Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

মধুময় ফলের ডালিতে এলো রে ‘মধুমাস’

Fruitsসাদেকুর রহমান: তাপদাহের ক্লিষ্টতা আর নীরব দুপুর ভাঙতে সোনাঝরা গ্রামের মেঠোপথ ধরে আবার এলো রে ‘মধুমাস’। শুধু কি গ্রামীণ জনপদে, শহর জুড়েও চোখে পড়ে রসালো ফলের বিপুল সমাহার। মধুময় ফলের ডালি যেন পূর্ণতা পায় এ সময়ে। ঘরোয়া মেন্যু থেকে অতিথি আপ্যায়ণে এসব ফল ঠাঁই পাচ্ছে।
বাংলা অভিধানে ‘মধুমাস’ শব্দের অর্থ হলো, চৈত্রমাস। কিন্তু দেশের পত্রপত্রিকায় জ্যৈষ্ঠ মাস নিয়ে কোন কিছু লিখতে গিয়ে লেখা হয় মিষ্টি ফলের রসে ভরা মধুমাস। এভাবেই জ্যৈষ্ঠ মাসের সাথে মধুমাস বিশেষণটি জড়িয়ে গেছে। অভিধানের মধুমাস অভিধানেই আছে।  কিন্তু লোকমুখে এখন জ্যৈষ্ঠই যেন আসল মধুমাস। পঞ্জিকার শাসন অনুযায়ী, আজ রোববার পহেলা জ্যৈষ্ঠ। গ্রীষ্মের শেষ মাস জ্যৈষ্ঠ, এ মাসে ফল পেকে রসের ভারে টইটম্বুর হয়।
রাজধানীর সর্বত্র এখন রসালো ফলের দোকান। আম, জাম, আনারস, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল, তালের শাঁস, তরমুজ, ফুটি এবং আরো কত ফল! গ্রামীণ কৃষক কিংবা শহুরে নাগরিক, বাঙালির কাছে এসব ফলের কদর কতো -তা কি না চিরকালই অনির্ণীত থেকে যাবে। আর প্রতিটি ফলই যে স্বাদের মতো পুষ্টিতেও ভরপুর তা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে বহুকাল আগেই। থরে থরে সাজানো স্থায়ী আড়ত ও দোকানগুলো তো একেকটা ‘ফলের জাদুঘর’। এছাড়াও অস্থায়ী দোকান, ফেরিওয়ালার মাথার ঝাঁকি কিংবা ভ্যানগাড়ি – সমানতালে এসব ফল বেচাকেনার মোকামে পরিণত হয়েছে। দাম বেশি হলেও রসনা তৃপ্ত করার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে চাইছে না কেউই।
মওসুমের প্রথম দিক বলে এখন বাজারে ফলের দাম বেশ চড়া। ধনীরা কিনছেন, রসনা তৃপ্ত করছেন। সাধারণের চেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। প্রতি কেজি আম প্রকারভেদে ১২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা। বাজারে গোপালভোগ, গোলাপখাস, গোবিন্দভোগ, লালমনিসহ দেশী প্রজাতির কিছু আম পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে আমের সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে থাকবে বলে জানান বিক্রেতারা। এই সময়ে ফলের রাজা আম নিয়ে বড্ড মাতামাতি হয়ে থাকে। জনজীবনে আমের প্রভাব বুঝাতে কবি লিখেন- “আমসত্ত্ব দুধে ফেলি/ তাহাতে কদলী ফেলি/ সন্দেশ মাখিয়া তাতে/ হাপুস হুপুস শব্দ চারিদিকে নিঃশব্দ/পিঁপড়া কাদিয়া যায় পাতে।” বাজারে সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লিচু। ভালো মানের একশ’ লিচু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায়। একটু নিম্নমানের লিচুর একশ দাম হচ্ছে ২২০ থেকে ৩০০ টাকা।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপাদিত জলডুগি আনারস ৬০ থেকে ১০০ টাকা হালি দরে খুচরা বেচা-কেনা হচ্ছে। তরমুজের মওসুম শেষদিকে হওয়ায় প্রমাণ সাইজের প্রতিটি রাখা হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। গরিবের ফল কাঁঠাল বাজারে এলেও দাম আকাশ ছোঁয়া, পরিপক্বতার বিষয়টিও প্রশ্নবোধক। রামপুরা বাজার, ধানমন্ডি, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট এলাকায় বিক্রেতারা একেকটি কাঁঠালের দাম হাঁকাচ্ছেন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। কচি তালের শাঁস প্রতিটি বেচা-কেনা হচ্ছে ৫-৬ টাকায়। মওসুমী ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে অপরিণত ফল কৃত্রিম পাকিয়ে বাজারজাত করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে জনস্বাস্থ্যের হানি নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই।
গরম বাড়ার সাথে সাথে ফুলেল আগুনে ছেয়ে যায় বন-বাদার। এ সময়ে লাল টুকটুকে কৃষ্ণচূড়া, পারিজাত, জবা, মাধবী, করবী, কড়ই, হলদিয়া, কনকচূড়া, হলুদচূড়া, সোনালু, জারুূল, বকুল, বেলী, নিমকুল এমনকি বর্ষা রানীর প্রতীক কদমফুল ইত্যাদি মনোহর শোভা আর মৃদু সুগন্ধী বিতরণ করে অবসন্ন চোখে প্রশান্তি এনে দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপনের ছুটি। সাধারণভাবে ‘আম-কাঁঠালের ছুটি’ হিসেবে এর পরিচিত সমধিক। তবে এবছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় অনেকদিন স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ ছুটি কার্যকর করবে না প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই। এ মাসেই মেয়ে-জামাই, নাতী-নাতনীরা ‘নাইওর’ করতে আসে, আপ্যায়িত হয় চিরচেনা রসালো সব ফলে। গ্রামাঞ্চলে এটাকে বলা হয় ‘আম দাওয়াত’। বিশেষ করে আম-কাঁঠালের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই যোগ হয় চিড়া-মুড়ি ও খই এবং দুধ-দই।
অন্যান্য বাংলা মাসের মতো জ্যৈষ্ঠেরও নামকরণ হয়েছে তারার নামে। সে তারার নাম ‘জেষ্ঠা’, সাতাশ তারার মধ্যে আঠারোতম। বৈশাখের মতো জ্যৈষ্ঠও একত্রিশা হবে।
এদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম মাস হিসেবেও জ্যৈষ্ঠ পেয়েছে অনন্য মর্যাদা। প্রতি বছর ১১ই জ্যৈষ্ঠ বাংলাদেশে নজরুল স্মৃতিধন্য জায়গাগুলোতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে চির তারুণ্য ও বিদ্রোহী কবির জন্মদিন পালন করা হয়। এছাড়াও গ্রামীণ জনপদে বসে মেলা। ঘরে-উদ্যানে, বটতলায় মেলার মাঠে জমকালো আবহে এটিই প্রমাণিত হয়, জ্যৈষ্ঠ উৎসবের মাস, বাংলা প্রকৃতির অলঙ্কার।

    Print       Email

You might also like...

6afed405318d4219e5ce1f58be1a4401-5a1580a4a4885

২৭ নভেম্বর লন্ডনে কারি শিল্পের ‘অস্কার’

Read More →