Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

‘…তেমনি এরাও নিজেরা নিজেদের চ্যানেলে সবসময় ফার্স্ট হয়ে যাচ্ছেন!’

1475176032
হানিফ সংকেত। দীর্ঘ জীবনের এই গণমাধ্যম যাত্রায় নিজের কাজ নিয়ে অনেক বিষয়েই পথিকৃত হয়েছেন। যা আজ অনেকেই অনুকরণ করছেন। বিনোদন প্রতিদিনকে বললেন সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের কিছু প্রবণতা নিয়ে। পাশাপাশি বললেন নিজের কালত্তীর্ণ নির্মাণ ‘ইত্যাদি’র সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু

টেলিভিশন অনুষ্ঠানকে স্টুডিওর চার দেয়ালের ভেতর থেকে বাইরে নিয়ে গিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধারণ করার ধারণাটি কিভাবে এলো? এই ধারণার প্রণেতা হিসেবে আপনার মতামত শুনতে চাই—
বৈচিত্র্যের জন্য ও টিভি অনুষ্ঠানকে মুখে নয়, বাস্তবে গণমুখি করার জন্য। এক সময় টেলিভিশন অনুষ্ঠান স্টুডিওর চার দেয়ালে বন্দি ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি সেখান থেকে টিভি অনুষ্ঠানকে বাইরে নিয়ে এসে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, প্রাচীন ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন স্থানগুলোতে গিয়ে ইত্যাদি ধারণ করতে এবং সেই সকল স্থানের পরিচিতি তুলে ধরতে। উদ্দেশ্য নিজেকে জানা এবং অন্যকে জানানো। তারই ধারাবাহিকতায় এবার করেছি রাঙ্গামাটিতে।

বছরের এই সময় পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিকে ইত্যাদি ধারণের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার কি কোনো বিশেষ কারণ আছে?
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব পর্যটন দিবস। আর অতি সম্প্রতি যুব সমাজসহ সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি ভ্রমণ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা প্রকৃতির লীলাভূমি পাহাড়-নদী-হ্রদ, ঝরনা পরিবেষ্টিত পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান রাঙ্গামাটিতে ইত্যাদি করেছি।

এবারের ইত্যাদি সম্পর্কে কিছু বলুন, নতুন কি থাকছে?
রাঙ্গামাটিতে প্রথম ইত্যাদি করলাম এটাও তো একটি নতুন খবর। তবে এবারের অনুষ্ঠানে ইত্যাদির আর একটি নতুন রূপ দেখা যাবে। অর্থাত্ এবার দিন-রাত মিলিয়ে ইত্যাদি নির্মাণ করেছি। দিনে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি ধারণ করতে করতে রাত হয়ে যাবে এবং এই সময় পরিবর্তন টিভিপর্দায় দেখা যাবে। আমার বিশ্বাস ইত্যাদির এই নতুন ধারণাটিও অনেকে গ্রহণ করবেন। আর একটি কথা, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু যেমন সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি তেমনি এবারের ইত্যাদিকে বলা যায় গাইড অফ রাঙ্গামাটি।

আপনি তো সবসময় সব বয়সের সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে অনুষ্ঠান করেন। আসলেই কি সব শ্রেণির দর্শকদের জন্য অনুষ্ঠান করা যায়। সকলেই তো এখন টার্গেট অডিয়েন্স বলে ভাগ করে নেয় যে যার মতো—
আমার প্রশ্ন হলো, টেলিভিশন কি কোনো নির্দিষ্ট পেশার মানুষের জন্য? টেলিভিশন সবার, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। তাই ‘ইত্যাদি’তে উঠে আসে সবার কথা। ইত্যাদিকে বলা হয় সব বয়সের, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। আপনারাই বলেন শেকড় সন্ধানী ইত্যাদি। তবে হ্যাঁ, যদি পেশা নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান করতেই হয় তবে সকল মেহনতি মানুষকে, বিশেষ করে কৃষক-শ্রমিক-জেলে-তাঁতি-কামার-কুমার সবাইকে নিয়ে অনুষ্ঠান করবো। কারণ দেশ গড়ায় কারো অবদানই কম নয়।

জনপ্রিয়তার কারণেই হোক আর অন্য কারণেই হোক, দেশের অনেক অনুষ্ঠানেই ইত্যাদির ছায়া দেখতে পাওয়া যায়, এমনকি উপস্থাপনার ভঙ্গিটাও মনে হয় অনুকরণীয়। সম্পূর্ণ নতুন ধারণার কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না কেন?
কেন হচ্ছে না মাঝে মাঝে সেটা আমাকেও ভাবনায় ফেলে। আসলে একটি ভালোমানের অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে যেটা প্রয়োজন সেটা হলো মেধা এবং দায়বদ্ধতা। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা, শ্রম, নিষ্ঠা, গবেষণা, উপস্থিত বুদ্ধি ব্যবহারের শক্তি, সততা ও আন্তরিকতা। সবকিছুর সমন্বয় করতে পারলেই একটি ভালোমানের অনুষ্ঠান নির্মাণ সম্ভব।

২৮ বছর ধরে একটি অনুষ্ঠান একই জনপ্রিয়তায় চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার সাফল্য অনেক। এর বাইরে আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়-ইত্যাদিতে আরো কি কি করতে চেয়েছিলেন, যা আপনি পারেননি। এমনকিছু আক্ষেপের কথা কি আছে?
আমি মূলত সরকারি টেলিভিশনে কাজ করি। তাই অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। এতে একদিকে সুবিধা হচ্ছে অধিক দর্শক দেখতে পারেন আর অসুবিধা হচ্ছে ইচ্ছে থাকলেও অনেককিছু করা যায় না। তাছাড়া আমার নিজের কোনো চ্যানেল নেই। আজকাল তো নিজের চ্যানেলকে অনেকে ব্যক্তিগত প্রচার-প্রপাগান্ডার মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছেন। এসব আত্মপ্রচার দেখলে বাংলা ছায়াছবির একটি জনপ্রিয় সংলাপ মনে পড়ে। সংলাপটি হলো-মা মা আমি ফার্স্ট হয়েছি। অর্থাত্ সিনেমার নায়করা সবসময় সব পরীক্ষায় ফার্স্ট হয় তেমনি এরাও নিজেরা নিজেদের চ্যানেলে সবসময় ফার্স্ট হয়ে যাচ্ছেন। একই জিনিস সকাল-দুপুর-রাত যখন খুশি প্রচার করছেন। কিন্তু দর্শকের কথা ভাবছেন না। ভাবছেন না তাদের হাতে একটি যন্ত্র আছে, যার নাম রিমোট কন্ট্রোল।

আগে ইত্যাদিতে দেখতাম বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলার চিত্র, কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবত্ আপনার অনুষ্ঠানে এসব থাকে না কেন?
আমরা যা করি অন্যে যখন তা করা শুরু করে তখন বৈচিত্র্যের জন্য আমরা তা বন্ধ করে দিই এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করি। এখন বিদেশিদের মাধ্যমে আমাদের এসব ঐতিহ্য তুলে ধরছি, যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

    Print       Email

You might also like...

eueu

সব দলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন

Read More →