Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধান নির্বাহী হামিদ আজাদ : আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল ‘মুসলিম এইড’

Hamid Azadসময়২৪: আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক দাতব্য সংস্থা মুসলিম এইডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) হামিদ আজাদের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন উন্নয়ন ও সহায়তা সেক্টরের সংবাদ মাধ্যম  থার্ড সেক্টর এর রিপোর্টার স্যাম বার্ন জেমস। সাক্ষাৎকারে হামিদ আজাদ মুসলিম এইডের বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং সংস্থার  সম্প্রসারণ, স্বচ্ছতা, দাতব্য ও উন্নয়ন জগতে এর অবস্থান সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
হামিদ আজাদ  কি শেষ পর্যন্ত এই শীর্ষ অবস্থানে আসতে পেরে সন্তুষ্ট? স্যাম বার্নের এমন প্রশ্নের জবাবে মুসলিম এইডের সিইও বলেন, এটা আমার ১০ বছরের সেবা  ও উন্য়ন মূলক কার্যক্রমের  একটি ইতিবাচক স্বীকৃতি। প্রত্যেক মানুষেরই পেশাগত উন্নয়নের একটি পরিকল্পনা থাকে। মানব সেবা উন্নয়ন কর্মে সম্ভব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার ব্যাপারে আমার পরিকল্পনা ছিলো এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দয়ায় আমি তা অর্জনে সক্ষম হতে পেরেছি।
হামিদ আজাদ বলেন, ২০১২ সালে এই দাতব্য সংস্থার আয় ছিলো ২৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০১০ ও ২০০৮ সালেও এর পরিমান প্রায় কাছাকাছি ছিলো, তবে ২০১১ সালে ৩৩ দশমিক ৩ এবং ২০০৯ সালে ৪৪ মিলিয়ন পাউন্ডে বৃদ্ধি পায়। তিনি আরো বলেন, অর্থের উঠানামা বিভিন্ন সরকারী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে মঞ্জুরির পরিবর্তনশীল অবস্থার কারণে হয়ে থাকে। ব্যক্তি পর্যায়ে দানের অর্থের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে বলে তিনি জানান।
হামিদ আজাদ  আরো বলেন, তার প্রথম বছরগুলোতে দাতব্য সংস্থাটি যখন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছিলো, তখন ট্রাস্টিরা এই ব্যাপক সম্প্রসারণের পেক্ষাপটে সংস্থার কাঠামোগত মজবুতি ও গতিশীলতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ফলে বিগত ৪ বছর যাবৎ পরিকল্পিতভাবে সংস্থার সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং মজবুদি নিশ্চিত করা হয়। তবে এ বছর থেকে আবারো সম্প্রসারিত হবে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আমি আশাবাদী যে, এখন থেকে আপনারা প্রতি বছর এই সংস্থার সম্প্রসারণ ও উত্তর উত্তর উন্নয়ন দেখতে পাবেন।
হামিদ আজাদ  বলেন, আমার লক্ষ্য হচ্ছে একটি অধিক শক্তিশালী ও গতিশীল মুসলিম এইড গড়ে তোলা, যাতে আমাদের দাতা ও উপকারভোগীরা এর উপর অধিকতর নির্ভর করতে পারেন এবং মুসলিম এইড ইউকে ভিত্তিক একটি  নেতৃত্বদান কারী আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংগঠনে পরিণত হতে পারে।
কিছু মুসলিম দাতব্য সংস্থার দানকৃত অর্থ শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার মতো দেশ সমূহের চরমপন্থীদের হাতে পড়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর দিক-নির্দেশনা মুসলিম এইডকে এ ধরণের সমস্যায় না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। সিরিয়ার অভ্যন্তরে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে কাজ করা কঠিন হলেও জর্ডান, লেবানন ও ইরাকে সিরিয় শরণার্থীদের ব্যাপক ভাবে আমরা সাহায্য করে যাচ্ছি। আমরা কোন ব্যক্তি বা সংস্থাকে কোন অর্থ প্রদান করি না যতক্ষণ এগুলোর শুদ্ধতা, নিবন্ধন, স্বচ্ছ অতীত এবং দক্ষতা ও ক্ষমতা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত না হই।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পসমূহে এক সাথে সকল অর্থ প্রদান করা হয় না বরং কাজের সন্তোষজনক সম্পাদনের উপর ভিত্তি করে কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, আমরা সবকিছুকে স্বচ্ছ রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করি। কারণ আমরা মনে করি, আমাদের দাতা, সাহায্য গ্রহনকারী এবং আমাদের স্টাফদের কাছে আমরা জবাবদিহিতায় দায়বদ্ধ। একই সাথে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ব্যাপারেও সব সময় সতর্ক থাকি।
সাক্ষাৎকারে হামিদ আজাদ বলেন, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা অন্য যে কোন সংগঠনের মতোই। মুসলিম এইডে মুসলিম ও অমুসলিম স্টাফ ও দাতা রয়েছেন এবং এর লক্ষ্য হচ্ছে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য মানব সেবা নিশ্চিত করা।
কিছু সংখ্যক মুসলিম দাতব্য সংস্থার ব্যাপারে সৃষ্ট সন্দেহ মুসলিম এইডকে কি তার মান পুনর্বিন্যাসের অবকাশ সৃষ্টি করে? এমন এক প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, আমরা অন্যান্য সংস্থার জন্য একটি মাইলফলক হতে চাই। আমার বিশ্বাস দাতব্য সংস্থার ক্ষেত্রে কোন প্রতিযোগিতা নেই। সবাই একে অপরের পরিপূরক। সর্বোপরি, সবাই মানবতার সেবায় নিয়োজিত।
উল্লেখ্য, হামিদ আজাদ ২০০৫ সাল থেকে মুসলিম এইডের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি সহকারী প্রধান নির্বাহী থেকে প্রধান নির্বাহী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। গত ফেব্রুয়ারী মাসে তার পূর্বসূরী সৈয়দ শরফুদ্দীনের অবসর গ্রহণের পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া ২০১০ সালে শরফুদ্দীনের যোগাদানের পূর্বে নয় মাস তিনি অন্তরবর্তীকালীন ভিত্তিতে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে মুসলিম এইড আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের ৭০টির বেশী দেশে কাজ করছে।
দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা প্রদান হচ্ছে মুসলিম এইডের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর প্রকল্প সমূহ প্রায়শঃ স্থানীয় পাটর্নারদের সাথে বাস্তবায়ন করা হয়। সংস্থাটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, চাইল্ড স্পন্সরশীপ, আশ্রয় ও আবাসন প্রকল্প এবং সুদমুক্ত মাইক্রো ফাইনেন্স তথা জীবিকা অর্জনে লোকজনকে সহায়তা প্রদানে কাজ করে থাকে।
মুসলিম এইডের প্রধান অফিস পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল রোডের লন্ডন মুসলিম সেন্টারে অবস্থিত। গত দশকে মুসলিম এইড তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যে এর স্টাফ সংখ্যা ছিলো ১২ জন। বর্তমানে লন্ডন, বার্মিংহাম ও মানচেষ্টার অফিসে ৭০ জনের অধিক লোক কর্মরত। সংস্থাটি যুক্তরাজ্যে তার চতুর্থ অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী মুসলিম এইডের ২ হাজারের অধিক স্টাফ ও ১৬টি দেশে আঞ্চলিক অফিস রয়েছে।

    Print       Email

You might also like...

33c0c188e88909270fab037f5553204c-5a11918023cbe

দুবাইয়ে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের সম্মিলনী

Read More →