Loading...
You are here:  Home  >  আমেরিকা  >  Current Article

জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির মেলায় প্রবাসীদের ঢল

usa
আমেরিকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে মূলধারায় সফল করার প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়েছে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বৈশাখী মেলায়। ‘হৃদয় নাচে বৈশাখী সাজে’ স্লোগান নিয়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ব্যাপক আয়োজনে প্রতিবছরের মতো এ বছরও বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি ইনক।
‘এনওয়াই ইনস্যুরেন্স লোক উৎসব ও বৈশাখী মেলা-১৪২৫’ শিরোনামে বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে ফ্রেন্ডস সোসাইটির উদ্যোগে ২৮ এপ্রিল দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, খোলা পার্কে পান্তা-ইলিশ আর ডাল-ভর্তা ভাত ভোজন, আকর্ষণীয় মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মরণিকা প্রকাশ প্রভৃতি। মেলার গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লার্জ লিডার অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক এমপি এম এম শাহীন, বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক–এর সভাপতি কামাল আহমেদ ও বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
২৮ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে জ্যামাইকার ক্যাপ্টেন টিলি পার্ক থেকে প্যারেড শুরু হয়। বাংলাদেশের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য পালকি, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আর বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও বৈশাখী পোস্টার হাতে প্রবাসীরা ক্যাপ্টেন টিলি পার্ক থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে ছিলেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও ব্যানার হাতে নতুন প্রজন্ম, অতিথি, সোসাইটির উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ফ্রেন্ডস সোসাইটির অন্যতম উপদেষ্টা রেজাউল করীম চৌধুরী।
ডিএমভি পার্কিং লটে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন ফ্রেন্ডস সোসাইটির উপদেষ্টা ও এনওয়াই ইনসুরেন্সের প্রেসিডেন্ট শাহ নেওয়াজ। এরপর শুরু হয় ভোজ পর্ব। এই পর্বের উদ্বোধন করেন গ্র্যান্ড মার্শাল ও ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লার্জ লিডার অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল মঞ্চে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরিবেশিত হয় বৈশাখী গান। শিল্পী বেবী নাজনীন, ফকির আলমগীরসহ দেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে অতিথিরা ছাড়াও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এম এ মোমেন, কংগ্রেসম্যান প্রার্থী মিজান চৌধুরী প্রমুখ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটিকে অগ্রসরমাণ কমিউনিটি হিসেবে উল্লেখ করেন। এবং নিজেদের অধিকার ও অবস্থান শক্তিশালী এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় মূলধারায় নিজেদের যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা ফ্রেন্ডস সোসাইটির কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং এ সংগঠনের সব কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ফ্রেন্ডস সোসাইটির বাংলা বর্ষণ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল পান্তা-ইলিশ আর ডাল-ভর্তা ভাত ভোজন। জ্যামাইকার ডিএমভি ফাস্ট পার্কিং লটে এই ভোজন পর্বের আয়োজন করা হয়। এ সময় ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এ বি এম ওসমান গনি, উপদেষ্টা যথাক্রমে নাসির আলী খান পল, ডা. ওয়াজেদ এ খান, ছদরুন নূর, মনজুর আহমেদ চৌধুরী, ডা. টমাস দুলু রায়, এ বি এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ ও ফারুক হোসেন তালুকদার, মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও মেলার সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম, মেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাসির আলী খান পল, সিনিয়র নির্বাহী যুগ্ম আহ্বায়ক বিলাল চৌধুরী, সভাপতি শেখ হায়দার আলী, সাধারণ সম্পাদক ইফজাল আহমেদ চৌধুরী, উপদেষ্টা মনির হোসেন, সৈয়দ আতিকুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এফ মিসবাহউজ্জামান ও রেজাউল আজাদ ভূঁইয়া, যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান বাবু, সংগঠনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিজু মোহাম্মদসহ সোসাইটির অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
খাবার পরিবেশন করে জ্যামাইকার রেস্তোরাঁ স্টার কাবাব।
ভোজন শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে শুরু হয় ‘এনওয়াই ইনস্যুরেন্স লোক উৎসব ও বৈশাখী মেলার মূল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডস সোসাইটির উপদেষ্টাবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেন মেলার আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি শেখ হায়দার আলী। এই পর্ব পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইফজাল আহমেদ চৌধুরী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন দিমা নেফার তিতি।
১৪২৫ বাংলা বছরের ‘বৈশাখী পদক’ দেওয়া হয় বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজকে। এ ছাড়া সম্মাননা জানানো হয় সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, দন্তচিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমান, অ্যাকটিভিস্ট কমিউনিটি কাজী আজম, আবাসন ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন সেলিম ও আব্দুল কাদের মিয়া, ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিদায়ী সভাপতি সাইফুল ইসলাম, রেজাউল আজাদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজনকে। এ ছাড়া মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয় খানস টিউটরিয়ালের ড. মনসুর খান ও মান্নান সুপার মার্কেটের অন্যতম স্বত্বাধিকারী সাঈদ রহমান মান্নানকে।
এ বছর হৃদয়ে বাংলা শীর্ষক স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এটি সম্পাদনা করেন সোসাইটির অন্যতম উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রকাশনার সহযোগিতায় ছিল ডিজাইন স্টুডিও। ‘এনওয়াই ইনস্যুরেন্স লোক উৎসব ও বৈশাখী মেলা’ সফল করতে সহযোগিতায় ছিলেন গোলাম মহিউদ্দিন মিঠু, সেবুল মিয়া, মুক্তার হোসেন, আলী কে কাকন, জুয়েল মিয়া, সফিকুল আলম শাহিদ, এ কে এম সফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, আবদুল মন্নাফ তালুকদার, গিয়াস উদ্দিন মঞ্জু, কাজী এন ইসলাম, আবদুল মজিদ আকন্দ, আফরোজা রোজী, সামিউর রহমান, হামিদুর রহমান, সুলতান খান, ইমাম জাকির, আলহাজ সাজ্জাদ হোসেন, সৈয়দ লিটন আলী, সৈয়দ রাব্বী, গোলাম আজম জাকি, সহদেব তালুকদার, মোহাম্মদ কবীর হোসেন মুন্সি, দেলোয়ার হোসেন মানিক প্রমুখ।

    Print       Email

You might also like...

142043_bangladesh_pratidin_Bd-pratidin_bishaw

পূর্ব প্রজন্মের ঐতিহ্যেকে পৌঁছে দিন নতুন প্রজন্মের কাছে

Read More →