Loading...
You are here:  Home  >  প্রবাস  >  Current Article

বাংলার পরশমণি ছুঁইয়ে চলছে বাণীতীর্থ

d416807c0d2a063a29b68a0da6e59baa-5b1392a9cbc3e

আনিসুল হক : বোস্টনের উপশহর বেডফোর্ডের একটা মিলনায়তনে ঢুকতেই স্পষ্ট বাংলা সংলাপ শুনতে পেলাম।

একটা শিশু বলছে, ‘আমার জীবনই বৃথা।’ এই শিশু-কিশোরেরা দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি আমেরিকান। তাদের বাবা-মায়েরা কেউ বা এসেছেন বাংলাদেশ থেকে, কেউ বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে। এরা সবাই বোস্টন এলাকার বাংলা স্কুল বাণীতীর্থের শিক্ষার্থী। ১০ জুন এই স্কুল উদ্‌যাপন করবে তাদের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

কনকর্ড ম্যাসাচুসেটস হেনরি ডেভিড থরো এলিমেন্টারি স্কুলের অডিটরিয়ামে বাঙালি-আমেরিকান শিশু-কিশোরেরা ১০ জুন গাইবে বাংলা গান। মঞ্চস্থ করবে চার নাটিকার অংশবিশেষ।

মহড়া হচ্ছে ‘হ-য-ব-র-ল’, ‘তাসের দেশ’, ‘রামায়ণ’ আর ‘আলিবাবা ও চল্লিশ চোর’ নাটকের।

728e9673968351fbd1e9532d994fe60f-5b1408b1851ae

আমেরিকায় জন্ম নেওয়া, আমেরিকার স্কুলপড়ুয়া খুদে অভিনেতারা বাংলায় সংলাপ বলছে। কোরিওগ্রাফিতে অংশ নিচ্ছে। গান বাজছে, আর ওরা গানের তালে কখনো বা নেচে উঠছে। সীতাকে বনবাসে নেওয়া হচ্ছে, হনুমান সেজে একদল শিশু মজার অঙ্গভঙ্গি করছে।

গোপাকুমার, অরুন্ধতী ঘোষ, শিবাজী নিয়োগী, তাহাম্মা আবিদ, মোহাম্মদ ফয়েজ, সঞ্চিতা বসু কোমর বেঁধে রিহার্সাল করাচ্ছেন।

দুজন বসে আছেন ল্যাপটপ নিয়ে। আবহ সংগীতের দায়িত্ব তাঁদের। বাচ্চারা খুব ভালো করছে। তারা খুবই সিরিয়াস। জানপ্রাণ ঢেলে দিয়ে তারা সংলাপ বলছে। নাচের মুদ্রার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। কিন্তু তাদের নির্দেশকেরা আরও বেশি নিষ্ঠাবান। তাদের চোখে-মুখে বিন্দুমাত্র গাফিলতিও নেই। তাদের চলনেবলনে একটুখানি ঢিলেমিও দেখা যাচ্ছে না।

তাসের দেশের প্রেক্ষাপট বাংলায় পড়ে শোনাচ্ছে তানাজ আবিদ। আর ইংরেজিতে শোনাচ্ছে রাজীব রাঘবান। তাসের দেশের কঠোর যান্ত্রিকতার মধ্যে মানবিক গান, সুর, হইহল্লা আনছে দুই মানুষ। ‘চলো নিয়মমতে’—তাসের দেশের এই নিয়মকানুন ভেঙে পড়ছে।

বাণীতীর্থের মহড়া দেখে মনে হলো, আমেরিকার এই যান্ত্রিক জীবনে বাঙালিরা যেন একটু প্রাণের স্পন্দন বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বাণীতীর্থ ৩৫ বছর ধরে নতুন প্রজন্মকে বাংলা শেখানোর প্রয়াস ক্লান্তিহীনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। মহড়ার ফাঁকে ঝালমুড়ি আর দেশি কায়দার দুধ-চা থাকে অফুরন্ত।

৩৫ বছর আগে রঞ্জন রায় এই বাণীতীর্থ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জ্যোতির্জীবন ভট্টাচার্য, সুজাতা ভট্টাচার্য—তাঁরাও প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। এখনো এই স্কুলে সময় ও শ্রম দিয়ে আসছেন তাঁরা। স্কুলের হাল ধরে আছেন গোপাকুমার আর তাহাম্মা আবিদ। তাঁদের প্রত্যেকের আছে আলাদা পেশা, আলাদা কাজ। বাংলা স্কুলে তাঁরা দিয়ে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাশ্রম।

৩৫ বছরে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী বাংলা বলা, লেখা, আর পড়া শিখেছে এই স্কুলে। তাদের পরিচয় ঘটেছে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে। উপমহাদেশের ইতিহাস-ভূগোলও তারা শিখেছে।

স্কুলের স্নাতকেরা কলেজে বিদেশি ভাষার কোর্স হিসেবে এই সনদ দেখাতে পারে। তারা বাংলায় বিতর্ক করে, কখনোবা আলপনা আঁকে, গান করে, নাটক করে, পত্রিকা প্রকাশ করে।

তবে এ স্কুলের আসল উদ্দেশ্য বাংলার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়া। বাণীতীর্থ বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পরশমণি ছুঁইয়ে চলেছে প্রাণে প্রাণে।

    Print       Email

You might also like...

6E9CDCB1-BD6A-4EF0-B757-0FA600FF9A44

মালয়েশিয়া থেকে ফিরতে পারে লক্ষাধিক বাংলাদেশি

Read More →