Loading...
You are here:  Home  >  কলাম  >  Current Article

মালয়েশিয়া ও তুরস্কের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশী রক্ষণশীলতা

11885961444_658aae269b_b

মনোয়ার বদরুদ্দোজা :

মালয়েশিয়ায় ৬০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে অভূতপূর্ব নির্বাচনী সুনামি, তুরস্কের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা ও বাংলাদেশী রক্ষণশীল দল সমূহের সিদ্ধান্ত হীনতার প্যারালিসিস ।
এই স্ট্যাটাস যখন লিখছি, মালয়েশিয়া’র নির্বাচন কমিশনের বরাতে জানানো হচ্ছে ৬০ বছরের রাজনৈতিক লিগ্যেসি বরিসান ন্যশনাল ও উমনো কোয়ালিশন শাসনের সমাপ্তি ঘটেছে , মাহাথির মোহাম্মাদ এর নেত্রিত্তে পাকাতান হারাপান জোট বিপুল ভোটে জয়ি হয়েছে ।
দূরদর্শী, সৎ যোগ্য নেত্রিত্তের পাশাপাশি যারা সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যারা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যারা ছাড় দিতে পারেন, যারা প্রাগমাটিক হতে পারেন, তাঁরা রাজনৈতিক ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারেন, মানুষ তাঁদেরকে ক্ষমতায় দেখতে চায়, মানুষ তাঁদের সাহসকে, ত্যাগ ও ইঙ্কলুসিভ সিদ্ধানতকে স্বাগত জানিয়ে তাঁদের পিছনে সমবেত হতে চায় – তাদেরকে দেশ জাতী রাষ্ট্রের দায়িত্ব অর্পণ করেন ।
এই লেখার উদ্দ্যেশ্য মালয়েশিয়ার সদ্য ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সুনামি নয়, বরং কিছু তুলনামূলক পর্যালোচনা বাংলাদেশের রক্ষণশীল দলসমূহের বক্সের বাহিরে চিন্তা করার অক্ষমতার সাথে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার রক্ষণশীল দলসমুহের সাহসি দূরদর্শিতার ।
বারিসান ন্যশনাল (BN) ও উমনো’র(UMNO) ৬০ বছরের ইতিহাসে যাচ্ছি না তবে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারার সাহসি নায়কদের অভুত পূর্ব ঐক্যের কথা না বল্ললেই নয় ।
মাহাথির মোহাম্মদের সাফল্যের ইতিহাসে যাব না কিন্তু যে মাহাথির মোহাম্মদ অতীতে তাঁর বিবেচনায় জাতীয় স্বার্থে, তাঁর প্রশিক্ষিত ডেপুটি আনোয়ার ইব্রাহীমকে শুধু বিসর্জনই দিয়েছিলেন তা নয়, তাঁর বিরুদ্ধে অনেক পদক্ষেপও নিয়েছিলেন । আবার আজকের প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাকেরও তিনি মেন্টর ছিলেন।
জাতীয় স্বার্থে সেই রাজনৈতিক শত্রু যাকে জেলে পুরেছিলেন, বিচার ব্যাবস্থা যার চরিত্র হনন করে রায় দিয়ে তাঁকে জেলে পাঠালো সেই আনোয়ার ইব্রাহীমের সাথে জোট গঠন করলেন, তাও আবার মালয়েশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রতিস্টিত ইসলামিইক দল ‘পাস’ (PAS) কে কাছে ডাকেন নি । রাজনৈতিক ক্যাল্কুলেশনে ইহা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল কিন্তু সময়োপযোগী দূরদর্শী বাস্তব ভিত্তিক সিদ্ধান্ত ছিল, যদ্দরুন ল্যান্ডস্লাইড সমর্থন পেয়েছনে । তাঁরা অধিক সংখ্যক নারী ও ইয়ং ক্যান্ডিডেট মনোনয়ন দিয়েছেন, তাঁরা প্রার্থী নির্বাচনে “আমরা ছাড়া ক্উ যোগ্য নন” এমন রিজিড নীতি অবলম্বন করেন নি ।
এখন আসুন, তুরস্কের ব্যাপারে । বর্তমান সিরিয়ার যুদ্ধের আগে, তুরস্কের সাথে সিরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের সাথে অনেক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, এমনকি, সিরিয়া ও তুরক্সের মধ্যে ভিসা ফ্রি জাতায়াতের ব্যাবস্থা সহ হাই স্ট্রেটেজিক রিলেশন প্রতিস্টা করেও সেই সম্পর্ক ভাঙ্গতে পিছপা হন নাই, যখন বাসার আল আসাদ তাঁর নিজের জনগণের উপর অত্যাচার শুরু করলো । তুরস্ক নিজদের অর্থনৈতিক সুবিধা কোরবানি দিয়েও বাশারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন ।
রাশিয়ার সাথে প্রায় যুদ্ধাবস্থা থেকে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে আজ যে পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন তা তুরস্কের অর্থনৈতিক ও ডিফেন্স ক্যাপাবিলিটি অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে । আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বা তুরক্সের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ফিরিস্তি দেয়া এই পরিসরে অপ্রতুল হবে ।
এরদোয়ানের এক কে পার্টি যে দলের বিরুদ্ধে ফাইট করেছে অতীতের ১৬ বছর যাবত, সেই জাতীয়তাবাদী এম এইচ পি পার্টির সাথে জোট গঠনের মাধ্যমে বন্ধু’তে পরিণত করেছেন, আগামী ২৪ জুনের সাধারণ নির্বাচনে এমনকি সেই পার্টি নিজেদের প্রার্থী না দিয়ে – প্রকাশ্যে এরদোয়ানকে সমর্থন দিয়েছে ।
বিগত প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে যিনি এরদোয়ানের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন এবার সেই প্রতিদ্ধন্দি, এক্মেলেদ্দিন ইহসানগলু প্রকাশ্যে, এরদোয়ানকেই সমর্থন দিয়েছনে ।
উপরের সিদ্ধান্ত গুলু খুব সহজ ছিলনা, আভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের সম্মুখীন যে হতে হয়নি তা মুটেই ভাবা যাবে না ।
বাংলাদেশী রক্ষণশীল দলগুলু কি আদৌ শিক্ষা নিয়েছে অতীত থেকে ? তেমন লক্ষন কি এ পর্যন্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি ? উত্তর হবে না । সবচেয়ে সমস্যা শুধু নেতৃত্তে না বরং একদেশদর্শী কর্মী বাহিনী, যুগান্তকারি সাহসী সিদ্ধান্তকে এই কর্মী বাহিনী স্বাগত না জানিয়ে বরং নেত্রিত্তের সিদ্ধান্তকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করবে এই বলে যে, নেতৃবৃন্দ কি তাহলে রক্ষণশীলতা বিসর্জন দিলেন ? তাঁদের কাছে ছাড় দেয়া মানে হার মানা, তাঁদের ইগো অহং বোধ ‘আউটরিচ’ শব্দ চিনে না ।
তাঁরা নিজের স্থানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবেন আর আশা করবেন অন্যরা তাঁদের কাছে আসবেন । সর্বাবস্থায় আমরাই সঠিক, আমরা একাই চালিয়ে যাবো, আর কেউ আসতে চাইলে, আমাদের শর্তে আসতে হবে, সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকতেই হবে – এই যখন অবস্থা তখন প্রাগমাটিক সিদ্ধান্ত নেয়া, ইঙ্কলুসিভ হওয়া সম্ভব না । মানুষ কিন্তু এগুলু খুব পর্যবেক্ষণ করেন, তাঁরা স্বীকার করেন আর নাই করেন ।
ব্যাতিক্রমি সিদ্ধান্তকে গভীর ভাবে বুঝার ক্রিটিক্যাল কর্মীবাহিনী তৈরি হয় নি, সর্বাবস্থায় হা বলার কর্মী নিশ্চয়ই আছে । আর সেই ব্যাতিক্রমি সিদ্ধান্তকে জনগণের কাছে ইতিবাচক ভাবে সহনশীলভাবে পৌঁছে দেয়ার কর্মীদের অনেক অভাব, সেই ট্রেনিং অপর্যাপ্তই রয়ে গেছে, পর্যবেক্ষকদের ধারনা ।
উমনো ও বারিসান ন্যশনালের বয়স মাত্র ৬০ বছর কিন্তু বাংলাদেশে এমনও রক্ষণশীল দল আছেন যাদের ইতিহাস ঐতিহ্য স্থায়িত্ব তাঁর চেয়েও পুরনো । নিজের অবস্থানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার পিছনে, তাঁদের অবশ্যই যুক্তি আছে । রাজনীতিতে পার্মানেন্ট শত্রু বা বন্ধু থাকে না বলে একটা কথা আছে এবং তা বিশ্বব্যাপী হাজার বার প্রমানিত হয়েছে ।
যারা প্রাগমাটিক হতে পারেন না, সাহসী ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, সময়ের সাথে হাঁটতে পারেন না তাঁরা শীত মউসুমের হৃতযৌবনা স্রোতহীন নদীর মত, শুধুই টিকে থাকেন, এর চেয়ে বেশী কিছু না ।

    Print       Email

You might also like...

Saadat-hossain

বৈষয়িক তরক্কির পদ্ধতি প্রক্রিয়া বিকৃতি ভেজালে আক্রান্ত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা থাকে

Read More →