Loading...
You are here:  Home  >  সাফল্য  >  Current Article

পারিবারিক গল্পই জিতে নিল স্বর্ণ পাম

10536_13

পৃথিবী যত আধুনিক হোক পরিবারের বাইরে গিয়ে কিছু হয় না। স্বর্ণ পাম বিজয়ী ছবি সেটারই প্রমাণ। এমনিতেই কান উৎসবকে তামাম দুনিয়া আনপ্রেডিক্টেবল বলেই জানে। তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। জাপানিজ মুক্ত ছবি ‘শপলিফটার্স’ বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার স্বর্ণ পাম জিতে নিয়েছে। জ্যঁ-লুক গদার থেকে শুরু করে বিশ্বের নবীন-প্রবীণ ২০ নির্মাতাকে ছাপিয়ে পাম দ’র পেয়ে গেলেন কোরি-ইদা হিরোকাজু। পারিবারিক জীবনের কোমলতা ও চমকে দেওয়া প্লটের সম্মিলনে ছবিটি বানানোর সুবাদে এই স্বীকৃতি গেছে তার ঘরে।

কোরি-ইদা হিরোকাজু ২০১৩ সালে ‘লাইক ফাদার লাইক সান’ ছবির সুবাদে জুরি প্রাইজ পান। ২০১৬ সালে মূল প্রতিযোগিতায় ছিল তার ‘আওয়ার লিটল সিস্টার্স’। তার হাত ধরে ২১ বছর পর আবারও স্বর্ণ পাম গেলো জাপানে। দেশটির চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে ১৯৫৪ সালে প্রথমবার স্বর্ণ পাম জেতে তেইনোসকে কিনুগাসার ‘গেট টু হেল’।

১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বব ফসের ‘অল দ্যাট জ্যাজ’ ছবির সঙ্গে যৌথভাবে স্বর্ণ পাম জেতে আকিরা কুরোসাওয়ার ‘কাগিমুশা’। এর তিন বছর পর (১৯৮৩) শোহেই ইমামুরার ‘দ্য ব্যালাড অব নারায়ামা’ স্বর্ণ পাম একাই নিয়ে আসে জাপানে। একই পরিচালক ১৯৯৭ সালে ‘দ্য ইল’ ছবির জন্য আবারও স্বর্ণ পাম পান। তবে ওইবার আব্বাস কিয়ারোস্তামির ‘টেস্ট অব চেরি’র সঙ্গে যৌথভাবে এটি ভাগাভাগি করতে হয়েছে তাকে।

এককভাবে ৩৫ বছর পর স্বর্ণ পাম জিতলেন কোনও জাপানি নির্মাতা। তার জয়ের কারণে ইতিহাস গড়তে পারলেন না লেবাননের নাদিন লাবাকি, ইতালির অ্যালিস রোরওয়াচার কিংবা ফ্রান্সের ইভা হুসো। এই তিন নারী নির্মাতার একজন কান চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসরে স্বর্ণ পাম জিতবেন বলে আশা করা হচ্ছিল। কারণ বিচারকদের প্রধান ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট। তাছাড়া হলিউডের যৌন হয়রানির বিষয়টিও ছিল ব্যাপক আলোচিত। কিন্তু সব ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।

‘শপলিফটার্স’কে স্বর্ণ পাম দেওয়া প্রসঙ্গে পুরস্কার বিতরণীর পর সংবাদ সম্মেলনে বিচারকদের প্রধান কেট ব্ল্যানচেট বলেছেন, ‘মূল প্রতিযোগিতায় নারী নির্মাতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আমাদের সব বিচারকেরই ভালো লাগে। কিন্তু সবশেষে পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পরিবেশনা যেভাবে বোনা হয়েছে সেলুলয়েডে, তা দেখে আমরা বিমুগ্ধ হয়েছি।’

রানারআপ পুরস্কার গ্রাঁ প্রিঁ গেছে মার্কিন পরিচালক স্পাইক লি’র হাতে। বর্ণবাদবিরোধী বিদ্রুপাত্মক ছবি ‘ব্ল্যাকক্ল্যান্সম্যান’ তাকে এনে দিয়েছে এই সম্মান। তার ছবি তৈরি হয়েছে সত্তর দশকের প্রেক্ষাপটে শ্বেতাঙ্গদের কু ক্লাক্স ক্ল্যান আন্দোলনে কৌশলে ঢুকে পড়া কৃষ্ণাঙ্গ একজন গোয়েন্দা পুলিশের সত্যি গল্প নিয়ে।

সেরা পরিচালক হয়েছেন পোল্যান্ডের পাওয়েল পাউলোকস্কি। চল্লিশ থেকে ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে ভালোবাসার গল্প নিয়ে তিনি বানিয়েছেন ‘কোল্ড ওয়ার’।
মাত্তেও গারোনের ‘ডগম্যান’-এ দুর্ভাগা কুকুরের গ্রুমারের ভূমিকায় হৃদয়ছোঁয়া অভিনয় করে সেরা অভিনেতার পুরস্কার হাতে পেয়েছেন ইতালির মার্সেলো ফন্তে।

সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন সামাল ইয়েসলিয়ামোভা। কাজাখস্তানের সের্গেই দিভোর্তসেভয়ের ‘আইকা’য় কিরগিজ অভিবাসীর চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন তিনি।

সিনেমায় নতুন ধারার সিনেমা ‘দ্য ইমেজ বুক’-এর জন্য স্পেশাল পাম দ’র দেওয়া হয়েছে ফরাসি নির্মাতা জ্যঁ-লুক গদারকে।

সোনা জাপানে আর রুপা আমেরিকায় যাওয়ার আগে ব্রোঞ্জ অর্থাৎ জুরি প্রাইজ পেয়েছেন লেবাননের নারী নির্মাতা নাদিন লাবাকি। তার ‘কেপারনম’ ছবিতে দেখানো হয়েছে বেইরুতের বস্তিতে অবহেলিত শৈশবের চিত্র।

ব্যালেরিনা হওয়ার ইচ্ছে থাকা একজন হিজড়ার গল্প নিয়ে সাজানো ‘গার্ল’ ছবিটি বানিয়ে নতুন পরিচালক হিসেবে ক্যামেরা দ’র (সোনার ক্যামেরা) পেয়েছেন বেলজিয়ামের লুকাস দোন্ত।

ইরানে গৃহবন্দি নির্মাতা জাফর পানাহি ‘থ্রি ফেসেস’ ছবির জন্য স্বদেশি নাদের সায়েভারের সঙ্গে সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে এই স্বীকৃতি ভাগ করেছেন ইতালির নারী নির্মাতা অ্যালিস রোরওয়াচার। ‘হ্যাপি অ্যাজ লাজ্জারো’র চিত্রনাট্য তাকে এনে দিলো সম্মানটি।

গত ৮ মে শুরু হওয়া কান উৎসবের ৭১তম আসরে ১২ দিন সিনেমার জয়গানে মেতেছিলেন চলচ্চিত্রানুরাগীরা। শনিবার কানের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১টা) পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে বসে কানের সমাপনী আসর। পুরস্কার প্রদান শেষে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরের বাইরে লালগালিচায় সংগীত পরিবেশন করেন স্টিং ও শ্যাগি।

    Print       Email

You might also like...

SC Soudi ধূসর মরুর বুকে

ধূসর মরুর বুকে : সাঈদ চৌধুরী

Read More →