Loading...
You are here:  Home  >  দেশ জুড়ে  >  Current Article

বনানীতে চিরঘুমে আনিসুল হক

Anisul020171201220932
এক রাজার গল্প বলে নিজের টিভি অনুষ্ঠান অন্তরালের ইতি টেনেছিলেন আনিসুল হক, ভক্তদের চোখে সেই রাজার মতোই চির বিদায় নিলেন আনিসুল হক।

শনিবার বিকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে সমাহিত করার পর ভক্তরা বলেন, মেয়র হিসেবে আনিসুল হককে কখনও ভুলতে পারবেন না তারা।

ক্ষমতাসীন দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও আনিসুল হককে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন বিএনপি নেতারাও, নানা মতের ব্যবসায়ীরাও এক হয়েছিলেন সেখানে।

যে দল থেকে আনিসুল হক মেয়র হয়েছিল, সেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, ওই দায়িত্ব পালনের জন্য দ্বিতীয় আনিসুল হক আর পাওয়া যাবে না।

দুপুরে লন্ডন থেকে মরদেহ আসার পর বনানীর বাড়িতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের। তারপর কফিন নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে।

হাজারো মানুষ অংশ নেন আনিসুল হকের জানাজায়, স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে তা দেখানোও হয়।

আর্মি স্টেডিয়ামে আনিসুল হকের জানাজায় অংশ নেয় হাজারো মানুষ আর্মি স্টেডিয়ামে আনিসুল হকের জানাজায় অংশ নেয় হাজারো মানুষ
জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে বড় ছেলে নাভিদুল হক বলেন, “আমার বাবা সুখী মানুষ ছিলেন।

“তিনি তার বা পরিবারের স্বার্থে কখনও কাউকে কষ্ট দেননি। কারও খারাপ চাইতেন না কখনও। তারপরও কাজের খাতিরে আপনাদের কারও মনে তিনি কষ্ট দিয়ে থাকলে দয়া করে তাকে মাফ করে দেবেন।”

আগামী ৬ ডিসেম্বর গুলশানের আজাদ মসজিদে আনিসুল হকের কুলখানি হবে বলে জানান ছেলে নাভিদ।

বনানী কবরস্থানে শেষ শয্যা নিলেন আনিসুল হক বনানী কবরস্থানে শেষ শয্যা নিলেন আনিসুল হক
আনিসুল হকের মরদেহ আসার পর বিমানবন্দর থেকে বনানী কবরস্থান পর্যন্ত পুরো সময় উপস্থিত ছিলেন ভাই সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক।

চার মাস আগে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬৫ বছর বয়সী আনিসুল হক, ধরা পড়ে ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’য়ে আক্রান্ত তিনি।

এরপর অধিকাংশ সময় তিনি হাসপাতালে আইসিইউতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

আনিসুল হকের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আনিসুল হকের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা
এই পুরোটা সময় স্বামীর সঙ্গে থাকা রুবানা স্বামীর মরদেহ নিয়ে বনানীর বাড়িতে যাওয়ার পর সেখানে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রুবানা।

শেখ হাসিনা আনিসুল হকের মরদেহের সামনে মোনাজাত করেন। এরপর রুবানা ও তার সন্তানদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন।

বনানীর বাড়িতে আনিসুল হকের কফিনের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বনানীর বাড়িতে আনিসুল হকের কফিনের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরও সেখানে যান।

তোফায়েল সাংবাদিকদের বলেন, “একদিকে তার সততা ছিল, অন্যদিকে তার যোগ্যতা ছিল। যতদিন ঢাকা মহানগর থাকবে, মানুষের স্মৃতিতে তিনি অক্ষয় হয়ে বিরাজ করবেন।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন আনিসুল হকের কফিনে।

আমীর খসরু সাংবাদিকদের বলেন, “নির্দলীয় অবস্থান থেকে স্থানীয় সরকার যে চালানো যায়, উন্নয়ন করা যায়, সেটা (নজির) তিনি রেখে গেছেন।”

বিমানবন্দরে নামার পর আনিসুল হকের কফিন গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দরে নামার পর আনিসুল হকের কফিন গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আনিসুল হকের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালও যান আনিসুল হকের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে।

জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, “তিনি (আনিসুল হক) ঢাকা শহর নিয়ে যে স্বপ্ন দেখে গেছেন, কেউ না কেউ যেন তার স্বপ্নগুলো পূরণ করে তাকে শান্তি দেয়।”

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও বনানীর বাড়ির সামনে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। তাদের অনেকের চোখে ছিল পানি। সেখানে ছিলেন তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আনিসুল হকের বাড়িতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন আনিসুল হকের বাড়িতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন
তাদের একজন ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা কুতুবউদ্দিন মনে করেন আনিসুল হক বেঁচে থাকলে ঢাকা নগরীর কাজ আরও এগোত।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা হয়ত সিঙ্গাপুর হত না। কিন্তু এখন ঢাকা যেমন দেখছি, তার চেয়ে উন্নত হত নিশ্চয়ই।”

ঢাকার জন্য আনিসুল হক নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন বলে মনে করে গুলশানের বাসিন্দা বিশ্ব ব্যাংক কর্মকর্তা ঈশিতা আলম অবনী।

“একশ ভাগ নয়, আমি বলব তিনি নিজেকে দুইশ ভাগ উজাড় করে দিয়েছেন। আমার মনে হয় অতিরিক্ত কাজের চাপ তার শরীরের পড়েছিল।”

অসুস্থতা নিয়ে আনিসুল হকের জানাজায় গিয়েছিলেন অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদ অসুস্থতা নিয়ে আনিসুল হকের জানাজায় গিয়েছিলেন অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদ
আনিসুল হকের মতো নেতৃত্ব চাকরি জীবনে পাননি বলে জানান উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম।

“করপোরেশনে চাকরি করি আজ আঠারো-উনিশ বছর। তার মতো নেতৃত্ব আমরা পাইনি। পাব কি না তাও জানি না।”

আনিসুল হকের পথ ধরে তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার আশা প্রকাশ করেন মাহবুব।

বনানীর বাসায় নেওয়া হচ্ছে আনিসুল হকের মরদেহ বনানীর বাসায় নেওয়া হচ্ছে আনিসুল হকের মরদেহ
ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকে উপস্থিত হন বিজিএমইএ ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আনিসুল হকের বনানীর বাড়িতে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, “তিনি ছিলেন আমাদের ব্যবসায়িক লিডার। তার চলে যাওয়ায় দেশের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে।”

আনিসুল হককে এফবিসিসিআইর ‘সফলতম সভাপতি’ অভিহিত করেন তার মেয়াদের পর ওই দায়িত্ব পালনকারী এ কে আজাদ।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এফবিসিসিআইর সভাপতি ছিলেন আনিসুল হক। তার আগে বিজিএমইএর সভাপতিও ছিলেন তিনি।

মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুলের তৈরি পোশাক ছাড়াও বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন, কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা রয়েছে। ডিজিযাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেড এবং নাগরিক টেলিভিশনের মালিকানাও আছে তার ব্যবসায়িক গ্রুপের।

    Print       Email

You might also like...

_99020051_118554e0-4cc7-40ff-8584-4b472dbed2ff

পোপ বাংলাদেশে প্রথমবার ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করলেন

Read More →