Loading...
You are here:  Home  >  আমেরিকা  >  Current Article

কৃতিমান সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের সাথে সুহৃদ আড্ডা

mahbub usa1

সাঈদ চৌধুরী: সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সাথে সুহৃদ আড্ডা ছিল খুবই প্রাণবন্ত।

সাহিত্য-সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে সমসাময়িক প্রসঙ্গ এবং প্রবাসে বাংলাদেশী রাজনীতি সব কিছই ছিল আড্ডার উপাদান। সিরিয়াস এবং হালকা বিষয় সবই আলোচিত হয় ১৫ মে মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাবের সহচরদের সতেজ আসরে।

DABEA53A-F93D-497C-B781-9939A7B5125F

মন্ত্রমুগ্ধের মত ঘন্টা দুয়েক কেটে যায়, ভাবতে পারিনি। দার্শনিক দেওয়ান আজরফের কাছ থেকে সৈয়দ মুজতবা আলীর সাহিত্য আড্ডার বর্ণনা মনে পড়ে। তবে মান্নাদে’র জনপ্রিয় গান ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ এমনটি ভাবতে হয়নি।

সুহৃদ আড্ডার সূচনাতে সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমেরিকা থেকে কম সময়ের জন্য দেশে আসা আমাদের সাবেক সাধারণ সম্পাদককে তেমন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নিয়ে এসেছি। সভাপতি ইকরামুল কবির সীমিত আয়োজনকে তাৎক্ষনিক উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে কিছু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান আড্ডা প্রসঙ্গ দিয়েই কথা শুরু করলেন। তার মতে প্রেসক্লাবের আড্ডা হল সাংবাদিকতা চর্চার সুতিকাগার। বার্ধক্য এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রথমে কিছুটা দূর্বল মনে হলেও সময় যতই গড়িয়ে যেতে থাকে ততই সপ্রতিভ মনে হয় তাকে। তিনি মনের জোর বা দৃঢ়তা নিয়ে বললেন প্রেসক্লাব আমার নিজস্ব ঠিকানা। আমি এখানে বার বার ফিরে আসতে চাই।

আড্ডায় আনুষ্ঠানিকতার বাগাড়ম্বর ছিল না। উপস্থিত সকল সাংবাদিক কথা বলেছেন, প্রশ্নও করেছেন। মাহবুবুর রহমানও প্রাণ খুলে স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি কথা বলেন সাবলীল ভাবে। তবে নীতিগত ইস্যুতে নিজের অটল অবস্থানের কথা প্রকাশ পেয়েছে।

পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মাহবুবুর রহমান বলেন, সাংবাদিকতায় নৈতিকতার শিক্ষা নিয়েছিলাম যুগভেরী সম্পাদক আমিনুর রশীদ চৌধুরীর কাছ থেকে। প্রচন্ড সাহসী ও প্রখর মেধাবী ব্যক্তিত্ব আমিনুর রশীদ আমাকে বলেছিলেন, সাংবাদিকতায় সৎ সাহস দরকার। একাজে জেল-জুলুম নিত্যসঙ্গী। সত্যের সাথে আপস করা যাবে না। সেখান থেকেই আমি অন্যায়ের সাথে আপস না করার শিক্ষা নিয়েছি।

মাহবুবুর রহমান ১টায় চলে যাবেন আরেকটি অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়িতে। অথচ সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে আড্ডা ততই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠছে। সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন মাহবুবুর রহমান তখনকার শিল্প-সাহিত্য আর সমসাময়িক ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে যখন বলছেন, তখন ঘড়িতে ২টার কাঁটা ছুঁই ছুঁই। একটি নির্মল ও নির্ভেজাল আনন্দ আসর ছেড়ে যেতে চাইছে না তার মন। তবুও যেতে হয়। সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট কিংবা আমেরিকায় তার হাত ধরে প্রেসক্লাব গড়ে ওঠা প্রসঙ্গে আরো কিছু জানবার স্পৄহা আমাদের রয়ে গেছে অফুরান।

আমরা জানি, জাতিসংঘের পরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান রোটারী ক্লাবের জন্ম হয়েছে আড্ডা থেকে। মার্কিন অ্যাটর্ণি পল পি. হ্যারিস ১৯০৫ সালে তিন বন্ধুর সাথে সপ্তাহান্তে আড্ডা দিতে দিতে সেবার মাধ্যমে বন্ধুত্ব সৃষ্টির প্রত্যয় নিয়ে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। উচ্চস্তরের পেশাগত মানদন্ড রক্ষা, সমাজ সেবা ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়ায় এ সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। সাপ্তাহিক আড্ডা থেকেই এসব করছে তারা। অবশ্য দার্শনিক সক্রেটিসের বিষয়টি এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি শিষ্যদের মাঝে আড্ডার ছলে নিজের দর্শন চিন্তা ছড়িয়ে দিতেন। মাহবুবুর রহমান সহচরদের মাঝে সেই চেতনাই জাগ্রত করেছেন।

কৃতিমান সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান সিলেটে সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। তার সাথে আমার পরিচয় আশির দশকে। সাহিত্য-সাংবাদিকতায় আমি যখন তরুন, তিনি তখন পূর্ণ যৌবন অতিক্রম করছেন। দেশের প্রাচীনতম যুগভেরী পত্রিকায় তিনি বার্তা প্রধান। সময়ের সাহসী কন্ঠ আমিনুর রশীদ চৌধুরীর মালিকানায় যুগভেরী তখন একটি শক্তিশালী সাপ্তাহিক।

সিলেটে সাংবাদিকতার প্রাণপুরুষ বোরহান উদ্দীন খান তখন প্রেসক্লাবের সভাপতি। আমি ছিলাম তার খুবই স্নেহ ভাজন। প্রায় প্রতিদিন ক্লাবে কিংবা বাসায় একবার দেখা হতো। খান চাচার মাধ্যমে প্রেসক্লাবে মাহবুব ভাইয়ের সাথে পরিচয়। এরপর একাধিকবার যুগভেরীতে গিয়েছি। পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে যা কিছু লক্ষণ, সবই তার মাঝে পরিলক্ষিত হয়েছে। সেদিন থেকেই তিনি আমার চোখে এক অনুকরণীয় সাংবাদিক।

যুগভেরীতে নিছক খবর প্রকাশ নয়, হৃদয় ছোঁয়া ভালবাসায় কাগজটাকে সুনিপুন ভাবে সাজিয়ে তোলা, বিষয়বস্তু ও শিরোনাম ঢ়েলে সাজানো- সবকিছুতে্ই তার পারদর্শিতা ছিল মুগ্ধ হবার মতো।

মাহবুবুর রহমান সিলেট থেকে দৈনিক সংবাদে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবেও কাজ করতেন। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ ও মেধাবি প্রতিবেদক। তার পাঠানো খবর খুবই গুরুত্ব সহকারে ছাপা হতো। তার লেখায়-সাংবাদিকতায় মানবিক মূল্যবোধ ছিল। সংখ্যার দিক থেকে না হলেও গুণগত মানের কারনে সংবাদ ছিল অগ্রসর পাঠকের দৈনিক।

১৯৮৯ সালে সপরিবারে আমেরিকায় চলে যান মাহবুবুর রহমান। অল্প দিনের মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানায় যুক্ত হন তিনি। শুরু হয় প্রবাসে সাংবাদিকতার এক নতুন দিগন্ত। কিছু দিন যেতে না যেতেই তার মনের গহণে একটি উন্নত সাপ্তাহিক প্রকাশের স্বাধ জাগে। সাংবাদিক আবু তাহের ও নিয়াজ মখদুমকে নিয়ে নিজের সম্পাদনায় বের করেন সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা। সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভাষা-সংস্কৃতি, স্বদেশ চিন্তা নিয়ে দূর প্রবাস থেকে এক ভিন্ন অবয়বে বহুদিন চালিয়েছেন এটি।

প্রবাসে আমাদের অধিকার আদায়ে শক্তিশালী প্রেসার গ্রুপ তৈরি করতে বহু প্রয়াস চালিয়েছেন মাহবুবুর রহমান। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তুলেছেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। সমাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহকেও একাজে তিনি অনুপ্রাণিত করেছেন।

মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্টতার ব্যাপারে ছিলেন অনড়, অবিচল। অন্যায়ের সাথে আপস না করার জন্য তিনি নতুন প্রজন্মের প্রেরাণার উৎস। যার অক্লান্ত পরিশ্রম দেশ-মাতৃকার কল্যাণের জন্য, আমাদের রিক্ত হৃদয় সিক্ত হয়েছে তার কর্মময় জীবনের বিজয় গাঁথা গল্পে।

mahbub usa ৭

এমন একটি মহতি আয়োজনের জন্য প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত সকলে। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালিক চৌধুরীকে নিয়ে সম্প্রতি একটি অসাধরন অনুষ্ঠান ও স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য। আরেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী কিংবা বার বার নির্বাচিত সভাপতি মুক্তাবিস-উন-নুর সহ আমাদের জীবন্ত কিংবদন্তিদের নিয়েও এরকম অনুষ্ঠান হওয়া উচিত।

    Print       Email

You might also like...

11-520x360

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: আলোচনায় ‘জামায়াত-বিএনপি বিরোধ’

Read More →