Loading...
You are here:  Home  >  মধ্যপ্রাচ্য  >  Current Article

জাতিসংঘে ইরানকে সমর্থন দেবে রাশিয়া

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া

ইয়েমেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার বিষয়ে এবং দেশটির বিরুদ্ধে আরোপিত অস্ত্র অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে কিছু পশ্চিমা দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানবিরোধী যে নিন্দা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে তাতে ভেটো দেবে রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া এ কথা জানিয়েছেন।
বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের সময় নেবেনজিয়া বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনার পরিবর্তে জাতিসংঘের উচিত ইয়েমেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মনোযোগী হওয়া।
তিনি বলেন, “কোনোভাবেই আমরা এ ধরনের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দেব না। ইয়েমেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদের একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রস্তাব পাসের পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবে ইরানকে জড়িয়ে কোনো ভোটাভুটি মেনে নেয়া হবে না।”
গত সপ্তাহে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে যেখানে ইয়েমেনের ওপর আরো এক বছর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আগামী সপ্তাহে খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
খসড়া প্রস্তাবে ২০১৫ সালে ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীর কাছে যেকোনো ধরনের স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য ভারী সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বা বিক্রি বন্ধে ইরান ব্যর্থ হয়েছে বলে খসড়া প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্রিটেনের মাধ্যমে উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবের প্রতি ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানিয়েছে। প্রস্তাবে ইয়েমেনে ইরানের ভূমিকা-সংক্রান্ত জাতিসংঘ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এর জবাবে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
‘ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে’
বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যুক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির উপপ্রধান ইসমাইল কায়ানি। বুধবার রাতে ইরানের মাজান্দারান প্রদেশে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ইসমাইল কায়ানি বলেন, সারা বিশ্বই এখন এটা বিশ্বাস করে যে, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তি ও আলোচনার পক্ষে নয়। সবাই জানে মার্কিন সরকার ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় সই করে তা মানেনি।
তিনি আরো বলেন, ইরান প্রতিরক্ষার জন্য অস্ত্র উৎপাদন ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বাড়াবে। এ ক্ষেত্রে কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই। এ অবস্থায় কেউ যদি অযৌক্তিক কাজ করে তাহলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ইসমাইল কায়ানি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বিশ্ব জনমতকে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা প্রকৃত গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে না। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদীরা মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের মতো এমন সব দেশকে সমর্থন দিচ্ছে যেখানে কোনো নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হয় না।
ফিলিস্তিনে ভোটের ভিত্তিতে জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পরিকল্পনার প্রতিও গণতন্ত্রের মিথ্যা দাবিদাররা সমর্থন দিচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সবার সামনে এ বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে যে, সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরলেও তাদের এসবই হচ্ছে ধোঁকাবাজি।

হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিতে সৌদির অনুমতি নেবে না ইরান: জারিফ
Jawad Jarif Iran
উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইরত যেকোনো সংগঠনকে সমর্থন দিয়ে যাবে ইরান। বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেয়ায় সৌদি আরব ক্ষুব্ধ হলেও এক্ষেত্রে রিয়াদের কোনো মতামত নেবে না দেশটি। তিনি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল পিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। খবর পার্সটুডের।
লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের সমর্থনে সৌদি আরব কেন ক্ষুব্ধ হচ্ছে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে জারিফ বলেন, হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেয়ার জন্য সৌদি আরবের অনুমতি নেবে না তেহরান। উগ্র তাকফিরি জঙ্গিগোষ্ঠী দায়েশ ও আন-নুসরার বিরুদ্ধে যে সংগঠনই যুদ্ধ করবে তাকে সমর্থন জানাবে ইরান।
জাওয়াদ জারিফ বলেন, সারা বিশ্বের আনাচ-কানাচ ছড়িয়ে পড়া যেসব গোষ্ঠী ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ, ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে তাদের প্রত্যেকটির সঙ্গে সৌদি আরবের যোগসূত্র রয়েছে। সৌদি আরবের তেলের টাকায় উগ্র মতবাদ ও শিক্ষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরাক ও সিরিয়া যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও রিয়াদের কাজ করা উচিত। সেই সঙ্গে বাহরাইনের গণআন্দোলন দমন বন্ধ এবং ইয়েমেনে বিদেশি আগ্রাসন বন্ধেও এই দুই দেশের প্রচেষ্টা চালানো উচিত।
ইয়েমেন যুদ্ধে ইরানের ভূমিকা সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে জারিফ বলেন, ইয়েমেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কোনো স্বার্থ নেই। ইয়েমেন পরিস্থিতি এতটা গুরুতর আকার ধারণ করার আগেই আলোচনার টেবিলে সংকট সমাধানের জন্য রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল তেহরান। কিন্তু সে আহ্বানে সৌদি সরকার সাড়া দেয়নি।

    Print       Email

You might also like...

Amirat-inner20180418144841

আমিরাতে তিন মাসের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

Read More →