Loading...
You are here:  Home  >  প্রবন্ধ-নিবন্ধ  >  Current Article

দৈনিক জালালাবাদ : সিলেটের সংবাদপত্রে আলোকিত অভিযাত্রা

A Quader Tapader

আবদুল কাদের তাপাদার : ১৯৯৩ সালের পহেলা আগস্টের আলো ঝলমল দিনে অভিযাত্রা শুরু করে দৈনিক জালালাবাদ। ২৪ বছর ধরে এই দৈনিকের আলোকিত অভিযাত্রা অব্যাহত আছে আজো। দৈনিক জালালাবাদ সিলেটের সংবাদপত্রে যেনো এক আলোকের অভিযাত্রী।
সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় দু’শ বছরের ঐশ্বর্য ও অহংকারের মহান পিতৃভূমি সিলেট অঞ্চলে আধুনিককালের সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র বিকাশের এক অনন্য ও যুগান্তকারী কারিগর দৈনিক জালালাবাদ ২৪ পূর্ণ করে ২৫ বছরে পা রাখলো।
বাংলাদেশের ইতিহাসের তথা মহান স্বাধীনতার যৌবন ও তারুণ্যের মাঝেই জাতি গঠন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন এবং দেশবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে একাত্ম হয়ে ২৪ বছরের যৌবন ও তারুণ্য পেরিয়ে এসেছে দৈনিক জালালাবাদ। তৃতীয় বিশ্বের একটি মাঝারি নগর থেকে একটি আঞ্চলিক দৈনিকের ২৪ বছর পূর্তি সংবাদপত্রের ইতিহাসে একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘটনা। সিলেটবাসীর শৌর্য-বীর্য, গর্ব-অহংকার, সংকট-সম্ভাবনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর সংগ্রাম আন্দোলনের সাথী হয়ে সময়ের এক সুদীর্ঘ সোনালী সকাল পার করে এসেছে দৈনিক জালালাবাদ।
সত্য-সন্ধানী নির্মোহ ও নির্লোভ সাংবাদিকতা, নীতি আদর্শকে সুউচ্চে ধারণ করে সামনে এগিয়ে চলার মহান যাত্রাপথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না এই দৈনিকের জন্য। মাঝে মধ্যেই কঠিন বাধা বিপত্তি, সংকট আর সমস্যার পাহাড় এসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং সিলেটবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৈনিক জালালাবাদ এসব বাধা পেরিয়ে এসেছে। থেকেছে ন্যায়ের পথে অটল অবিচল।
‘সাংবাদিকতায় আপোষ করতে হয়, সমঝোতা করতে হয়’- এই নীতির বিপক্ষে দাঁড়িয়েও সত্য ও মহান সাংবাদিকতার জয়গান গেয়েছে দৈনিক জালালাবাদ। এ ক্ষেত্রে দৈনিক জালালাবাদ এক ও অনন্য। তার সমকক্ষ হয়তো কেউ নেই। দৈনিক জালালাবাদ বর্তমানে নিয়মিত রঙ্গিন আকারে ৮ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হচ্ছে। গত ১লা মার্চ ২০১৭ থেকে দৈনিক জালালাবাদে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

66C7FAE4-4D75-4A96-A8E6-2AE9B0B12B81

ক’জন তরুণ উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী আধুনিক চিন্তাধারার আলোকে নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দৈনিক জালালাবাদকে আরো আকর্ষনীয় জনপ্রিয় ও পাঠকপ্রিয় দৈনিক হিসেবে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন নতুনরূপে এগিয়ে চলেছে দৈনিক জালালাবাদ। দিনে দিনে এর পাঠকপ্রিয়তা বাড়ছে। ঘরে ঘরে সর্বমহলে নতুন ভাবে সাড়া পড়েছে। আমরা মনে করি দৈনিক জালালাবাদের প্রতি সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের যে অগাধ ভালোবাসা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে আমাদের নবতর যাত্রায় তা আরো বেগবান হয়ে উঠেছে।

3A36B707-28D2-43E5-A0A3-999D51E6E111
দৈনিক জালালাবাদ সব সময়ই সিলেটের মানুষের স্বার্থের পক্ষে কথা বলেছে। অধিকার আদায়ে সামনে দাঁড়িয়েছে। কলম ধরেছে নির্ভয়ে। এক্ষেত্রে কারো রক্তচক্ষুর তোয়াক্কা করেনি তাইতো দেখা যায় সিলেট বিভাগ আদায়ের দাবীতে সংগ্রামমুখর কোটি সিলেটবাসীর সাথে একাত্ম হয়ে সমানে কলম চালিয়ে গেছে এই সাহসী দৈনিক। অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ সাল সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা দিতে বাধ্য হলেন ‘আজ থেকে সিলেট বিভাগ হলো’। ঠিক এমনিভাবে সিলেটের তেল গ্যাস বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিবাদে সিমিটার বিরোধী আন্দোলনকে জাগিয়ে দেয় দৈনিক জালালাবাদ। সিমিটার চলে যেতে বাধ্য হয়।
বৃহত্তর জৈন্তিয়া ও গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজারসহ সিলেটবাসীর সাথে এই দৈনিক সেদিন একাত্ম হয়ে যেভাবে আন্দোলনকে পরিণতি দিয়েছিলো তা কারো ভুলে যাবার কথা নয়। সিলেটবাসীর স্বাতন্ত্র ও গরিয়ান ঐতিহ্য রক্ষার জন্য গড়ে উঠা শাবি আন্দোলনে এক বড় রকমের নিয়ামক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করে দৈনিক জালালাবাদ। আদ্যপান্ত এই আন্দোলন সংগ্রামের মুখপত্র হয়ে উঠেছিলো এই দৈনিকটি। সেই আন্দোলনের ঊর্মিমুখর দিনগুলোর সচিত্র কাভারেজ দৈনিক জালালাবাদের পাতায় পাতায় আজো উজ্জ্বল হয়ে আছে।
দৈনিক জালালাবাদ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সব সময় সকল মত ও পথের মানুষের আশা-আকাংখা ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি-এই ৪টি বড় দল ছাড়াও বাদবাকী মাঝারি ও ছোট দলগুলোও সব সময় যার যার মতো কাভারেজ পেয়ে এসেছে। এক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী ইসলামপন্থী কিংবা বামপন্থী কাউকেই অগ্রাহ্য করেনি এই দৈনিকটি। নিরপেক্ষতার ভান নয়- সত্যিকারার্থে নিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে সব সময় সংবাদ পরিবেশন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে দৈনিক জালালাবাদ।
নিরপেক্ষতার নামে কোন একটি বিশেষ দল ও গোষ্ঠীকে মিডিয়া কাভারেজ এর বাইরে রাখতে হবে দৈনিক জালালাবাদ তাতে বিশ্বাস করে না। এ কারণে অনেক দুষ্ট প্রকৃতির লোক দৈনিক জালালাবাদে ‘আদর্শ ও দলবাজির গন্ধ খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই স্বীকার করেছেন যে দৈনিক জালালাবাদ সংবাদ পরিবেশনের দিক থেকে আদর্শ পত্রিকা।
অনেকে দৈনিক জালালাবাদকে এক সময় ‘সিলেটের পাইওনিয়ার’ সংবাদপত্র হিসেবে বিবেচনা করেছেন। দৈনিক জালালাবাদ কখনো স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তিতে বিশ্বাস করেনা এবং আমরা মনে করি এ ধরণের মনোভাব স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের যাত্রাকে ব্যাহত করে। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল পেরিয়ে এসেছি আমরা। এখন আর স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক বাজিমাত জাতির কোন অংশই মেনে নেবে না। দৈনিক জালালাবাদ এই মনোভাব পোষণ করে সংবাদপত্রের দায়িত্বের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের দিকে আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদ পরিবেশনে দৈনিক জালালাবাদ বরাবরই দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অসীম গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সংবাদ গুরুত্বসহ ছাপা হয়েছে। স্বাভাবিক কারণে এক্ষেত্রে সিলেটের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ বেশী কাভারেজ পেয়েছেন। দেশের প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ প্রায় প্রতিদিনই দৈনিক জালালাবাদে গুরুত্বসহ ছাপা হয়েছে। কিছু কিছু বিষয় দৈনিক জালালাবাদে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে।
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসনের নানা রকম সংবাদ এই দৈনিকে গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচিত পাদুয়া, সোনারহাট, তামাবিল, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার সীমান্তে বাংলাদেশের ভূমি জোরপূর্বক দখলের বিরুদ্ধে দৈনিক জালালাবাদ বরাবরই ছিলো সোচ্চার। পাদুয়া অপারেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূমি পুনরুদ্ধারের ঘটনায় সিলেটবাসীর সাথে আমরাও জয়ী হয়েছিলাম। সিলেটের সম্পদ সম্ভাবনার সংবাদ বড় আকারে ছাপিয়ে আমরা সরকারকেই উৎসাহ জাগিয়েছি সম্পদ উত্তোলন কিংবা আহরণে মনোযোগী হতে। এক্ষেত্রে দৈনিক জালালাবাদ সিলেটের তেল গ্যাস, ইউরেনিয়াম, পাথর খনিসহ খনিজ সম্পদের উপর গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করেছে।
এছাড়া গত ২৪ বছরে সিলেটবাসীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দৈনিক জালালাবাদ লেখনি দিয়ে সেই ইস্যুকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। দৈনিক জালালাবাদ সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের সিলেটপ্রেম নিয়ে তাকে ‘সিলেটবন্ধু’ উপাধি দিয়েছে এবং এভাবেই প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে দেশপ্রেমের সাথে সাথে সিলেটপ্রেম জাগিয়ে তুলেছে। এক্ষেত্রে সিলেটের অভিজাত্য, স্বাতন্ত্র ও গরিয়ান অহংকারের মতো বিষয়গুলো দৈনিক জালালাবাদ তার পাঠকের কাছে সব সময় তুলে ধরেছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে।
সিলেটের মফস্বল উপজেলাগুলোতে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা বিকাশে দৈনিক জালালাবাদ পালন করেছে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জালালাবাদ প্রকাশনার আগে প্রায় উপজেলায়ই স্থানীয় কোন দৈনিকের বাজার ছিলো না। সেখানে সকালবেলা সিলেটের কোন দৈনিক পৌঁছতো না। জালালাবাদ প্রকাশের পর সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ জেলার অনেক উপজেলায় পত্রিকা পাঠানো শুরু হয়। সেসব উপজেলা ও প্রত্যন্ত জনপদ যেন নতুন করে সংবাদপত্রের জন্য জেগে উঠে। খুব সকাল থেকে অসংখ্য পাঠক জালালাবাদের জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করতেন।
সিলেটের প্রত্যন্ত জনপদে তখন সংবাদপত্রের বাজারে যেন সাজ সাজ রব পড়ে যায়। প্রত্যন্ত জনপদে প্রতিনিধিদের ব্যস্ততাও বাড়তে থাকে। সাথে সাথে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের গুরুত্ব ও মর্যাদাও বাড়তে থাকে অব্যাহতভাবে। তখন সিলেট শহর থেকে হাতেগোনা মাত্র দুই তিনটি দৈনিক প্রকাশিত হতো। প্রতিযোগিতা ততটা ছিলো না। কিন্তু জালালাবাদ প্রকাশের সাথে সাথে সহযোগী দু’একটি দৈনিকের মাঝে রীতিমতো উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সময় গড়িয়ে যায়। ’৯৬ সালের দিকে দৈনিক জালালাবাদের সার্কুলেশন সিলেটে তৎকালে সর্বোচ্চ উঠে যায়। এ সময়ই হঠাৎ করে নিউজপ্রিন্টের দাম বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। ফলে সার্কুলেশন কমিয়ে দেয়ায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায় সহযোগী অন্য একটি দৈনিক।
আজ থেকে ২৪ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ১লা আগষ্টের সোনালী সকালে রোদ ঝলমল দিনে যাত্রা শুরু করে সিলেটের হাজারো পাঠকের প্রিয় সংবাদপত্র দৈনিক জালালাবাদ। সিলেটের কয়েকজন সংবাদপত্রসেবী ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তিবর্গের আর্থিক আনুকূল্যে দৈনিক জালালাবাদের যাত্রা শুরু হয়। এই পত্রিকা থেকে কোন ধরনের আর্থিক মুনাফা না নেয়ার ঘোষণা দিয়েই টাকা বিনিয়োগ করে সেই সব মহৎ মানুষগুলো সংবাদপত্র সেবায় এক মহানুভবতার উদাহরণ সৃষ্টি করেন। সিলেটের সংবাদপত্র জগতে তখন খুব একটা সুখকর অবস্থা নেই। এই সময়ে দৈনিক জালালাবাদের প্রকাশনা ছিলো রীতিমতো একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। উদ্যোক্তা ব্যক্তিবর্গ এই চ্যালেঞ্জই নিয়েছিলেন খুউব সহজভাবে।
সেই মালিক-পরিচালকরা জালালাবাদের জন্য সব রকমের সহযোগিতা-সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই আজ এই দৈনিকটি এতদূর আসতে পেরেছে। ২৪ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে দৈনিক জালালাবাদ পরিচালনায় অসামান্য অবদান রাখায় আমরা জালালাবাদ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত মালিক-পরিচালক এবং ২৪ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালনকারী সকলকে জানাই আমাদের অসীম কৃতজ্ঞতা।
১৯৯৩ সালে সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূরের নেতৃত্বে দৈনিক জালালাবাদের শুভ যাত্রালগ্নে সিলেটের এক ঝাঁক নবীন-প্রবীন সাংবাদিকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে এই দৈনিকটির বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ। সিলেটে কর্মরত তখনকার প্রায় সকল সিনিয়র সাংবাদিকেরই পদচারনায় ধন্য হয়েছে দৈনিক জালালাবাদ। এ যেন সাংবাদিকতায় রীতিমতো বিপ্লব ঘটে গিয়েছিলো। সম্পাদক ছাড়া যাদের নিয়ে দৈনিক জালালাবাদ যাত্রা শুরু করে তাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল হামিদ মানিক, ইকবাল সিদ্দিকী, চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, হারিস মোহাম্মদ, আজিজুল হক মানিক, নিজাম উদ্দিন সালেহ, আবদুল কাদের তাপাদার, আমজাদ হোসাইন, আব্দুর রাজ্জাক, সাঈদ চৌধুরী (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী), হেলাল উদ্দিন রানা (বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী), ফতেহ ওসমানী (দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত), সেলিম আউয়াল, শফিকুর রহমান শাহজাহান। এসময় অতিথি রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন অজয় পাল (বর্তমানে কানাডা প্রবাসী) এবং ঢাকা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন মিজানুর রহমান খান (বর্তমানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক)। পরবর্তী সময়ে দৈনিক জালালাবাদে যোগ দেন এ টি এম হায়দার, আ ফ ম সাঈদ, খালেদ আহমদ, কবির আহমদ সোহেল, নজরুল ইসলাম (মরহুম)।
পরবর্তীতে গত ২৪ বছরে বিভিন্ন সময়ে দৈনিক জালালাবাদে বার্তা বিভাগে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, শামসুল ইসলাম শামীম, আবুল কালাম, কবীর আহমদ, মো. ফয়ছল আলম, আব্দুল মুকিত অপি, মুহাম্মদ জুবায়ের (বর্তমানে লন্ডনের চ্যানেল এস-এর চীফ রিপোর্টার), তাইছির মাহমুদ (বর্তমানে লন্ডনে নতুন দিনের নির্বাহী সম্পাদক), ফায়সাল আইয়ূব, সারওয়ার চৌধুরী টিপু (বর্তমানে দুবাই প্রবাসী), আতিকুর রহমান (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী), এমদাদ হোসেন চৌধুরী দীপু, নাজমুল আলবাব, নজরুল ইসলাম বকসী, দেলওয়ার হোসেন, দেলওয়ার হোসেন দিলু, মিনহাজুল ইসলাম জায়েদ, আফতাব উদ্দিন, ইকবাল মাহমুদ, আবদুর রাহমান (২০১৬ সালের জুলাই মাসে মারা যান), সিদ্দিকুর রহমান সুমন, আবদুল কাইয়ুম (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী), মান্না চৌধুরী, এনাম চৌধুরী (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী), নাজমুল হাসান (৬ আগষ্ট ২০১১ তারিখে কর্মরত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন), রাজু আহমদ (পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা), সাইফুর রহমান তুহিন, ডা. সেলিম সরকার, হারুনুর রশীদ, নজরুল ইসলাম নয়ন, হাসান আলী ও হাবিবুর রহমান। প্রথম দিকে দৈনিক জালালাবাদে ফটো সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন কাজল হাজরা (বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাক ঢাকায় কর্মরত)। তখন জালালাবাদের ছবির নিজস্ব স্টুডিও গড়ে তোলা হয়। এই ব্যবস্থা সিলেটে তখন একমাত্র দৈনিক জালালাবাদেরই ছিলো। ফিল্ম তৈরীর কাজ করতেন রাজন উদ্দিন। পরে দৈনিক জালালাবাদে চীফ ফটোগ্রাফার হিসেবে যোগ দেন আবদুল বাতিন ফয়সল। এর পরে এই পদে যোগ দেন সি এম মারুফ। দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক জালালাবাদে তিনি একনিষ্টভাবে কাজ করতে থাকেন। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মারুফ ভাই কর্মরত অবস্থায় রাতের বেলা অফিস থেকে বাসায় ফিরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। গত বছরের জুলাই মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আমাদের সাবেক সহকর্মী আবদুর রাহমান।
আমরা দৈনিক জালালাবাদের সাথে ঘনিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট মরহুম সাংবাদিক ফতেহ ওসমানী, মরহুম সি এম মারুফ, মরহুম নাজমুল হাসান ও মরহুম আবদুর রাহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

    Print       Email

You might also like...

326957_112

পলাশি : ইতিহাসের কালো অধ্যায়

Read More →