Loading...
You are here:  Home  >  অর্থ ও বাণিজ্য  >  Current Article

বিদেশি ঋণে সতর্ক সরকার

Kalerkantho_18-07-06-02

রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং অর্থনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়েই সরকার বিদেশ থেকে ঋণ নেয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘নাম বলতে চাই না, এমন একটি জায়গা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে আমি এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) বা ভারত সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিতে বেশি পছন্দ করব।’

গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় বিআরআই এবং বিবিআইএনের গুরুত্ব’ শীর্ষক দুই দিনের কোসাট আঞ্চলিক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ যদি ক্রমাগত অর্থনৈতিকভাবে কার্যকরী নয়—এমন প্রকল্পের জন্য ঋণ নিতে থাকে। তাহলে এটি ঋণগ্রস্ত দেশ হয়ে পড়বে। আমরা যদি পাঁচ বিলিয়ন ডলার খরচ করে পদ্মার ওপর রেললাইন বানাই, তবে এটি শ্বেতহস্তীতে পরিণত হবে।

চীনের কাছ থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া প্রসঙ্গে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি যদি না চাই, কেউ আমাকে টাকা দিতে পারবে না। আমাদের সরকার ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক। আমরা তখনই ঋণ নেই, যখন প্রয়োজন হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি লজ্জার বিষয় যে আমরা নেপালের চেয়ে সোমালিয়া থেকে বেশি আমদানি করি। আমরা কেন নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য করি না? আমাদের মধ্যে অবিশ্বাস ও ভয় আছে। এগুলো দূর করতে হবে। কারণ অবিশ্বাস ও ভয়ের কারণে অতীতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

ভারত বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও দেশটির আরোপ করা নানা অশুল্ক বাধার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে এম এ মান্নান বলেন, এগুলো দূর করার জন্য আমরা আলোচনা করছি। এ ক্ষেত্রে শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না। শুল্ক, অশুল্ক বাধা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

চীনের বেল্ট ও রোড উদ্যোগ (বিআরআই) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এটি আমাদের জন্য ভালো হবে। চীন আমাদের থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরে। আমাদের কৌশল হচ্ছে আমরা বড় পরিসরে বিষয়টা দেখছি ও সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে চীন ও ভারতের সঙ্গে আন্ত যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার খোলামনে সব দেশের সঙ্গেই আন্ত যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় চীন ও ভারতের সঙ্গে এই সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার। এ জন্য বিআরআই এবং বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এ দুটি উদ্যোগের বাস্তবায়ন চাই আমরা।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আঞ্চলিক যোগাযোগকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সে কারণেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল, সড়ক, বিমান ও নৌপথে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। একই সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও যোগাযোগ বেড়েছে। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিআরআই চীনের উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা পূর্ব দিকে যোগাযোগ বাড়াতে পারব। আর বিবিআইএন প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে। তাই দুটি উদ্যোগই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নেপালের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক ড. নিশ্চল এন পাণ্ডে বলেন, বিআরআই ও বিবিআইএন বড় দুটি দেশের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও ছোট দেশগুলো এখান থেকে অনেক লাভবান হবে। তাই এই দুই উদ্যোগ থেকে কিভাবে লাভবান হতে পারি, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন নেপালের সাবেক বাণিজ্যসচিব পুরুষোত্তম ওঝা, রিজিওনাল সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক গামিনী কিরাওয়ালা, ভারতের ফোরাম ফর স্ট্র্যাটেজিক ইনিশিয়েটিভের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) দীপঙ্কর ব্যানার্জি, বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান প্রমুখ। এ সময় সামরিক কর্মকর্তা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

    Print       Email

You might also like...

1448718514449

একইদিনে দুই ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে পলকের হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস

Read More →