Loading...
You are here:  Home  >  সিলেট সংবাদ  >  Current Article

বালু ব্যবসায়ী কামরান আরিফ পালেন গরু!

image-145211

সজল ছত্রী, সিলেট: না, মোটেও চমক দেওয়ার জন্য শিরোনাম নয়। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই দুই হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীকে নগরবাসী চেনেন ‘ফুলটাইম’ রাজনীতিক হিসেবে। রাজনীতি করার কারণে নিজের পরিবারকেও প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেন না তারা। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বলছে, তাদের কারোর পেশাই ‘রাজনীতি’ নয়। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া নয়জনের মধ্যে মাত্র একজন পুরোদস্তুর রাজনীতিক। বাকিদের কেউ মাইকিং করেন অন্যের হয়ে, কেউ মুদি দোকানদার, কেউ গরুর খামার করেন, কেউ আইনজীবী, চিকিৎসক বা ব্যবসায়ী।

নয় প্রার্থীর মধ্যে ‘উচ্চ মাধ্যমিক পাস’ বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বালু-পাথর সরবরাহকারী ও কমিশন এজেন্ট। আর ‘স্বশিক্ষিত’ আরিফুল হক চৌধুরীর আছে গরুর খামার; আছে একটি ফিলিং স্টেশনও। তাদের আয়ের মূল উৎস এগুলোই।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, স্নাতক উত্তীর্ণ বদরুজ্জামান সেলিম পেশায় একজন মুদি দোকানদার। সিলেট শহরের জিন্দাবাজারে তার একটি ‘ভুসিমালের দোকান’ রয়েছে। জামায়াতের ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পেশায় আইনজীবী। মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান পেশায় চিকিৎসক। স্বশিক্ষিত কাজী জসিম উদ্দিন অন্যের হয়ে মাইকিং করেন। দাখিল পাস এহসানুল হক তাহের বই ব্যবসায়ী। শহরের জিন্দাবাজারে রয়েছে তার লাইব্রেরি। উচ্চ মাধ্যমিক পাস মুক্তাদির হোসেন তপাদার ফল আমদানি করেন। একমাত্র সিপিবি-বাসদের প্রার্থী আবু জাফরই পুরোদস্তুর রাজনীতিক। হলফনামা অনুসারে তার মূল পেশা হচ্ছে রাজনীতি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সবিস্তার হলফনামা জমা দেওয়ার প্রচলন শুরুর পর থেকে এমন সব চমকপ্রদ তথ্য পেয়ে আসছে জনগণ। এবারের সিলেট সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে হলফনামা জমা দিয়েছেন ২০৯ প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরীর হলফনামার নানান তথ্য নিয়ে চলছে আলোচনা। এ দুজনের মধ্যে গত পাঁচ বছরে একজনের আয় কমেছে, অন্যজনের কমেছে সম্পদ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান, সব প্রার্থীর তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা বলছে, গত পাঁচ বছর মেয়র থাকলেও আয় কমেছে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর। সম্পদ কমে গেছে পরপর দুবার মেয়র থাকার পর গত পাঁচ বছর নগরভবনের বাইরে থাকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের। তবে তাদের দুজনের স্ত্রীরই বেড়েছে সম্পদ ও আয়ের পরিমাণ।
আরিফ বলছেন, প্রায় দুবছর কারান্তরীণ থাকায় অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে আয় কমেছে তার। হলফনামায় তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। তবে অস্থাবর সম্পদের মূল্য উল্লেখ করেননি তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে ৮ একর কৃষিজমি ও সাড়ে ৫ একর অকৃষিজমি। রয়েছে ৩টি সেমিপাকা ও দুটি বহুতল পাকা দালান।

আর কামরান বলছেন, তার স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২৪ লাখ টাকা। তবে হলফনামায় দেওয়া বিবরণীর চেয়েও বাস্তবে তার সম্পদ আরও কম বলে দাবি করেন তিনি।

    Print       Email

You might also like...

Sylhet-1-3

উন্নয়ন ও পরিবর্তনের অপেক্ষায় নগরবাসী -এডভোকেট জুবায়ের

Read More →