Loading...
You are here:  Home  >  দেশ জুড়ে  >  Current Article

বাংলাদেশে ঈদের যাত্রায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল

c7cbda0e92fede39a9cde4514582ca7e-59a94765d5e63
কাল ঈদ। সবাই ধরেছে বাড়ি ফেরার পথ। অথচ সড়ক দুর্ঘটনায় কারও কারও ঈদ এখন পরিণত হয়েছে বিষাদে। গতকাল দিবাগত রাত থেকে আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু, শ্রমিকসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ ও আতুরার ডিপো এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বশির আহমেদ (৩৫) ও মোহাম্মদ সোহেল (৩২)। বশিরের বাড়ি ভোলা সদরে। আর সোহেলের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, নগরের হামজারবাগ এলাকায় একটি ট্রাক রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে রিকশাচালক বশির নিহত হন। আর আতুরার ডিপো এলাকায় ট্রাকচাপায় মৃত্যু হয় সোহেলের।

গাজীপুরের শ্রীপুরের এমসি বাজার এলাকায় দুটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তুষার (২০) নামের এক তরুণ। আজ শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তুষার ঈদে বাড়ি ফিরছিলেন বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটি পিকআপ ভ্যানের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন তুষার। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তুষারের মৃত্যু হয়। পিকআপ ভ্যান দুটিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আমিড়া গ্রামে চলন্ত ভটভটি থেকে পড়ে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিফাত আমিড়া স্থানীয় মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছেন, ভটভটিতে করে বাড়িতে আসার সময় অসাবধানবশত পড়ে যায় রিফাত। ভটভটির চাকার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় সে।

নড়াইলের কালিয়া-খুলনা সড়কের বেন্দা কাজী ভিলার সামনে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন সুজন শেখ (৩০) নামের এক তরুণ। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন খুলনার দীঘলিয়া উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের ইমরান শেখের ছেলে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শমসের আলী বলেন, সুজন ট্রলির চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি। আহত ট্রলিচালক আল আমিনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ যাত্রী।
ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আল রিয়াদ পরিবহনের ওই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার বিশ মাইল কলাবাগান এলাকায় একটি খাদে পড়ে যায়। নিহত দুজন হলেন বাসের সুপারভাইজার রাজা মিয়া (৩৫) ও যাত্রী মফিদুল ইসলাম (৩০)। দুজনেরই বাড়ি নীলফামারী শহরে। আহত লোকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, বাসটি এখনো খাদে পড়ে আছে। লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। চালক পালিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কের সাতকানিয়ার নয়াখাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিনজন হলেন সাতকানিয়া পৌরসভার মোমিন চৌধুরীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (৩২), গিয়াসের স্ত্রী সৈয়দা নুরুন্নাহার (২৩) ও সাতকানিয়া উপজেলার আজিজুল ইসলাম (৬০)। দুর্ঘটনায় আহত লোকজনকে প্রথমে কেরানীহাটের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিলাসী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস আরেকটি বাসকে অতিক্রম করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন যাত্রী নিহত হন।
আহত যাত্রীদের অভিযোগ, বাসটি খুব দ্রুতগতিতে চলছিল এবং চালক বারবার সামনের অন্য গাড়িগুলোকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিলেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, লাশগুলো পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন। বাসের চালক পালিয়ে গেছেন।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যাত্রীবাহী বাস ও হিউম্যান হলার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে হিউম্যান হলারের চালক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া চালকের সহকারীসহ দুজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পোস্টকামুরি চড়পাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত কারও পরিচয় পাওয়া যায়নি।
মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, মরদেহ তাঁদের হেফাজতে রয়েছে।

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে আবুল হোসেন (৫২) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও ২০ যাত্রী। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আল্লাহর সহায় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই আবুল হোসেনের মৃত্যু হয়। তিনি খুলনার ফুলতলার ক্রিসেন্ট জুট মিলসের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। দুর্ঘটনায় আহত লোকজনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    Print       Email

You might also like...

_97944134_gettyimages-846527948

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে এখনও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ

Read More →