Loading...
You are here:  Home  >  Uncategorized  >  Current Article

ঢাকা বারে ভোট গণনার সময় বহিরাগতদের হানা, হাঙ্গামা

24429F1C-3678-4B0A-9FC8-CED0DEB18E4F
হামলা হাঙ্গামা আইনজীবীদের মারধরের ঘটনায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনা স্থগিত করা হয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা আবারো শুরু হবে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০১৮-২০১৯ কার্যবর্ষের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৭ ও ২৮শে ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে মোট ১৬ হাজার ১২৯ জন আইনজীবী ভোটারের মধ্যে ৯ হাজার ১১ জন তাদের ভোট প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আইনজীবী জানান, আইনজীবী সমিতি ভবনে ভোট গণনার সময় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচন কমিশনের পরিচয়পত্র ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এ জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত অনেক আইনজীবী ও সমর্থকরা বাইরে অবস্থান করেন। কিন্তু সাড়ে ১০টার কিছু পরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বহিরাগতদের আইনজীবী সমিতি ভবনে প্রবেশ করা নিয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পরস্পরকে দোষারোপ করে আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ছয় জন কমবেশি আহত হন বলে জানান আইনজীবীরা। নির্বাচনে অংশ নেয়া কয়েকজন প্রার্থী ও আইনজীবীরা দাবি করেন, যারা হামলা চালিয়েছে তারা বহিরাগত। এ সময় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার খন্দকার আব্দুল মান্নান ও অন্য কমিশনারদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তারা। তাদের দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তৃতীয় তলার সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এ সময় ভবনের নিচতলায় অন্তত তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানান আইনজীবীরা। ঘটনার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার আবদুল মান্নান আহত হন এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা একে অন্যের দিকে তেড়ে যান। কেউ কেউ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কয়েকজন আহতও হন। পরে রাতেই ভোট গণনা স্থগিত করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতের ওই ঘটনার পর গতকাল বেলা ১১টার দিকে সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, দুই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়করা এবং নির্বাচন কমিশনাররা আইনজীবী সমিতি ভবনে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ঢাকা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি মো. খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের এই বারের ১২৮ বছরের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। আমার ওপরও হামলা করা হয়েছে। এমনকি পুলিশকেও মারধর করা হয়েছে। হামলাকারী কারা এমন প্রশ্নে খোরশেদ আলম বলেন, হামলাকারী কারা তা আর কি বলবো! আমরা কোনোমতে ব্যালট বাক্স রক্ষা করতে পেরেছি। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর ভোট গণনা স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) সকাল ৮টায় আবারো ভোট গণনা শুরু হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ আইনজীবীরা আলাপকালে জানান, ঢাকা বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে নির্বাচনের আগে থেকেই চলছিল চাপা উত্তেজনা। তবে, ভোট গ্রহণের দু’দিন (২৭ ও ২৮শে ফেব্রুয়ারি) কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণ শেষ হয়। কিন্তু এর রেশ ছিল ভোট গণনার সময় পর্যন্ত। বৃহস্পতিবারের রাতের ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক আইনজীবী আলাপকালে জানান, ঘটনার সময় তৃতীয় তলার একটি সিসি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। এর আগে বহিরাগতদের প্রবেশ করা নিয়ে নিচতলায় প্রধান ফটকের সামনে থাকা আইনজীবীদের বাকবিতণ্ডা হয়। হামলাকারীরা ভোট গণনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনারদের হুমকি-ধমকি দেন। তাদের দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারেন। কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তৃতীয় তলা ও চতুর্থ তলায় থাকা ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আওয়ামীপন্থি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে নিজেদের মধ্যে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে লিপ্ত হন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা খান অভিযোগ করে বলেন, আব্দুর রহমান হাওলাদার (আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের প্রার্থী) বহিরাগতদের নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
আব্দুর রহমান হাওলাদার গতকালp বলেন, আমি স্পটে ছিলাম না। আমি বাসায় ছিলাম। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি আছি। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। কিছু বলতেও পারবো না। বিএনপি সমর্থিত নীল দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হোসেন আলী খান হাসান বলেন, ঘটনার সময় আমি চতুর্থ তলায় ছিলাম। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ) সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ভোট গণনায় আমাদের নীল প্যানেলের প্রার্থীরা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই বহিরাগতরা এসে হামলা চালায়। তারা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। হামলাকারী কারা এমন প্রশ্নে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, কারা হামলা চালিয়েছে তা আমরা জানি। কিন্তু এখন এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাই না।

    Print       Email

You might also like...

51FFA33D-D5B5-43D9-918F-0D84AD35A47A

তারেক রহমান যে ব্রিটিশ নাগরিক, সরকার তা প্রমাণ করেছে

Read More →