Loading...
You are here:  Home  >  দেশ জুড়ে  >  Current Article

মওদুদের গুলশানের বাড়ি রাজউকের অধিগ্রহণ

moudud
এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ : মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গুলশানের বাড়ির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বুধবার বেলা ২টা থেকে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ওয়ালিউর রহমানের নেতৃত্বে রাজউকের লোকজন বাড়িটির মালামাল বের করতে শুরু করে। বাড়ি দখল করার লক্ষ্যে বাসার ভেতর থেকে মালামাল এনে বুলডোজার দিয়ে বাড়ির বাইরে অপেক্ষমান ট্রাকে তোলা হয়। এর আগে বাড়ির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়।
রাজউকের লোকজন গুলশান-২’র ১৫৯ নম্বর বাড়ির মালামাল সরানোর সাথে সাথে ব্যারিস্টার মওদুদকে দেখা যায়নি। তিনি বেলা তিনটার দিকে আসেন। তখন তার পরনে আইনজীবীর পোশাক ছিল। এ সময় তিনি রাজউকের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে যেমন কথা বলছিলেন আবার মাঝে মাঝে তিনি সাংবাদিকদের সাথে তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিলেন। বাড়ির সামনে মওদুদ আহমেদকে দেখা গেলেও তার পরিবারের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ। আমি বিরোধি দলের রাজনীতি করি বলেই আমার সাথে এমন আচরণ করা হলো।
বাড়ির মাল-সামান নিযে যাচ্ছে আপনার সামনে দিয়ে, আপনি এরপর কি করবেন?
এমন প্রশ্নের জবাবে মওদুদ আহমেদ বলেন, আমি কি করতে পারি। রাতে আমি পেভমেন্টে ঘুমাবো। এ ধরনের অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে আমার মতো নাগরিকের কি করার থাকতে পারে? বিরোধী দল করি বলে এ ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকারি দলের নেতা হলে কি এ ধরনের কিছু ঘটতে পারতো? এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বাড়িটি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। মোতায়েন করা হয়েছিল শতাধিক পুলিশ। পুলিশের সাথে রাখা ছিল সাজোয়া যান, সজোরে পানি ছুড়ে মারার কামান, প্রিজনভ্যান ও বুলডোজার। এ ছাড়া মালামাল সরানোর জন্য রাজউকের নাম লেখা দুটি বড় ট্রাক নিয়ে আসা হয়। এ দুটি ট্রাকে করেই বাড়ির বহনযোগ্য সব ধরনের মাল সরিয়ে নেয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ালিউর রহমানের সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ছিলেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক।
বেলা পৌনে তিনটার দিকে মালামালগুলো রাজউকের অপেক্ষমান ট্রাকে তুলছিল শ্রমিকেরা। এ সময় বিএনপির গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবীরও উপস্থিত ছিলেন। মালামাল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শায়রুল বলেন, মালামাল এখান থেকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা আমি জানি না।
তবে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ওয়ালিউর রহমান জানান, মালামালগুলোকে মওদুদ সাহেবের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। কোথায়, কোন বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট জানান ঠিক কোন বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে তা তিনি বলতে পারছেন না। তিনি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে জিজ্ঞাসা করতে বলেন এ ব্যাপারে।
ব্যারিস্ট্রার মওদুদ আহমেদের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, মালামাল তার স্ত্রী হাসনা জে আহমেদের মালিকানাধীন গুলশান-২’র ৮৪ নম্বর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসনা জে আহমেদের বাড়িটি উচ্ছেদ হওয়া ৫৯ নম্বর বাড়ির পাশেই।
সাংবাদিকদের কাছে মওদুদ আহমেদ জানান, রিভিউ খারিজ হয়ে যাওয়ার পর বাড়ি অধিগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা করেছিলেন। এ মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বাড়ি থেকে আমাকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পেশী শক্তির বিরুদ্ধে আমি কি করতে পারি? এটা প্রতিহিংসার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। আদালততো বলেননি যে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের কথা। রাজউকও উচ্ছেদের নোটিশ দেয়নি।
মমিনুর জানান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের পিএস মুমিনুর জানান, আমরা রাজউকের লোকজনকে বলেছিলাম মালামালগুলো আমরাই সরিয়ে নেই, আমাদের সে সুযোগ দেয়া হোক। কিন্তু রাজউকের লোকজন আমাদের কথা শোনেননি।
মুমিনুর জানান, বহনযোগ্য ও ভঙ্গুর মালামাল যেভাবে তারা সরিয়েছে তা ঠিক হয়নি। বুলডোজার নিয়ে ভারী মালামালগুলো ট্রাকে তোলা হয়েছে।

    Print       Email

You might also like...

HASINA2017072200594020170722114224

হজ ব্যবস্থাপনাকে যুগোপযোগী করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

Read More →