শহরের দক্ষিণ পাশে মাতুলালয়ে। তাঁর পিতার নাম মোঃ উজির আলী এবং মাতার নাম আহ্লাদী খাতুন। তাঁর দাদার নাম মালই প্রামানিক এবং দাদির নাম লোলা বেগম। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পদ্মা নদীর উত্তর পাড়ের ঘনবৃক্ষ ও লতাপাতায় ছেয়ে থাকা গ্রাম চরঘোষপুর। এখানেই তিনি পল্লি প্রকৃতির সান্নিধ্যে পাল্লা দিয়ে বড় হয়েছেন। বন্ধুবান্ধব সমবয়সী তাদের সাথে হৈ হুল্লোর করে, ঘুড়ি ও লাটাই হাতে পদ্মার নিরব”িছন্ন বৈকালিক বাতাসে এবং নদী ও খাল মেঠো পুকুরে খালুই হাতে মাছ ধরে বেড়িয়েছেন। এহেন কর্ম তাঁর নিত্যদিনের। পিতার চোখরাঙানি, পরিবারের বড়দের নিষেধ কখনো তাঁর কাজে বাঁধা হয়ে উঠেনি। অবশ্য মায়ের মমতা ও আদর তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। শিশুবয়সে অথাৎ হাঁটতে শেখার পরপরই তিনি মাতৃহারা হন। এ কারণে মায়ের মুখায়ব কখনো মনে করতে পারেননি। কৈশরে তিনি মায়ের অনুপস্থিতি তীব্রভাবে অনুভব করেছিলেন যা তাঁকে অত্যন্ত ব্যথিত করত। পরে তিনি মাতৃসম আপন খালা জামেনা খাতুনের কাছে নিজ সন্তানের মতো পালিত হতে থাকেন। ¯েœহ মায়া মমতা ও ভালোবাসায় খালা তাঁকে মায়ের অভাব কোনদিন বুঝতে দেননি। কবি মা বলতে খালা জামেনা খাতুনকেই বুঝেছিলেন। বাবা উজির আলী পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কবির দ্বিতীয় মায়ের নাম ছিল নবীরন নেসা।

কবি ওমর আলীর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় পাবনা জেলার চরচাঁদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কত সালে তিনি এ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তার সন তারিখ জানা যায়নি। পরে এ বিদ্যালয় ছেড়ে চর ঘোষপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। এ বিদ্যালয়ে তিনি পড়ালেখা করেছিলেন ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত। তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে আসেন পাবনা শহরে এবং ভর্তি হন পাবনা জজকোর্ট সংলগ্ন গোপাল চন্দ্র ইন্সটিটিউশনে পঞ্চম শ্রেণিতে ১৯৪৯ সালে। এই বিদ্যালয়ে তিনি ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন প্রত্যেকটি পরীক্ষাতে ভালো রেজাল্ট করেন। এর পরে এ স্কুল থেকে তিনি ঢাকায় চলে যান। পুরাতন ঢাকার সদরঘাট এলাকার পগোজ হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে ভর্তি হন। স্কুলটি পুরনো এবং খুবই নামকরা স্কুল। কড়া নিয়ম কানুনের স্কুল। শিক্ষার্থীদেরর কড়া শাসনে রাখতেন শিক্ষকেরা। অল্প দিনেই তাঁর মন উঠে গেল এ স্কুল থেকে। কারণ ধরা বাঁধা শাসন নিয়ম রীতি তাঁর স্বভাব বিরুদ্ধ। তাই ঐ স্কুল ছেড়ে ঐ বছরই ভর্তি হন আরমানীটোলার হাম্মাদিয়া হাই স্কুলে। এ স্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা (বর্তমান এস.এস.সি.) পাস করেন ১৯৫৫ সালে। পরে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন লক্ষ্মীবাজারের সোহরাওয়ার্দী কলেজে (পূর্বে কলেজটির নাম ছিল কায়েদে আজম কলেজ)। এ কলেজ থেকে তিনি আই.এ. পাস করেন ১৯৬২ সাল্ েএর পরে ঢাকা থেকে তিনি ফিরে আসেন নিজ শহর পাবনাতে এবং বি.এ. পাশ কোর্সে ভর্তি হন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে। এ কলেজ থেকে তিনি বি.এ .পাস করেন ১৯৬৫ সালে এবং পরে তিনি এম.এ .পূর্বভাগে (প্রিভিয়াস) ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৬ সালে তিনি এম.এ. পূর্বভাগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি বাংলা সাহিত্যে এম.এ. শ্রেণিতে ভর্তি না হয়ে ইংরেজিতে পূর্বভাগে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭০ সালে তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ. পাস করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবার বাংলা সাহিত্যে এম.এ. পাস করেন।

পৈতৃক নিবাস ঘোষপুরের নিকটবর্তী চরসাদিপুর গ্রামে। উ”চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় কবি ওমর আলী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৫৬ সালে। পারিবারিক মতামতের ভিত্তিতেই পার্শ্ববর্তী কোমরপুর গ্রামের কেরামত আলী প্রামানিকের প্রথমা কন্যা সহিদা খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের কয়েক বছর পরে তিনি তাঁর পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে কোমরপুর শ্বশুরালয়ের পূর্ব পাশে জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন। শৈশবে মাতৃহীন কবি সৎ ভাইদের সাথে পিতৃভিটায় বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি। এদিকে শ্বশুরবাড়ি এবং তদীয় আত্মীয় স্বজনদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি কোমরপুরই বাড়ি বানিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই বাস করতে থাকেন। বিয়ের পরেও তাঁর পড়ালেখার উৎসাহে ভাটা পড়েনি। শৈশবে মাতৃহীন কবি দুঃখ ও দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকেন। সর্বো”চ ডিগ্রি এম.এ. বাংলা এবং ইংরেজিতে অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। আর এ ব্যাপারে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছায়ার মতো পাশে থেকে সার্বক্ষণিক সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিলেন। বিবাহিত জীবনে তিনি তিন ছেলে ও চার মেয়ের জনক। সন্তানদের তিনি উ”চশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষ করে গড়ে তুলতে না পারলেও তাঁদের তিনি অশিক্ষিত রাখেননি। চেষ্টা করেছেন উ”চশিক্ষিত করতে। মেয়েদের উ”চশিক্ষায় দারিদ্র্য তার বড় বাঁধা ছিল। গ্রামের পরিবেশে অত্যন্ত সাদামাটাভাবেই সন্তানদের লালন পালন করেছেন। সামান্য বেতনের চাকরিতে সাত সন্তানের সব চাহিদা পূরণ করা একেবারেই সম্ভব ছিল না। তবু সাধ্যমতো চাকরির পাশাপাশি ছাত্র পড়িয়ে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করেছেন। সাধ্যমতো তাদের বিয়ে সাদীও দিয়েছেন। দুর্ভাগ্য বড় মেয়েকে তিনি বিয়ে দিয়েছিলেন জামাইকে চাকরি দেবেন এই শর্তে। পরে সে শর্ত পূরণ করতে পারেননি বলেজামাই মেয়েকে ফেলে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছে।

তিন ছেলে (১) মো: শফি আনোয়ার আলী (এইচ.এস.সি.) (অফিস সহকারী, সরকারি শহিদ বুলবুল কলেজ, পাবনা); (২) মোঃ রফি মনোয়ার আলী ইংরেজিতে এম.এ. (সহকারী অধ্যাপক, পাবনা কলেজ, পাবনা); (৩) মোঃ মফিজ সরোয়ার আলী (এইচ.এস.সি.) (অফিস সহকারী, সরকারি শহিদ বুলবুল কলেজ, পাবনা)। চার মেয়ে, (১) মোছাঃ ফিরোজা বেগম, (২) মোছাঃ আফরোজা বেগম, (৩) মোছাঃ মাহফুজা খাতুন (এস.এস.সি.), (৪) মোছাঃ মাহমুদা বেগম (এইচ,এস.সি.)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ. শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন কিছুদিন তিনি সংবাদপত্রের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি ‘দৈনিক সংবাদ’ এর বার্তা বিভাগে সাব এডিটর পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পত্রিকার কাজ ছেড়ে পাবনাতে চলে আসেন। স্থায়ীভাবে চাকুরি জীবনের শুরুতে তিনি মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন বগুড়ার নন্দিগ্রাম থানার নন্দিগ্রাম কলেজে ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে। ১৯৭০ সাল্ েঐ বছরই ঐ কলেজ ত্যাগ করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা কলেজে যোগদান করেন। এ কলেজে তিনি ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাকরি করেন। ১৯৭৮ সালের তিনি পাবনা শহীদ বুলবুল কলেজে ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯১ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। সিরাজগঞ্জ সরকারি ইসলামিয়া কলেজে কিছুদিন তিনি অধ্যাপনা করেন। সর্বশেষ পাবনা সরকারি বুলবুল কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসে তিনি চূড়ান্তভাবে অবসর গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি আর্থিক প্রয়োজনে সরকারি শহিদ বুলবুল কলেজের উত্তর পাশে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে টিউশনি করতে থাকেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ অসু¯’ হওয়ার আগ পর্যন্ত কবি সেখানে বসেই ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতেন। এতে অবসর জীবনে শিক্ষার্থী সংস্পর্শে একদিকে তাঁর নিঃসঙ্গতা দূর হতো অন্যদিকে কিছু অর্থও উপার্জন হতো যা দিয়ে অবসর জীবনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ পেতেন।

পদ্মার কূল ঘেষা চরঘোষপুর ও চর শিবরামপুর গ্রাম। বৃক্ষলতা শোভিত এ গ্রামের নিসর্গপ্রকৃতি কবি ওমর আলীর কাব্য সৃষ্টির প্রেরণা হয়েছিল একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সাথে সাথে একথা বলাও যুক্তিযুক্ত যে শৈশবে মাতৃহীন হওয়ায় নিঃসঙ্গ ও বেদনার্ত কবি হৃদয় কাব্য সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়েছিল্। প্রায়ই তিনি একা থাকতেন এবং নিঃসঙ্গ বোধ করতেন। তাছাড়া গ্রামের অগ্রজদের কাছে থেকে রূপকথার গল্প ছড়া, ভূত-প্রেতের গল্প ও দুঃসাহসিক কাহিনী শুনে শুনে তাঁর ভিতরে একটা কিছু লেখার তাগিদ জন্মেছিল। তিনি পাঁচ ছয় বছর বয়সেই মুখে মুখে ছড়া বলতেন এবং দশ বছরে হাতে কলমে কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ৪০টি। দুটি কিশোর উপন্যাস বাকি ৩৮টি কাব্যগ্রন্থ’।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি’। গ্রন্থটি প্রকাশিত হলে সাহিত্যবোদ্ধা মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। গ্রামীণ প্রকৃতি ও আবহমান বাঙালি নারীর নিটোল সৌন্দর্য ও রূপ এ কাব্যে যেভাবে বিধৃত হয়েছে তা কাব্যবোদ্ধাদের বিস্মিত না করে পারে না। কবি আসনের স্বীকৃতিতে তাঁর এ একটি কাব্যই যথেষ্ট। পরপর বইটির চতুর্থ সংস্করণ সে কথাই প্রমাণ করে। এরপরে আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিয়মিত লিখেছেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীতে। পশ্চিম বাংলার বেশ কয়টি পত্র পত্রিকায়ও তাঁর লেখা ছাপা হতো। নিভৃতচারী, নির্লোভ এবং নিরহংকারী এ মানুষটি নীরবে সাহিত্যচর্চা করে গেছেন নিরলসভাবে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার নিরলস ব্যক্তিত্ব কবি ওমর আলী বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সাথে ও জড়িত ছিলেন।

কবি ওমর আলীর গ্রন্থগুলো হলো :-k
এদেশের শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি (১৯৬৫), অরণ্যে একটি লোক (১৯৬৬), আত্মার দিকে (১৯৬৭), সোনালী বিকেল (১৯৬৫), নদী জুলাই (১৯৬৯), নরকে বা স্বর্গে (১৯৭৫), বিয়েতে অনিচ্ছুক একজন (১৯৭৫), প্রস্তর যুগ তা¤্রযুগ (১৯৭৪), ¯’ায়ী দুর্ভিক্ষ সম্ভাব্য প্লাবণ (১৯৭৫), তে মাথার শেষে নদী (১৯৭৪), নিঃশব্দ বাড়ী (১৯৭৩), কিছুদিন (১৯৮০), ডাকছে সংসার (১৯৮৫), যে তুমি আড়ালে (১৯৮৭), ফুল পাখিদের দেশ (১৯৯৫), ফেরার সময় (১৩৯৬ বাং), স্বদেশে ফিরছি (১৯৭৯), একটি গোলাপ (১৯৯০), লুবনা বেগম (১৯৯৩), প্রসারিত করতল (১৯৯২), ছবি (১৯৯০), শুধু তোমাকে ভালোলাগে (১৯৯৪), তোমাকে দেখলেই (১৯৯৫), ভালোবাসার দিকে (১৯৯১), এখনো তাঁকিয়ে আছি (১৯৮৭), ভালোবাসার প্রদীপ (১৯৯৬), হৃদয় ছুঁয়ে আছে ঝড় (১৯৯৮), গ্রামে ফিরে যাই (১৯৯৮), আমার ভেতরে খুব ভাঙচুর হ”েছ (২০০১), শ্রেষ্ঠ কবিতা (২০০২), তোমাকে দেখতে ই”েছ হয় (২০০৩), রুদ্ধ নিঃশ্বাসে ছিলাম নয় মাস (২০০৪), উড়ন্ত নারীর হাসি (২০০৪), কুমারী (২০০৮), জ্যোৎ¯œা অমিতা (২০০৯), মৌমিতা মুক্ত (২০১০), সাদা ফুল সাদা আগুন (২০১২)।

তাঁর প্রকাশিত দুইটি উপন্যাস হলো : কুতুবপুরের হাসনাহেনা (১৯৮২), খান ম্যানসনের মেয়ে (১৯৬২)।

পুরস্কার ও সম্মাননা যে শ্রেষ্ঠ লেখক-সাহিত্যিকের স্বীকৃতি- একথা কোন মতেই গ্রহণযোগ্র নয়। বিশ্বের বহু খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিক আছেন তাঁদের গায়ে পুরস্কারে তকমা লাগেনি কিন্তু তাঁদের অবদান বিস্ময়কর। পদক, পুরস্কার ও সম্মাননা যেটাই হোক তা প্রাপ্তির নেশায় ব্যক্তিগত দৌঁড়ঝাঁপ ও সহায়ক গুণাবলি হিসেবেই আজকাল স্বীকৃত। কবি ওমর আলী এক্ষেত্রে একেবারেই বিপরীতমুখী। পুরস্কারের জন্য কখনো মুখিয়ে থাকেননি। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা নিভৃতচারী এ কবি একনিষ্ঠ চিত্তে সাহিত্যচর্চায় নিজেকে নিমগ্ন রেখেছেন। ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য ‘এদেশের শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি’ প্রকাশিত হলে সাহিত্যযোদ্ধা সুধী মহলের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এই গ্রš’টির জন্যই তিনি ১৯৮১ সালে আধুনিক বাংলা কবিতায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। পরপর তিনি পেতে থাকেন বিভিন্ন পদক, স্মারক, সম্মাননা ও সংবর্ধনা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘কবি বন্দে আলী মিয়া পুরস্কার-১৯৮৮’, ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার-১৯৯০’, ‘আবুল মনসুর পুরস্কার-১৯৯৩’, ‘ফোল্ডার স্মরিণকা রজতজয়ন্তী উৎসব গুণিজন সম্মাননা-২০০৫’, ‘একুশে বইমেলা পদক-২০০৯’, ‘কবিতা সংসদ সাহিত্য পদক-২০১১’, ‘রাজশাহী গুণিজন সম্মাননা-২০১২’, ‘অরুণিমা সাহিত্য সম্মাননা স্মারক- ২০১২’, ‘পাবনা গুণিজন সম্মাননা-২০১৩’, ‘পাবনা ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০১৩’, ‘আজীবন সম্মাননা পদক-১৪১৬,’ ‘পাবনা গুণিজন সম্মাননা-২০১৪’ ইত্যাদি।

    Print       Email

You might also like...

ABD0E478-13C2-431E-AA32-C31BF203733D

নজরুল ও জসীমউদ্দীন

Read More →