Loading...
You are here:  Home  >  প্রবন্ধ-নিবন্ধ  >  Current Article

পান খাইয়া ঠোট লাল করিলাম

selim

সেলিম আউয়াল : চমৎকার একটি দিন কাটলো আমাদের সিলেট প্রেসক্লাবে। দিনটি সিলেট প্রেসক্লাবের ফ্যামিলি ডে নয়, কিন্তু আনন্দ ছিলো ফ্যামিলি ডে’র চেয়েও যেন বেশী। প্রাণের ছোঁয়া ছিলো অনেক অনেক বেশী। সেই বেলা তিনটে থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত, প্রেসক্লাবটি মুখরিত ছিলো ছেলেমেয়েদের কোলাহলে। তারা সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্যদের পুত্রকন্যা। মেধাবী ছাত্রছাত্রী। তাদের সাথে এসেছেন তাদের মা বাবা, ভাইবোন এবং চাচা ফুফুরাও। তারা এসেছে চমৎকার একটি অনুষ্ঠানে, সিলেট প্রেসক্লাবের মেধাবী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে। আমার ছেলে জুন্নুরাইন কদর তাজিম এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে, কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে সেও অনুষ্ঠানে যায় সংবর্ধনা নিতে। তার সাথে আমি, ওর আম্মি আফিয়া সুলতানা, ওর বড়ো চাচু আবদুল বাতিন ফয়সল, ওর মেজো চাচু আবদুল মুহিত দিদার, ওর বোন নাদিরা নূসরাত মাশিয়াত, ওর চাচাতো ভাই শেখ আহনাফ নাফি, শেখ দাইম তাওসিফ, মির্জা ওমর, চাচাতো বোন শেখ মালিহা মরিয়ম।

অনুষ্ঠান শুরু হবার আগে থেকে দীর্ঘসময় আড্ডা হলো, অনুষ্ঠান শেষ হবার পর কমপক্ষে আরো এক ঘন্টা জমিয়ে আড্ডা। প্রেসক্লাব সদস্যদের পরিবারের পরিজনের চমৎকার আড্ডা। এক পরিবারের সদস্য অন্য পরিবারের সদস্যদের সাথে, এক ভাবী আরেক ভাবীর সাথে পান চিবুনো চললো, চা পান চললো। বিশাল বড়ো সাজানো একটি পানদান। পানদানে পান, শুকনো সুপারি, জর্দা, এমন কি আমার আম্মার প্রিয় সেই মাঠু গুয়া (পানিতে পঁচানো সুপারি)ও ছিলো। কথা বলতে বলতে পান চিবুনো। যার অভ্যেস নেই পানদান দেখে সেও খাচ্ছিলো। সবাই কথায় কথায়, আড্ডায় আড্ডায় রাঙাচ্ছিলেন মন এবং পানের রসে লাল হচ্ছিলো ঠোট।

সিলেট প্রেসক্লাবে2

সিলেট প্রেসক্লাবের আরো অনেকগুলো ফ্যামিলি ডে-তে আমার অংশ নেবার সুযোগ হলেও এই দিনটির মতো প্রাণের ছোঁয়া এমন করে আর কখনো অনুভব করিনি। কারন সেইগুলোতে আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপারটি মূখ্য হয়ে উঠে। এবারের অনুষ্ঠানের একটি প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে সিলেট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এই প্রথমবারের মতো শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হলো। বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হয় নগদ দশ হাজার টাকা।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাম্প্রতিক সময়ের কার্য্যক্রমগুলো সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। মাত্র সপ্তাহখানেক আগে সিলেট প্রেসক্লাবের একটি আরেকটি প্রাণছোঁয়া অনুষ্ঠান হয়ে গেলো, অগ্রজের সাথে একটি দিন। সিলেটের প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল মালিক চৌধুরীকে নিয়ে একটি দুপুর কাটলো। অনুষ্ঠানটি ছিলো ব্যতিক্রমধর্মী। মালিক ভাইকে তার কর্মজীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হয়। তার জীবনের অনেকগুলো দিক জানা হয়। সবচেয়ে কাকতালীয় ব্যাপার হচ্ছে সেই দিনটি ছিলো আবদুল মালিক চৌধুরীর সাংবাদিকতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি এবং তার বয়সেরও সত্তর বছর পূর্তি।

সেই কর্মসূচীরও তো প্রশংসা করতে হয়, সিলেট প্রেসক্লাব এই প্রথম বারের মতো ফেলোশিপ কার্যক্রম চালু করেছে। এ ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম সিলেট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এর আগে কখনো হয়নি। বিষয়টি আমার জন্যেও আনন্দের। সিলেট প্রেসক্লাবের প্রথম ফেলোশিপপ্রাপ্ত দুজনের মধ্যে আমিও একজন।

শিক্ষাবৃত্তি প্রচলন, অগ্রজদেরকে সম্মাননা জ্ঞাপন, ফেলোশিপ চালু এ বছর প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এই কার্যক্রমের জন্যে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ইকরাম-ইকবাল জুটিকে। সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদকে। আরেকটি কাকতালীয় ব্যাপার ইকরামুল কবিরের একমাত্র সহোদরের নামও ইকবাল। অবশ্যই এই কার্যক্রমগুলোর সাফল্যের সকল কৃতিত্ব শুধু এই দুজনের নয়, কার্যকরী পরিষদকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। কারন সবগুলো কাজই টিমওয়ার্ক। ভালো টিম না হলে ভালো ফলাফল আশা করা যায় না।

অনুজপ্রতিম ইকবাল মাহমুদের মাথায় নানা প্রোগ্রাম কিলবিল করে। শিক্ষাবৃত্তি প্রচলন, অগ্রজদেরকে সম্মাননা জ্ঞাপন, ফেলোশীপ চালু-এইসব প্রোগ্রামের কথা সে দায়িত্ব নেবার পর থেকে বার বার বলছিলো। আরো কতো কি, সিলেট প্রেসক্লাব থেকে জার্নাল বের করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। বিষয়গুলো খুব একটি আমলে আনিনি, ভেবেছি এতোদিন হয়নি, আর হঠাৎ করে তারা এতোসব করতে পারবেন না। স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন খুবই কঠিন। কিন্তু এবার প্রমাণ হলো মানুষ তার আশার সমান। স্বপ্নের সাথে প্রচেষ্টা চালালে স¦প্ন বাস্তবায়িত হয়। ধন্যবাদ ইকবাল মাহমুদ। ধন্যবাদ সিলেট প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং আরো নতুন কোন চমক দেখার অপেক্ষায় কি আমরা থাকবো?

sylhet-press-club

    Print       Email

You might also like...

পর্যটন বিশ্বে নতুন আকর্ষণ হালাল হলিডে

Read More →