Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

বাংলাদেশের মেয়ে মার্গারিতা স্বর্ণ জিতলেন রাশিয়ার হয়ে

Margaমাহাথির মোহাম্মদ কৌশিক: জিমন্যাস্টিকসে রাশিয়া আধিপত্য বেশ পুরনো। এবারের রিও অলিম্পিকে যেন সেটা আরো একবার প্রমাণিত হলো। সেখানে আবার জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের নাম। জিমন্যাস্টিকসে মেয়েদের একক অল অ্যারাউন্ড ইভেন্টের ফাইনালে স্বর্ণপদক জিতেছেন মার্গারিতা মামুন। তার এ স্বর্ণ জয়ে আনন্দিত রাশিয়া। রাশিয়ার হয়ে রিও অলিম্পিকে যাওয়া এ জিমন্যাস্টের সাফল্যে আরও একটি দেশ আনন্দিত হবে, দেশটি হালো বাংলাদেশ। কারণ মার্গারিতা মামুন একদিক থেকে বাংলাদেশেরও নাগরিক। রাশিয়ার মস্কোয় জন্ম নেয়া মার্গারিতার বেড়ে ওঠাও রাশিয়াতে। কিন্তু তার বাবা বাংলাদেশী, নাম আবদুল্লাহ আল মামুন। সেই সুবাদে রাশিয়ার হয়ে স্বর্ণ জিতলেও অলিম্পিকে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেন মার্গারিতা মামুন। অবশ্য তার এ সাফল্যে বাংলাদেশের নাম জুড়ে যাওয়া বাদে অফিসিয়ালি কোনো অর্জন আসছে না। অলিম্পিকে বাংলাদেশের পদক জয়ের তালিকা শূন্যই থাকবে। কিন্তু বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমে অলিম্পিক স্বর্ণপদকের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম জুড়ে যাওয়াও কম গৌরবের নয়। রিদমিক জিমন্যাস্ট ইভেন্টে রাশিয়াকে টানা পঞ্চমবার স্বর্ণপদক এনে দেয়া মার্গারিতাও বাবার দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পেরে খুশি। অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি জানালেন, ‘এমন সাফল্য ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমি সত্যিই খুশি যে বাবার দেশে আমার অনেক সমর্থক আছে এবং তারা আমাকে সমর্থনও করে। তাই এ স্বর্ণজয়কে আমি দুই দেশের স্বর্ণজয় হিসেবে দেখছি।’ ছোটবেলায় বাংলাদেশের হয়ে একটি প্রতিযোগিতায় খেলেছেন মার্গারিতা। বাবার কাছ থেকে বাংলা কথা বলার তালিমও নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সব ভুলে গেছেন বলে জানালেন প্রথমবার অলিম্পিক স্বর্ণ জেতা এ জিমন্যাস্ট, ‘আমি বাংলায় ১ থেকে ১০ বলতে পারতাম। বাবা শিখিয়েছিলেন। কিন্তু এখন ভুলে গেছি। যেহেতু আমার দুই দেশের নাগরিকত্ব ছিল, তাই ছোটবেলায় বাংলাদেশের হয়ে প্রতিযোগিতাও করেছি। কিন্তু অধিকাংশ সময় রাশিয়ায় থাকা হয় বলে রাশিয়ার হয়েই বেড়ে উঠেছি।’ বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ায় মার্গারিতাকে রাশিয়া অলিম্পিক দলের সবাই ‘বেঙ্গল টাইগার’ বলে ডাকেন। ফাইনালে স্বদেশীয় ফেভারিট ইয়ানা কুদ্রাইয়াভতসেভাকে হারিয়ে স্বর্ণ জেতেন তিনি। প্রতিযোগিতায় হুপ, বল, ক্লাব ও রিবন চার প্রদর্শনীতে মোট ৭৬.৪৮৩ স্কোর করেন মার্গারিতা। কিন্তু প্রতিপক্ষ ইয়ানা রিবন প্রদর্শনীর সময় হাত থেকে রিবন পড়ে যাওয়ায় অনেক পিছিয়ে যান। ফেভারিট প্রতিদ্বন্দ্বীর এ ভুলে বিস্মিত স্বর্ণজয়ী মার্গারিতা, ‘ভাবতেই পারিনি ইয়ানা ভুল করবে। সে অনেক সফল। প্রতিবারই আমাকে তার পেছনে থেকে শেষ করতে হয়। কিন্তু এবার সম্ভবত ভাগ্য ভালো। তাই ইয়ানার আগে থেকে পদক জিতলাম।’
বাংলাদেশের হয়েই খেলতে চেয়েছিলেন
বাবা এই দেশের নাগরিক হওয়ায় তার টানও ছিল এখানকার মানুষের প্রতি। সে কারণে শুরুটা করেছিলেন এখানে। বাংলাদেশের অলিম্পিক শেষ হয়ে গেছে আরও অনেক আগেই। সিদ্দিকুর-বাকী-শ্যামলীরা রিও থেকে দেশে ফিরে এসেছেন বেশ ক’দিন হয়ে গেছে। এরপরও টিভি পর্দার সামনে বাংলাদেশের অনেকেই অধীর আগ্রহ নিয়ে বসেছিলেন। আর যতবারই ধারাভাষ্যকাররা ‘মামুন’ নামটা উচ্চারণ করছিলেন, ততবারই একটা আবেগ-রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে। নামটা যে ভীষণ পরিচিত। ওই নামের মেয়েটি রাশিয়ান রিদমিক জিমন্যাস্ট হলেও তার সঙ্গে একাত্মবোধ করেছে এ দেশের মানুষ, তার সাফল্য কামনা করে গেছে টিভির সামনে বসে। মার্গারিটা মামুন রিটা আসলে বাংলাদেশেরই সন্তান। পিতৃভূমির হয়ে খেলার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন ক’বছর আগে। কিন্তু এ দেশে রিদমিক জিমন্যাস্টের প্রচলন না থাকায় সেটা হয়ে ওঠেনি। তাই মায়ের দেশ রাশিয়ার হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন রাজশাহীর এ মেয়ে। তার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন রাজশাহীর মানুষ। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুন আশির দশকে পড়াশোনা করতে গিয়ে রাশিয়ায় থিতু হয়ে যান। বিয়ে করেন সাবেক রাশিয়ান রিদমিক জিমন্যাস্ট আনাকে। মস্কোতে জন্ম নেয়া রিটাকে রিদমিক জিমন্যাস্ট হিসেবে গড়ে তোলেন মা। তবে রাশিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও পিতৃভূমি বাংলাদেশের প্রতি ভীষণ টান রিটার। যেটা বোঝা যায় স্বর্ণ জয়ের পর সংবাদ মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকার থেকে, ‘এই জয় দুই দেশের জন্য। আমি দুই দেশের নাগরিক। রাশিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশও আমার দেশ। জুনিয়র পর্যায়ে একটি প্রতিযোগিতায় আমি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলাম।’ পিতৃভূমির প্রতি টান থেকেই বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রিটা। আগ্রহটা আসলে বেশি ছিল তার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুনের। মেয়েকে রাজি করানোর পর ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এসে ঢাকায় জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের কর্তাদের পেছনে বেশ কিছুদিন ঘোরাঘুরি করেছেন তিনি। কিন্তু ফেডারেশন কর্তাদের কাছ থেকে কোনো রকম সাড়া পাননি। পরে বিফল মনোরথে রাশিয়া ফিরে যান তিনি। মেয়েকে দেশের হয়ে খেলানোর জন্য আবদুল্লাহ মামুন যে তাদের পেছনে ধরণা দিয়েছেন সেটা স্বীকার করেছেন জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুল আলম বাবলু। ওই সময় তিনি ছিলেন ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আবদুল্লাহ আল মামুনের কথায় সাড়া না দেয়ার পেছনে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তার কথায় আমরা যে কান দেব, সে উপায় তো ছিল না। রিদমিক জিমন্যাস্টের প্রচলন আমাদের এখানে তেমনভাবে নেই। আর এ ইভেন্টের পেছনে প্রচুর খরচ হয়। ফ্লোর বানাতে, কোচ আনতে অনেক অর্থ লাগে। আমাদের সে সামর্থ্য নেই।’ তবে ভবিষ্যতে রিটাকে বাংলাদেশে এনে এ দেশের জিমন্যাস্টের উন্নয়নে সহযোগিতা চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিষয়টি মোটেও কঠিন কিছু নয়। কারণ রিটা বাংলাদেশে প্রায়ই আসেন। রাজশাহী থেকে তার চাচি জানিয়েছেন, গত বছরও বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ঘুরে গেছেন কুড়ি বছরের এ তরুণী। তার চাচি আরও জানান, আবদুল্লাহ আল মামুনের নাকি ভীষণ ইচ্ছা ছিল তার মেয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করুক; শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এরপরও বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চিতভাবেই তাদের সন্তানের সাফল্যে গর্বিত।
আবারো দেশে আসর পরিকল্পনা
অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতার পর এখন বড় তারকা মার্গারিতা মামুন। কিন্তু একমাস আগেও এই পরিস্থিতি ছিলনা। তবু আবারো বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ‘এই স্বর্ণপদক জয় দু’দেশের জন্য’, রিও অলিম্পিকে রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সের ব্যক্তিগত অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ জেতার পর মার্গারিতা মামুনের এই উচ্ছ্বাস বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। মার্গারিতা রুশ জিমন্যাস্ট হলেও তার বাবা একজন বাংলাদেশী। মা রাশিয়ান। মার্গারিতার তাই প্রচ- টান তার বাবার দেশ বাংলাদেশের প্রতি। ২০০৯ সালে ১৩ বছর বয়সে শেষবার বাংলাদেশে এসেছিলেন মার্গারিতা। আবার এদেশে আসবেন রিও অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী এই রিদমিক জিমন্যাস্ট। মার্গারিতার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন কথা দিয়েছেন, আবার মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন। একথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। গত বছর জুনে মস্কো সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রুশ-বাংলাদেশী জিমন্যাস্ট মার্গারিতার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব জয়ে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘মামুন ভাই আমাকে কথা দিয়েছেন, অলিম্পিক শেষে তিনি তার মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন। তখন ‘বাংলার বাঘিনী’কে এরচেয়ে বড় ফুলের তোড়া দেয়া হবে।’ একথা এজন্যই বলা যে, সেবার মস্কো সফরে গিয়ে মার্গারিতার হাতে একটি ফুলের তোড়া তুলে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেটি ছিল ছোট। তাই এবার বড় একটি ফুলের তোড়া তিনি উপহার দেবেন মার্গারিতাকে। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই রুশ জিমন্যাস্টের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয় উদযাপনে তিনি যে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন, সেকথাও ফেসবুকে লিখেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ২০ বছর বয়সী ‘বাংলার বাঘিনী’ মার্গারিতার জন্ম মস্কোয়। তার মাও একজন জিমন্যাস্ট ছিলেন। মার্গারিতা এই খবর শুনে ভীষণ খুশি যে, বাবার দেশে উদযাপন করা হচ্ছে তার জয়। জুনিয়র পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মার্গারিতা বলেন, ‘এটা জেনে আমি সত্যি খুশি হয়েছি যে, বাংলাদেশে আমার অনেক ভক্ত রয়েছে। যারা আমাকে সমর্থন জোগায়। শৈশবে বাবার কাছে বাংলা শিখেছেন। মার্গারিতা বলেন, ‘আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব। তাই জুনিয়র পর্যায়ে আমি একটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিই। রাশিয়ায় ফিরে আসি এই দেশের হয়ে অংশ নিতে। কেননা আমি রাশিয়ায় থাকি। এখানেই অনুশীলন করি।’
জিতলেন ডাবল
আগের দিন রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সের একক অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে রাশিয়াকে স্বর্ণপদক জিতিয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্গারিতা মামুন। এবার রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সের দলগত অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টেও সেরা হলো রাশিয়ার মেয়েরা। টানা পাঁচ অলিম্পিকে রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সের ‘ডাবল’ জিতল রাশিয়া। পাঁচ রিবনের প্রথম রুটিনে স্পেন ও বুলগেরিয়ার পেছনে পড়েছিল রাশিয়া। কিন্তু তিন ক্লাব ও দুই হুপের পরের রুটিনে অনবদ্য ভারসাম্য ও কলাকৌশল দেখিয়ে পয়েন্টের ঘাটতি মিটিয়ে স্বর্ণপদক জিতে নেয় রুশ মেয়েরা। দুই রুটিন মিলিয়ে তাদের পয়েন্ট ৩৬.২৩৩। স্পেন ৩৫.৭৬৬ পয়েন্ট নিয়ে রুপা ও বুলগেরিয়া ব্রোঞ্জ জেতে।

    Print       Email

You might also like...

Khaleda Zia

খালেদার জামিন: নথি আসার পর আদেশ

Read More →