Loading...
You are here:  Home  >  সিলেট সংবাদ  >  Current Article

প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জে নিয়ে আসব: পানিসম্পদমন্ত্রী

image-35043-1522848245

আল্লাহর রহমতে আশা করছি এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে। আমি বলেছিলাম বাঁধের কাজের জন্য প্রয়োজন হলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জে নিয়ে আসব। আমরা সে কথা রেখেছি। আমি মিথ্যা কথা বলি না। হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব আন্তরিক। তিনি সব সময় খোঁজখবর নিয়েছেন হাওরের বাঁধের কাজের কী অবস্থা জানার জন্য। সরকার হাওরবাসীর পাশে আছে।

সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের সমাপ্তি ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কালে পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। বুধবার বেলা ১টায় জেলা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা, উপকারভোগী কৃষক, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেব। এই মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের জন্য রেকর্ড ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে সব টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। যে কারণে হাওরের ফসলের সুরক্ষায় বাঁধের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে ৯৪ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজও শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের কাজে এবার মানুষ সন্তুষ্ট। হাওরে দৃশ্যমান কাজ হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিক ছিলেন। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন।

তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করুন। আরও ১৫ দিন রাখলে ধানের পরিমাণ আরও বাড়বে। ধান নিয়ে জুয়া খেলবেন না । তাহলে সব হারাবেন। দ্রুততম সময়ে ধান কাটার ব্যবস্থা নিন- যাতে আগাম বন্যায় ক্ষতি করতে না পারে। আর আগামীতে আগাম জাতের ২৮ ধান রোপণ করুন। এই ধান বন্যা আসার আগে কাটা যায়।

পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনেক বদনাম রয়েছে। যে বর্ষার সময় আমরা কাজ করি। কিন্তু আজ সেটা কিছুটা হলেও মিথ্যা প্রমাণ করতে পেরেছি।

আমাদের মন্ত্রণালয়ের ডিজি অনেক বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন হাওরের জন্য। সব কাজ রেখে তিনি বেশির ভাগ সময় হাওরের খোঁজখবর বেশি রেখেছেন। সভায় উপস্থিত সুধীজন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অনুকূলে যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেসব প্রকল্প সঠিকভাবে মাপজোখ করে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হোক, যাতে সরকারি অর্থের অপচয় না হয়।

জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক, শাহনা রব্বানী এমপি, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার, উন্নয়নকর্মী জামিল চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক, হাজি আবুল কালাম, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সাবেক পিপি শফিকুল আলম প্রমুখ। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো.ইউসুফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে সভা চলাকালে সার্কিট হাউসের সম্মুখে দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী বিকালে হেলিকপ্টারে করে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা উপজেলার হাওরের বাঁধ ও ফসলের অবস্থা পরিদর্শন কবেন।

পরে তিনি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার নবনির্মিত বাঁধ পরিদর্শন করার উদ্দেশে সুনামগঞ্জ ত্যাগ করেন।

যুগান্তর প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ।

    Print       Email

You might also like...

FAF611CD-6B7F-4922-85EB-7D2B86FB6847

সম্পদে ভরা টাঙ্গুয়ার হাওর

Read More →