Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

মিরাজ-সাকিবেই ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

playরফিকুল ইসলাম মিঞা: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাও আবার ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনেই। আর এই জয়ের নায়ক মিরাজ-সাকিব। মিরাজ-সাকিবের স্পিন আক্রমণে কুপোকাত হলো ইংল্যান্ডে ব্যাটসম্যানরা। ফলে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজটি ড্র করলো বাংলাদেশ। অবশ্য টেস্ট সিরিজটি হতে পারতো টাইগারদেরই। যদিও চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে জিততে জিততে শেষ পর্যন্ত ২২ রানে না হারতো। তবে চট্টগ্রামে না হলেও ঢাকায় সুযোগ মিস করেনি টাইগাররা। ইংল্যান্ডের মতো টেস্ট ক্রিকেটে শক্তিশালী দলকে হারালো ১০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটা প্রথম জয়। আর বাংলাদেশের অষ্টম টেস্ট জয়। সেই সাথে ৫ম বারের মতো টেস্ট সিরিজ ড্র করার কৃতিত্ব দেখালো টাইগাররা। আর এই টেস্ট জয়ের নায়ক মেহেদি হাসান মিরাজই হলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ।
এর আগে এশিয়ার মাটিতে ২৭৩ রানের বড় টার্গেট তাড়া করে টেস্ট জয়ের রেকর্ড ছিলো না ইংল্যান্ডের। চতুর্থ ইনিংসে ২১০ রান তাড়া করেও জয়ের রেকর্ড ছিলো না দলটির। আগের ২০৯ রান চেজ করে জয়ের রেকর্ড ছিলো অবশ্য বাংলাদেশের বিপক্ষেই। মিরপুরেই ২০১০ সালে ইংল্যান্ড জিতেছিল ৯ উইকেটে। গতকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭৩ রানের টার্গেট দিয়েই টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। আর কাজটা সহজ করে দিয়েছেন মিরাজ আর সাকিবই। কারণ মিরাজ ৬ আর সাকিব ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে বেধে ফেলে ১৬৪ রানে। আর ১০৮ রানের জয় নিয়ে টাইগারদের সাথে উল্লাসে মাতে পুরো গ্যালারি, পুরো দেশ। ঢাকা টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও মিরাজ নেন ৬ উইকেট। ফলে দুই ইনিংসে ১২ উইকেট নেয়া মিরাজই এই জয়ের নায়ক। চট্টগ্রাম টেস্টে মিরাজের উইকেট ছিলো ৭টি।
ঢাকা টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ২২০ রানে অল আউট হয়েছিল বাংলাদেশ। আর ইংল্যান্ড ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৪৪ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড লিড পেয়েছিল ২৪ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৬ রান করে বাংলাদেশ। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ লিড পায় ২৭২ রানের। আর জিততে হলে ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট ছিলো ২৭৩ রান। টার্গেটটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিলো না। অবশ্য এই টার্গেট আরো বড় দিতে পারতো বাংলাদেশ। কারণ তৃতীয় দিনের শুরুটা সেভাবেই হয়েছিল বাংলাদেশের। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৫২ রান। গতকাল তৃতীয় দিনের শুরুটা করেন আগের দিনে ৫৯ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা ইমরুল কায়েস আর সাকিব আল হাসান। এই জুটিই দলকে নিয়ে যায় ২০০ রানে। ইমরুলের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। তবে বিদায়ের আগে ইমরুল সাকিবকে নিয়ে করেন ৪৮ রানের পার্টনারশীপ। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন ইমরুল। অবশ্য ৭৪ রানে একবার লাইফ পান তিনি। ইমরুলের ক্যাচ মিস করেন জো রুট। পরে মঈন আলীর বলে লেগ বিফোর হয়ে বিদায় নেন ইমরুল। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যাচ মিসের ঘটনা ঘটেছে আরও। আনসারির ৪৯তম ওভারে ডিপ মিড উইকেটে সুইপ করেছিলেন সাকিব। কিন্তু জায়গায় দাঁড়ানো বেন ডকেট সেই ক্যাচ নিতে পারেননি। একই ওভারে পরের বলে মুশফিকের এলবির আবেদন হয়েছিল। কুমার ধর্মসেনা আউট না দিলেও রিভিউ নেয় ইংল্যান্ড। তাতেও সফল হয়নি সফরকারীরা। ইমরুলের বিদায়ে সাকিবের সাথে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম উইকেটে ৩৮ রানের জুটি গড়েন সাকিব ও মুশফিক। হাফ সেঞ্চুরির দিকে যাচ্ছিলেন সাকিবও। কিন্তু আদিল রশিদের বলে বোল্ড হয়ে ৪১ রানে ফিরেন সাকিব। সাকিবের বিদায়ে টিকে থাকতে পারেননি মুশফিক। পরের ওভারে অধিনায়ক ফিরেন মাত্র ৯ রান করে। স্টোকসের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে আউট হন মুশফিক। ফলে ২৩৮ রানে বাংলাদেশ হারায় ৬ উইকেট। ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তুলতে চেয়েছিলে সাব্বির রহমান। কিন্তু সাব্বিরকে ১৫ রানে ফিরতে হয় এলবির ফাঁদে পড়ে। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৬৮ রান। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ হারায় তাইজুলের উইকেট। ৫ রানে তাইজুলকে ফিরান স্টোকস। ব্যাট করতে নেমে বরাবরের মতো ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ ছিলেন অলরাউন্ডার মিরাজ। রশিদের বলেই ক্যাচ দিয়ে মিরাজ বিদায় নেন ২ রানে। বল হাতে সফল বোলার ব্যাট হাতে নিজেকে আর তুলে ধরতে পারলেন না। দলীয় স্কোর তখন ৯ উইকেটে ২৭৬ রান। দশম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে শুভাগত হোম আর কামরুল ইসলাম রাব্বি অপ্রত্যাশিত কিছু রান যোগ করেন। এই শেষ জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২৯৬ রানের বড় স্কোরে। আদিল রশিদের বলে রাব্বির বিদায়ে ভাংগে শেষ জুটি। ফলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৯৬ রানে। রাব্বি ৭ রানে আউট হলেও শুভাগত হোম ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আদিল রশিদ ৪টি, বেন স্টোকস ৩টি আর জাফর আনসারী ২টি উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২৯৬ রানে অলআইট হলে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট ছিল ২৭৩ রান। আর এই কঠিন টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলকে ভালোই এগিয়ে নেন ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক আর ডকেট। এই জুটি ভাংগার আগেই ইংল্যান্ড পৌছে যায় ১০০ রানে। ইংল্যান্ডে উইকেট পতন মিরাজকে দিয়েই শুরু। শেষ ও করেন মিরাজ। মাঝে ছিলো সাকিব চমক। মিরাজে বলে ডকেটের বিদায়ে ভাংগে এই ওপেনিং জুটি। মেহেদি হাসান মিরাজের বলে আউট হওয়ার আগে ডকেট ৭ চার আর এক ছক্কায় করেন ৫৬ রান। ওপেনিং জুটি ভাংতে টাইগার বোলারদের সময় লাগলেও দ্বিতীয় উইকেট নিতে কিন্তু সময় লাগেনি। কারণ দলীয় ১০৫ রানে ইংল্যান্ড হারায় দ্বিতীয় উইকেট। এবার সাকিবের বলে বিদায় নেন জো রুট। জো রুট করেন মাত্র ১ রান। দলীয় ১২৪ রানে আবার সফল আঘাত মিরাজের। এবার মিরাজ ফিরান ব্যালেন্সকে। ব্যালেন্স করেন ৫ রান। ব্যাট করতে নেমে মঈন আলী রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারান মিরাজের কাছেই। ফলে ১২৪ রানে প্রথম ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের মনোবলে ভালোই আঘাত হানে টাইগাররা। তবে আগের ইনিংসগুলোতে রান পাননি অধিনায়ক কুক। ফলে এই ইনিংসে কুক রান তুলবেন তা অনেকেরই ধারণা ছিল। আর গতকাল কুক শুরুটা করলেন সেভাবেই। একে একে প্রথম চার ব্যাটসম্যান আউট হলেও টিকে ছিলেন। দলীয় ১২৭ রানে কুককেও কাটা পড়তে হয় মিরাজের বলে। বিদায়ের আগে কুক করেন ৫৯ রান। কুককে আউট করে ঢাকা টেস্টের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেন টাইগাররা। আর এর নায়ক মিরাজই। কারণ মিরাজের কাছেই একে একে অসহায় বিদায় নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের। কুকের বিদায়ের পর আর বেশিদূর যেতে পারেনি ইংল্যান্ড। দলটির স্কোর থেমে গেছে ১৬৪ রানেই। দলীয় ১৩৯ রানে রেয়ারস্টোকে ৩ রানে ফিরান মিরাজ। তবে বেন স্টোকস দলকে এগিয়ে নিতে কিছুটা চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ১৬১ রানে সাকিব বোল্ড করে ফিরান স্টোকসকে। ২৫ রান করে স্টোকস বিদায় নিলে আর ব্যাটসম্যানই দাঁড়াতে পারেনি। ক্রিস ওকস ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। দলীয় ১৬১ রানে ৪২.৩ ওভারে স্টোকসকে আউট করার পরের বলে সকিব আউট করেন রশিদকে। ফলে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিল সাকিবের। কিন্তু সেটা না হলেও ওভারের শেষ বলে সাকিব ফিরান আনসারিকে। আর ১৬৪ রানে ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান ফিনকে আউট করে মিরাজ বাংলাদেশকে এনে দেন অসাধারণ এক জয়। বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ ৬টি আর সাকিব ৪টি করে উইকেট নেন। বাংলাদেশ ১০৮ রানে জয়।
সিরিজ ড্র।

    Print       Email

You might also like...

11439_15

তিন দিন লেগেছে নাজিব রাজাকের জব্দকৃত অর্থ গুণতে!

Read More →