Loading...
You are here:  Home  >  এশিয়া  >  Current Article

ভারতে স্কুল বই থেকে উর্দু আরবি শব্দ, রবীন্দ্রনাথের চিন্তা, মির্জা গালিবের রচনা বাদ দেওয়ার সুপারিশ

_97077756_fbaaee51-f7e0-4e39-9cc3-f6aaefdb62f1
ভারতের স্কুল পাঠক্রম থেকে ইংরেজি, উর্দু, আরবি শব্দাবলী, রবীন্দ্রনাথের চিন্তা, শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের উদ্ধৃতি, মির্জা গালিবের রচনা – এসব বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে একটি হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা সংগঠন। একই সঙ্গে গুজরাত আর শিখ দাঙ্গার বিষয়ও বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এমন হিন্দি কবিতা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যেটা পড়লে ছাত্রছাত্রীদের চরিত্র ‘খারাপ’ হয়ে যেতে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই রচনা করে যে সংস্থা, তাদের কাছে ওইসব সুপারিশ পাঠিয়েছে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস’ নামের আর এস এস ঘনিষ্ঠ সংগঠনটি।

ভারতে সনাতনী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর জন্য অনেকদিন ধরে দাবী করতে থাকা সংগঠন ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস’ বলছে হিন্দি, ইতিহাস আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভিন্ন পাঠ্যবইতে অনেকগুলি বিকৃত তথ্য, অসাংবিধানিক শব্দ, চরিত্র নষ্ট করার মতো কিছু বিষয় রয়েছে।

ভারতে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক
ভারতের কেন্দ্রীয় পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই রচনা করে যে সংস্থা, সেই ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশন রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং বা এনসিই আর টি-র কাছে পাঠানো পাঁচ পাতার একটি সুপারিশে সংগঠনটি এইসব বিষয়গুলি বাদ দিতে বলেছে।
হিন্দি পাঠ্যবই থেকে ভাইস চ্যান্সেলর, ওয়ার্কার, ব্যাকবোন, রয়্যাল একাডেমী, বেতরিব, তাকৎ, ঈমান, মেহমান-নওয়াজি ও ইলাকার মতো বেশ কিছু অ-হিন্দি শব্দ সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

পাঠ্যবই থেকে রবীন্দ্রনাথের চিন্তা বাদ দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে
ওই ‘উত্থান ন্যাস’-এর সচিব অতুল কোঠারি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আমরা মূলত হিন্দি, ইতিহাস আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়গুলি নিয়েই সুপারিশগুলো পাঠিয়েছি। হিন্দি ভাষায় পড়ানোর সময়ে সেখানে ইংরেজি, আরবি, ফারসি, উর্দু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এটা ভাষাবিজ্ঞানের নিয়মের সঙ্গে মেলে না। তাই সেগুলিকে বাদ দিতে বলা হয়েছে।”

“এছাড়াও, ইতিহাসের ক্ষেত্রে ঔরঙ্গজেবকে একজন উদারমনস্ক শাসক বলা হয়েছে। এটা তথ্য বিকৃতি। শিবাজিকে নিয়ে মাত্র দু’লাইন লেখা হবে কেন? শিবাজী, মহারাণা প্রতাপ, সুভাষ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ, মদনমোহন মালব্য – তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত যাতে পড়ানো হয়, সেই সুপারিশও করা হয়েছে,” বলছিলেন মি. কোঠারি।

এন সি আর টি-র কাছে পাঠানো তাদের সুপারিশে এও বলা হয়েছে, যেভাবে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা উদ্ধৃত করে জাতীয়তাবাদ ও মানবতাকে দু’টি পরস্পরবিরোধী মত বলে দেখানো হয়েছে, সেটা অনুচিত। মির্জা গালিবের একটি শের আর শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের রচনাও বাদ দিতে বলা হয়েছে।

কোঠারি বলছিলেন, এসব যেমন ছাত্রদের পড়ানো অনুচিত, তেমনই দাঙ্গার মতো বিষয়গুলিও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে রাখার কোনও দরকার নেই।
“১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গা বা গুজরাতের দাঙ্গার বিষয়গুলি এসেছে পাঠ্যবইতে। এগুলো কি ছাত্রদের পড়ানো বিষয়? দাঙ্গা তো কতোই হয় দেশ- দুনিয়ায়। সেইসব বাচ্চাদের পড়িয়ে কী হবে?” প্রশ্ন মি. কোঠারির।
যদিও মি. কোঠারি বলছিলেন যে তাদের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে, তবে বিজেপি-কে হিন্দুত্ববাদী বলে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যবইতে, সেটাও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ায় তারাই রাজনীতি টেনে এনেছেন বলে মনে করনে অনেক শিক্ষাবিদ।

    Print       Email

You might also like...

91758_Iran-1

ইরান-ইরাক সীমান্তে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩৩২

Read More →