Loading...
You are here:  Home  >  অর্থ ও বাণিজ্য  >  Current Article

বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী হবে সিলেট – আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার

27813BAA-D33F-4470-84E5-6519C3F80B1F

সাঈদ চৌধুরী |

বিজয় কীবোর্ডের জন্যই সকলের কাছে প্রিয় পরিচিত মোস্তফা জব্বার। প্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশে তার অবদান অনস্বীকার্য। প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এখন তার হাতে। তার নেতৃত্বেই ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী হবে সিলেট। আর সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে হচ্ছে হাইটেক পার্ক। এটি হবে দেশ প্রযুক্তিখাতে এগিয়ে যাবার নতুন মহাসড়ক। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পর্যটন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রবাসিদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা এবং তাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরী করা হবে।

২৯ এপ্রিল এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এমন অনেক কথা বলেছেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্র নেতা মোস্তফা জব্বার সাংবাদিক হিসেবেও ছিলেন সমধিক খ্যাত। ১৯৮৭ সালে তার আনন্দপত্র ছিলো দেশের প্রথম কম্পিউটারে বাংলা লেখা পত্রিকা। বিনোদন ম্যাগাজিন হিসেবে এফডিসির তারকাদের কাছে ছিল খুবই জনপ্রিয়।

মোস্তফা জব্বার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাংলা ভাষাকে প্রযুক্তির দুনিয়ায় নিয়ে আসার। আশির দশকে তার প্রতিষ্ঠান থেকেই জন্ম হয় বিজয় কিবোর্ডের। তিনি প্রযুক্তিবিদ হিসেবে এক নতুন পরিচিতি লাভ করেন।

মোস্তফা জব্বার জানালেন, তখন বর্ণমালা তৈরি করা ছিল সত্যি সত্যি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। হাজার বছরের বাংলা ভাষায় অক্ষর কমানো, যুক্তাক্ষর বর্জন, অর্ধবর্ণ ব্যবহার এবং রোমান বা আরবি হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগগুলোর অন্যতম একটি মাধ্যম ছিল বাংলা যুক্তবর্ণ। আমি স্বপ্ন দেখতাম, কবে কেমন করে এই যুক্তবর্ণের শেকল থেকে মুক্তি পাব। বিজয় সৃষ্টি করে সেই শেকলটা আমি ভেঙেছি।

মোস্তফা জব্বার আইসিটি মন্ত্রী হওয়ায় দেশের প্রযুক্তিবিদ এবং গণমাধ্যমের জন্যও বেশ আনন্দের। প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারকে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মোস্তাফা জব্বার সংসদ সদস্য না হওয়ায় তাকে মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে নেয়া হয়েছে। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিসি) চারবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আলাপচারিতায় মন্ত্রী হওয়ার সুবিধা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলেন তিনি। মোস্তফা জব্বার জানালেন, ৩ দশক ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি বলে আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সহজ হয়েছে। মন্ত্রী বললেন, প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষনা একটি বিপ্লবে রূপ নিয়েছে। শুধু শ্লোগান হিসেবে নয়, বাস্তবে ব্যাপক পরিসরে কাজ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা শিল্প যুগের আধুনিক স্তরে বসবাস করছি। এখন সময় হচ্ছে ডিজিটাল শিল্প বিল্পবের। শিক্ষা, চিকিৎসা, টুরিজম সহ আমাদের পুরো সমাজ কাটামোকে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে। এখন যদি সঠিকভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে না পারি, তাহলে পৃথিবীতে আমরা শ্রেষ্ঠতম দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব নয়।

মন্ত্রী জানান, রফতানির জন্য ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা এবং যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে করের হার কমিয়ে আনা হয়েছে। যন্ত্রাংশের শুল্কহার কমিয়ে দেয়ায় দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য তৈরির সুযোগ বেড়েছে।

মোস্তফা জব্বার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১৬ কোটি মানুষের জন্য যদি দেশীয় ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন করতে পারি, তাহলে একদিকে আমদানির বিকল্প তৈরি হবে, অন্যদিকে নিজেদের দেশের নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রটি শক্তিশালী হবে। ইতোমধ্যে সফটওয়্যার, সার্ভিস ও হার্ডওয়্যার রফতানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার ফলে সরকার ও বেসিস মিলে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছ।

তিনি আরো বলেন, স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ এখন দেশেই প্রস্তুত হচ্ছে। নেপাল, নাইজেরিয়া ও পূর্ব তিমুরে আমাদের তৈরি স্মার্টফোন ও কম্পিউটার রফতানি হচ্ছে। বিশ্ব বিখ্যাত স্যামসাং শিগগিরই বাংলাদেশে তাদের কারখানা চালু করবে। এতে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ হতে পারে অন্যতম বড় রফতানিকারক দেশ।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনকে এক নতুন মাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করে মোস্তফা জব্বার বলেন, আগামী ৭ মে সফলভাবে সম্পন্ন হলে আগস্ট মাস থেকেই এর সুফল পাওয়া যাবে।

পর্যটনকে একটি বহুমুখি খাত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি অর্থনীতির রন্দ্রে রন্দ্রে অবদান রাখে। একজন মুদি দোকানদার থেকে নৌকার মাঝি পর্যন্ত এর সুবিধা পায়। বাংলাদেশ এমনিতেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সমৃদ্ধ দেশ। এটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠিকে সামান্য প্রশিক্ষণ দিলে স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ দিলে সম্পদে রুপান্তরিত করতে পারি। পর্যটন শিল্পে তাদের সার্ভিস নিতে পারি।

সার্ভিস সেক্টর অর্থনীতির একটা বড় পিলার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা প্রচলিত সার্ভিসের সাথে ডিজিটাল সার্ভিস যুক্ত করছি। এতে ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষিত মানুষদের কর্মসংস্থান তৈরী করা যাবে।

সিলেট অঞ্চলকে নিয়ে তার ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সিলেটকে আমরা একটু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখে আসছি। একারণেই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে হাইটেক পার্ক হচ্ছে। ৫০০ একর জায়গা নিয়ে চমৎকার পরিবেশ বান্ধব হাইটেক সিটি নিমার্ণের কাজ চলছে। এটি যখন দৃশ্যমান হবে, আমি বিশ্বাস করি পুরো দেশ এমনকি পৃথিবির কাছে একটি দৃশটান্ত হিসেবে পরিগনিত হবে। এরপাশাপাশি আমরা সিলেট নগরটাকে ডিজিটাল করতে চাচ্ছি। এই প্রকল্পও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া আমরা সিলেটে নগর কেন্দ্রিক একটি আইটি হাব তৈরী করতে সচেষ্ট। সিলেটের যে পরিবেশ, তার যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা সবগুলোকেই আমরা কাজে লাগাতে চাই।

মন্ত্রী বলেন, সিলেটের সম্ভবনার একটি বড় জায়গা হচ্ছে, সিলেটে বিনিয়োগের জন্য সিলেটের মানুষই পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে আছেন। তারা যদি নিজের দেশে নিজের মাটিতে কিছু করার যথাযথ সুযোগ পান, তাদের যদি আমরা সেই পরিবেশ দিতে পারি, আমার বিশ্বাস তারা এখানে বিনিয়োগ করতে অনেক বেশী আগ্রহী হবেন। আমি দেখেছি যারা আমাদের প্রবাসী সিলেটি আছেন, তারা এক টুকরা জমিও যদি সিলেটে পান, তাহলে সেখানে একটি স্থাপত্য তৈরী করেন এবং সেটিকে তার নিজের ঠিকানা বলে মনে করেন। আমরা তাদের জন্য ডিজিটাল যুগের ঠিকানা হিসেবে যেন সিলেটকে ব্যবহার করতে পারেন, সে সুযোগ করে দিতে চাই।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে বহু দেশ আছে যারা শুধুমাত্র পর্যটনের উপর নির্ভর করে। যেমন মালিদীপ ও নেপাল। এই দেশগুলোর জিডিপির বড় অংশ কোন কোন ক্ষেত্রে ৯০ ভাগ আসে পর্যটন থেকে। তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গুলোকে বিশ্ববাসির কাছে বাজারজাত করে এটি অর্জন করে থাকে। আমাদের এই সুযোগটা অনেক আছে। ইতোমধ্যে সিলেটে এ ধরণের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত হোটেল এন্ড রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। সম্ভাবনা আরো অনেক আছে। আপনারা যারা এগিয়ে এসছেন, তাদের স্বাগত জানাই। এক্ষেত্রে সরকার থেকে সব ধরণের সহায়তা প্রদান করা হবে।

পর্যটন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রবাসিদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য একটি প্রতিনিধি দল ব্রিটেন সফর করবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমাদের জন্য বাড়তি সুযোগ হচ্ছে দুটি। একটি হচ্ছে পর্যটন খাত আমাদের জিডিপিতে অবদান রাখবে। আরেকটি হচ্ছে পর্যটন শিল্পে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃস্টি হবে। এই দুটি সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই।

    Print       Email

You might also like...

BB_press-

স্বর্ণ অন্য ধাতু হওয়ার বিষয় সঠিক নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

Read More →