Loading...
You are here:  Home  >  ধর্ম-দর্শন  >  Current Article

চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোজা

মাকসুদুর রহমান মারুফ

রোজা একটি ইবাদত। ইবাদত- কোন ভয় বা জীবন-জগতের কোন দুঃসাধ্য সাধনের নাম নয়। বরং জীবন-জগতের সৃষ্টিকর্তা মানব জীবনকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নিতে যে সুন্দর পথের নির্দেশ করেছেন, ঠিক সে পথে জীবনকে টেনে নিয়ে যাওয়ার নাম ইবাদত। মানুষের জীবনকে সাজাতে মহান আল্লাহ যেসব নিয়ম-নীতি প্রবর্তন করেছেন, তার সবই পার্থিব সাফল্যম-িত। জাগতিক প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে পারলৌকিক জীবন স্পর্শের জন্য দৌড়াতে থাকা ইসলামের মূল দর্শন নয়। বরং পার্থিব জীবন যার যতবেশি সুস্থ ও সাজানো, তার পারলৌকিক জীবন ততবেশি মুগ্ধকর। ইসলামের প্রতিটি বিধানই মানবজীবনকে রাঙ্গিয়ে তোলে। তার সুস্থতা ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করে। বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী ও গবেষকরা ইসলামের বিধানাবলী নিয়ে যতই গবেষণা করছেন, অবাক বিস্ময়ে ততই তারা হয়রান হয়ে যাচ্ছেন। অজুর সাধারণ রীতি ঘাড় মাসে করা (সিক্ত হাতে আলতোভাবে ঘাড় মুছে দেয়া), সন্তান প্রসবের পর নারীর জন্য চল্লিশ দিন পর্যন্ত স্বামী-সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা, কুকুরের মুখ রাখা পাত্র পাক-সাফ করার জন্য মাটি দিয়ে তা ধৌত করা প্রভৃতি- ইসলামের এসব সাধারণ রীতি বিভিন্ন জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধে কতটা কার্যকর, ডাক্তারি সায়েন্সে তা দেখে ডাক্তার ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বিস্ময়ে কেউ কেউ (মার্কিন ডাক্তার অরিভিয়া) বলেই ফেলেছেন, ‘আমরা জীবনের দীর্ঘ সময় গবেষণায় ব্যয় করে কেবল মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ রীতি পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছি!’ কারণ, মানবদেহে সৃষ্ট নানা রোগ-জীবাণু প্রতিরোধ বিষয়ক গবেষণায় শেষ পর্যায়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যে সমাধান বের করছেন, দেখা যাচ্ছে, মুসলমানরা চৌদ্দশ’ বছর আগ থেকেই সাধারণভাবে তা পালন করে আসছে।চলতি আরবি মাসে মুসলমানদের অবশ্য পালনীয় একটি বিধান হলো রোজা। রোজা তো নয়, মানুষের সুস্থতা বিধানের উপায়! ইসলামের প্রতিটি বিধান একদিকে যেমন পারলৌকিক জীবনকে উজ্জ্বল করে, অপরদিকে তেমনি পার্থিব জীবনকে করে সুস্থ ও দীপ্তিময়। রোজাও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। তাই তো প্রফেসর জড়হধষফৎধংং তার চৎবপযবরহম ড়ভ রংষধস গ্রন্থে লেখেনÑ ‘মুসলিম জাতি অতি অল্প সময়ে বিশ্বে যে উন্নতি লাভ করেছে, তার পেছনে রোজার বিশাল অবদান রয়েছে।’ রোজা অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানাহার ও মৈথুন পরিত্যাগ করা। এটি আল্লাহর শত্রু শয়তানের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। কারণ, শয়তান মানুষের অন্তরে যাতায়াত করে কামনা-বাসনার পথ ধরে। আর এ পথ সজীব হয় পানাহার ও মৈথুনের মাধ্যমে। তাই উক্ত কর্ম দুটি বর্জন করার দ্বারা তার সেই পথ শুষ্ক ও সঙ্কীর্ণ হয়ে যায় আর বান্দা পৌঁছে যায় আল্লাহর অতি নিকটে। শয়তানের বিচরণপথ বন্ধ হওয়া ছাড়া আল্লাহর প্রতাপ বান্দার সামনে উন্মোচিত হয় না। মুসলিম দার্শনিক ইমাম গাযালি একটি হাদিস উদ্ধৃত করেনÑ ‘যদি মানুষের অন্তরে শয়তানের যাতায়াত না থাকত, তবে তারা ঊর্ধ্বজগত প্রত্যক্ষ করতে পারতো।’ এটি রোজার আধ্যাত্মিক বা পারলৌকিক দিক। তাছাড়া মৃত্যুর পর রোজার প্রতিদান কী- তা এক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু রোজার পার্থিব অবদান ও সাফল্য? তা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মুখেই শুনুন। উৎ. অষবীযবরম বলেন, ‘রোজার মাধ্যমে মানুষের মানসিকশক্তি ও বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়। স্মরণশক্তি, যুক্তিক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও ঘ্রাণশক্তি প্রভৃতি বেড়ে যায়। খাদ্যে অরুচি দূর হয়।’ বিশিষ্ট সাস্থ্য গবেষক একেএম আব্দুর রহীম বলেন, ‘দৈনিক গড়ে ১৫ ঘণ্টা উপবাসের সময় লিভার, পীহা, কিডনি ও মূত্রথলি প্রভৃতি অঙ্গগুলো বছরে একমাস পূর্ণ বিশ্রাম পায়। এতে উক্ত অঙ্গগুলো বেশ উপকৃত হয়।’ উৎ. ঋ.গ. এৎরধসর বলেন, ‘রোজা হজমশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য অধিক সাহায্যকারী। তিনি আরো বলেন, অনেকেই বলে থাকেনÑ যাদের ‘পেপটিক আলসার’ আছে তাদের রোজা রাখা উচিৎ নয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধারণা সঠিক নয়।’ ডা. দেওয়ান স্বাস্থ্য গবেষক একেএম আব্দুর রহীমের বরাত দিয়ে বলেন, প্রতি বছর একমাস নিয়মিত রোজা রাখার ফলে ‘সাইকো সোমাটিক’ জাতীয় ব্যাধির উপসর্গ কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাইকো সোমাটিক ব্যাধি যেমনÑ হাঁপানি, পেইটক আলসার, বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ, নারী হৃদরোগ, মাসিক ঋতু গোলযোগ, টৎঃরপধৎরধ, গরমৎধরহব ইত্যাদি।’ ইনল্যান্ডের সুপরিচিত চিন্তাবিদ রিডলি রাইট লিখেন, ‘মানসিক কাজকর্মকে চিত্তাকর্ষক ও যথার্ত করার জন্য রোজা একটি প্রকৃষ্ট মাধ্যম।’ ডাক্তার আর ক্যামফোর্ড বলেন, ‘পাশ্চাত্যের চিকিৎসাবিদরা রোজার উপকারিতা স্বীকার করেছেন। চিকিৎসকদের মতে রোজা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পরিপাক প্রক্রিয়ায় শারীরিক সুস্থতা বিধানে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। আমরা সাধারণত যেসব খাদ্য গ্রহণ করি, তার মধ্যে আমিষ, শ্বেতসার ও সেøহ জাতীয় খাদ্য থেকে উৎপন্ন গ্লুকোজ দেহে তাপ ও শক্তি যোগায়। আমাদের দেহে যতটা গ্লুকোজ উৎপন্ন হয় তার সবটা প্রতিনিয়ত খরচ হয় না। কিছু গুøকোজ রক্তে প্রবাহিত হয়ে দেহের চালিকা শক্তিকে কর্মক্ষম রাখে। অবশিষ্ট প্রায় অংশ গ্লাইকোকাজেন রূপে মাংস পেশীতে জমা হয়। কিন্তু কিছু অংশ চর্বি জাতীয় পদার্থে পরিণত হয়ে চামড়ার নিচে ও অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত হয়। এই সঞ্চিত চর্বি জাতীয় পদার্থ উপবাসের সময় পুনরায় গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের মধ্যে প্রবাহিত হয়। দেহে এ রূপান্তরিত গ্লুকোজের তাপ ও শক্তির উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ। রোজা রাখার ফলে চর্বি প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ হতে থাকে এবং দেহের সবলতা ও শক্তি অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়।’ বিখ্যাত জালিয়ূনুসকে লোকেরা প্রশ্ন করেছিলোÑ কোন খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী? তিনি বললেন খাদ্য নয়, ‘উপবাস’ থাকাই মানুষের জন্য কল্যাণকর। উৎ. অসধৎ ঝযধহ বলেন, যদি কারো উপবাসের প্রয়োজন হয়, তাহলে ইসলামের নিয়ম-নীতিতে পালন করা উচিৎ। সাধারণত ডাক্তারগণ রোগীদেরকে যে পদ্ধতিতে উপবাস পালনের নির্দেশ দেন তা সঠিক নয়।

    Print       Email

You might also like...

hazz-bg20170906213617

৪১৯ হাজি নিয়ে বিমানের প্রথম ফ্লাইট ঢাকায়

Read More →