Loading...
You are here:  Home  >  অর্থ ও বাণিজ্য  >  Current Article

জমে উঠেছে সিলেটের অর্কিড মেলা

IMG_1091

সাঈদ চৌধুরী: সিলেট অর্কিড সোসাইটির উদ্যোগে প্রথমবারের মত হযরত শাহজালাল (র)এর দরগাগেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ চত্বরে শুরু হয়েছে উন্মুক্ত অর্কিড প্রদর্শনী ২০১৮। বুধবার ১১ এপ্রিল দুপুর ১১টা থেকে শুরু হয়ে ১৩ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত এটি চলবে। বৃক্ষপ্রেমীদের সরব উপস্থিতিতে প্রথম দিনই জমে উঠেছে অর্কিড মেলা।

IMG_1097

রংবেরংয়ের অর্কিড দেখার জন্য সপরিবারে এসেছেন নানা পেশার মানুষ। এখানে বিক্রির জন্য কিছু আকর্ষণীয় অর্কিড রয়েছে। পছন্দের গাছগুলো বেশ দেখে শুনে কিনছেন বৃক্ষপ্রেমীরা। বিভিন্ন নামের এই অর্কিড গাছের মূল্য হচ্ছে চারশ থেকে পনেরশ টাকা পর্যন্ত। অফিস ও বাসাবাড়ির শোভাবর্ধনে ক্রেতাদের আগ্রহ ঝুলন্ত গাছগুলো। এক্ষেত্রে দাম যতই হোক, সৌখিনতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

IMG_1101

সিলেট অর্কিড সোসাইটির সভাপতি শিরিণ চৌধুরী, সহ-সভাপতি হায়দার হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চৌধুরী মোকাম্মেল ওয়াহিদ, নির্বাহী সদস্য ডা. খুরশেদা তাহমিন ও দিলরুবা মুনমুন আগত বৃক্ষপ্রেমিদের সাথে সময় দিচ্ছেন। জনগনও তাদের কাছে জানতে চাচ্ছেন এই প্রদর্শনী ও অর্কিড নিয়ে নানা কথা।

IMG_1092

ঢাকার সুনামখ্যাত গ্রীন আর্থ এর স্টলে সাজানো আকর্শনীয় অর্কিড সবার নজর কেড়েছে।এর সত্তাধিকারী সানে উল্লাহ তিন দিনে ভাল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।স্টলে বাহারি অর্কিড সাজাতে ব্যস্ত তার সহকর্মীরা। কাজের ফাকে এক সহকর্মী জানালেন, প্রথম দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগমন আশাব্যঞ্জক।

সিলেটের সুগন্ধা নার্সারির সত্তাধিকারী দিলওয়ার হোসেন জানালেন বনজ, ফলজ ও ফুল গাছ নিয়ে কাজ করছেন বহু দিন যাবত। নানা জাতের অর্কিড তার সংগ্রহে রয়েছে। এই মেলার মাধ্যমে বৃক্ষপ্রেমিদের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

উন্মুক্ত অর্কিড প্রদর্শনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, এখানে স্বেচ্ছাকর্মীগণ গাছ রোপন ও ব্যবহার বিধি জানতে সহায়তা করছেন। অর্কিড নামে তসলিমা কবির রচিত ও শিল্পতরু প্রকাশনী থেকে তাইমুর রশীদ কর্তৃক প্রকাশিত বেশ সুন্দর একটি বইও বিক্রি হচ্ছে।

অর্কিড হলো ভালোবাসা, আভিজাত্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক। পৃথিবীতে বহু প্রজাতির অর্কিড আছে। এক একটির রঙ, আকৃতি, ঘ্রাণ, ওষুধি গুণাগুণ ও স্থায়িত্বকাল এক এক রকম। কোনোটায় ফুল ফোটে আবার কোনোটায় ফুল ফোটে না। আমাদের দেশে এপিফাইটিক ও টেরেস্ট্রিয়াল জাতীয় দু ধরণের অর্কিড দেখা যায়। এপিফাইটিক হলো পরজীবি উদ্ভিদ অর্থাৎ অন্য কোনো বড় গাছের উপর নির্ভর করে বেছে থাকে। আর টেরেস্ট্রিয়াল অর্কিড মাটিতেই জন্মায়।

অর্কিড চাষের জন্য আলো-ছায়া যুক্ত যায়গা প্রয়োজন। অতিরিক্ত কড়া রোদ কিংবা একেবারে ছায়ায় অর্কিড ভালো হয় না। টেরেস্ট্রিয়াল অর্কিড টব বা ঝোলানো ঝুড়ি, বাস্কেট ইত্যাদিতে চাষ করা যায়। টব বা ঝুড়ি ৬ ইঞ্চি গভীর, অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাওয়ার জন্য ছিদ্র এবং মাটির উপরে ৩ ইঞ্চি জায়গা খালি থাকতে হয়।

সাধারনত বাজারে অর্কিডের আলাদা ধরনের টব পাওয়া যায়। যেসব টবের গায়ে ছিদ্র থাকে সুশৃংখল ভাবে, যেন পানি আটকে না থাকে। অর্কিড খুবই পানি কাতর গাছ। এই গাছ লাগানোর সময় টবে প্রথমেই দিতে হবে পুরোনো ইট ভাঙা বা বালু । অনেকে কাঠের ছোলাও ব্যবহার করেণ । এর পরের লেয়ারে দিতে হবে কাঠ কয়লা। তারপর চারা গাছটির সাথে দিতে হবে তৈরী করা মাটি। তৈরী মাটি বলতে মাটির সাথে ইটের গুড়া, কাঠের গুড়া, হালকা গোবরের মিশ্রন বুঝায়। গাছ ও মাটি দেয়ার পরের স্তরে নারকেলের ছোলা দিয়ে টবের উপরের অংশ ঢেকে দিতে হবে।

অর্কিডে পানি স্প্রে করতে হয় দিনে দু বার। ঘরের ভিতরে রাখলে স্প্রের পানি ঘরে পড়বে। এ ক্ষেত্রে অর্কিড গাছটি বারান্দায় রাখা ভাল। এই গাছ লাগানোর ১৮/২০ মাসের মধ্যে ফুল আসে। বেগুনি, সাদা, হলুদ অনেক রঙের হয়ে থাকে। ভালোবাসা ও আভিজাত্যের প্রতীক অর্কিড যত্ন ছাড়া সৌন্দর্য ছড়ায় না। তবে অর্কিড শুধুমাত্র সৌন্দর্য বাহন নয়, বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প।

    Print       Email

You might also like...

IMG_8973

সাবেক সচিব ও হাইকমিশনার মোফাজ্জল করিমের সাথে বঙ্গবীর ওসমানী জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

Read More →