Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

মুকতাবিস উন নূরের দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের মিলনমেলা

15284158_10202365075444478_6862376641828819579_nখ্যাতিমান সাংবাদিক, সিলেট প্রেসক্লাবের দীর্ঘকালীণ সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের লেখা ‘সময়-অসময়’ এবং ‘আমার দেখা সামাদ আজাদ ও সাইফুর রহমান’ গ্রন্থ দুটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান শুক্রবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রাণবন্ত এ সমাবেশ পরিণত হয় সিলেটের সাংবাদিক লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের মিলনমেলায়। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বই দুটির উপর আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক, লেখক, রাজনীতিবিদসহ অনেকে।
সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি প্রফেসর আব্দুল আজিজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আব্দুল আজিজ বলেন, পত্রিকার পাতায় সাংবাদিকরা শুধু সংবাদই তুলে ধরেন। কিন্তু সংবাদের পেছনের বহু গল্প অজানা রয়ে যায়। এ অজানা গল্পগুলো ইতিহাসের অনন্য দলীল, যা উঠে আসে সাংবাদিকদের স্মৃতিচারণমুলক লেখায় কিংবা বইয়ে। মুকতাবিস উন নূর একজন সৎ, নির্মোহ এবং নীতিবান সাংবাদিক। দীর্ঘদিনের সাংবাদিক জীবনে তিনি ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কাছ থেকে দেখেছেন। মিশেছেন কিংবদন্তিতূল্য ব্যক্তিদের সাথে। তাঁর স্মৃতিচারণমূলক দুটি গ্রন্থই ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনুপ্রাণীত করবে।
15349768_10202365074484454_3772916583576977873_nবিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ আকমল মাহমুদ বলেন, মুকতাবিস উন নূরের দুটি বইয়েই জাতীয় জীবনের কিছু সংকটময় সময়ের স্মৃতি উঠে এসেছে। স্মৃতিগুলো গ্রন্থবদ্ধ হওয়ায় তা কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার শংকা থেকে রক্ষা পেলো। এ স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি অ ন ম শফিকুল হক বলেন, মুকতাবিস উন নূর সিলেটের দুই কিংবদন্তী রাজনীতিকের উপর বই লিখে রাজনীতিবিদদের সম্মানিত করেছেন। তিনি বলেন, অনেকেই রাজনীতিকদের জীবদ্দশায় তাঁদের জীবনী লেখেন বিশেষ আনুকূল্য পাওয়ার আশায়। মুকতাবিস উন নূর এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কারো আনুকূল্য পাওয়ার আশায় তিনি লেখেননি। যা দেখেছেন, তাই নির্মোহ ভাষায় সুনিপূণ ভাবে উপস্থাপন করেছেন।
অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ বলেন, বই দুটির সম্মোহনী শক্তি পাঠককে আকৃষ্ঠ করবে। পাতায় পাতায় উত্তেজনায় ঠাসা। পাঠক পড়া শুরু করলে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।
ঢাকাস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা এম এ কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও এম সাইফুর রহমান দুজনই সিলেটপ্রেমী নেতা ছিলেন। তাঁদের জীবনের নানা ঘটনা গ্রন্থবদ্ধ করে মুকতাবিস উন নূর সময়ের অপরিহার্য চাহিদা পূরণ করেছেন। বিশেষ করে এম সাইফুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সিলেটের উন্নয়নে একরোখা ও আপোষহীন ছিলেন।
15420890_10202365074324450_80334748245133834_nবই দুটির উপর আরো আলোচনায় অংশ নেন, জালালাবাদ ক্যান্টেনমেন্ট কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল সৈয়দ আলী আহমদ, বিশিষ্ট কলামস্টি আফতাব চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি একেএম সমিউল আলম, সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবীর, সাবেক সভাপতি আহমদ নূর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বশিরুদ্দিন, প্রবাসী সাংবাদিক সাঈদ চৌধুরী, লেখক-ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, কবি মুকুল চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের পরিচালক লায়েছ উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মানিক, দৈনিক জালালাবাদের নির্বাহী সম্পাদক আবদুল কাদের তাপাদার, জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল মালিক জাকা, প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান আতা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর, লেখক ফজলুল করীম আজাদ, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু, এডভোকেট দিলোয়ার হোসেন দিলু, দৈনিক প্রভাতবেলা সম্পাদক কবির সোহেল, একাত্তর টিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান ইকবাল মাহমুদ, কবি মুহিত চৌধুরী, শাবির ডেপুটি রেজিস্টার আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, চ্যানেল এস এর সিলেট অফিস প্রধান মঈন উদ্দিন মনজু, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাসুদ আহমদ, কানাডা প্রবাসী কয়েস আহমদ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক ছিদ্দিকুর রহমান। বই দুটির উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুসা আল হাফিজ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন গল্পকার সেলিম আউয়াল ও কবি আব্দুল মুকিত অপি।
15390748_10202365073564431_1903921513635707884_nঅন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সবুজ সিলেটের প্রধান বার্তা সম্পাদক আ ফ ম সাঈদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক খবরপত্রের ব্যুরো প্রধান এম এ মতিন, বাংলাভিশনের ব্যুরো প্রধান শামসুল ইসলাম শামীম, সিলেট প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, মুকতাবিস উন নুর রচিত আমার দেখা সামাদ আজাদ ও সাইফুর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিপরীত মেরুর দুই বিশাল ব্যক্তিত্বকে নিয়ে লেখা এক অসাধারণ গ্রন্থ।
জাতীয় ক্ষেত্রে বরেণ্য সিলেটের দুই কৃতি পুরুষের জীবনের অনেক না জানা তত্ব ও তথ্যের সমাহার ঘটেছে কালজয়ী এই ইতিহাস গন্থে। টুকরো টুকরো স্মৃতিচারণ মূলক বর্ণনায় এক ভিন্ন রকম সাহিত্যের স্বাদ আস্বাদন করা যাবে বইটিতে।
সামাদ আজাদ ও সাইফুর রহমান দুই কিংবদন্তী পরুষের নাম৷ স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুজনই সফল মন্ত্রী ছিলেন। মানুষ, মাটি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। দেশের মানুষের মনে আত্মপরিচয়ের আকাংথা নতুন করে জাগিয়ে দেয়ার সাধনায় ব্রতী ছিলেন।
গনতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে সামাদ আজাদ রাজনীতির জটিল ছক কষে নানামুখী কৌশল গ্রহন করলেও ব্যক্তিগত জীবনে খুবই অমায়িক ও হৃদয়বান মানুষ ছিলেন। সাইফুর রহমান রাজনীতির মারপ্যাচ অংক কষে রপ্ত না করলেও উন্নয়নের রাজনীতিকে আমাদের চিন্তা-চেতনা ও মননে গেঁথে দিয়েছেন।
15380583_10202365072964416_5740314970363495475_nদক্ষ সম্পাদক ও মেধাবী সাংবাদিক মুকতাবিস উন নুর বরেণ্য এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সামগ্রীক কর্মকান্ড, ব্যক্তিগত জীবনবোধ ও চিন্তা-ভাবনাকে সুক্ষ দৃষ্টি দিয়ে দেখেছেন এবং সুনিপুন বর্ণনায় হৃদয়গাহী করে তুলে ধরেছেন। ছয় ঋতুতে যত রকমের রূপ রং আর গন্ধে মন ভরানো চোখজুড়ানো ফুলের বাহার থাকে এই দুই মনিষার জীবন থেকে সবই তিনি আহরণ করেছেন।
লেখকের ‘সময় অসময়’ ওয়ান-ইলেভেনের লোমহর্ষক ঘটনা প্রবাহের খন্ড চিত্র । লেখক-সংগঠক ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর তখন সিলেট্ প্রেসক্লাবের সভাপতি আর দৈনিক সিলেট প্রতিদিন সম্পাদক আহমদ নুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। এই দুই নুরের সাথে ঘটে যাওয়া মর্মস্পর্শী লাঞ্চনা ও গঞ্জনার এক অজানা ইতিহাস ‘সময় অসময়’ । সত্য কথন, ভাষাশৈলী ও সাবলীল উপস্থাপনায় বইটি ইতিহাসের এই কঠিন সময়ের সাক্ষ্য হয়ে থাকবে অনন্তকাল। সেই সাথে গ্রন্থের লেখক মুকতাবিস উন নূর সত্য ও সাহসিকতার সাথে মাথা উচু করে দাড়াবার জন্য নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। ‘সময় অসময়’ সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সিলেটের সাংবাদিক সমাজে মুকতাবিস উন নূর একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ত। যার সততা, নিষ্ঠা ও সত্য বলার সৎ সাহস সত্যিই অনুকরনীয়। নির্ভীক ও নির্মোহ এই দুটি শব্দ তার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মানে সচেতন ও দ্বায়িত্বশীল সম্পাদক হিসেবে তিনি সকল মহলে সমাদৃত। তার পরিচ্ছন্ন সমাজচিন্তা ও ক্ষুরধার লেখনি আমাদের অনুপ্রানিত করে।
15317872_10202365072924415_3482686027653809068_nমুকতাবিস উন নূর মাত্র ২৫ বছর বয়সে সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৩৩ বছর বয়সে। ২০ বছর বয়সে সাপ্তাহিক সিলেট কণ্ঠের সম্পাদক হন। সম্ভবত তিনিই তখন দেশের কনিষ্টতম সম্পাদক। সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য হন ১৯৮১ সালে। ৮২ সালের ডিসেম্বরে (৮৩-৮৪ সনের জন্য) সিলেট প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। ৮৪ সালে (৮৫-৮৬ সালের জন্য) নির্বাচিত হন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক । দুই দফা সহ-সভাপতি (১৯৮৭-৮৮ ও ৮৯-৯০) এবং ৬দফায় (৯৩-৯৪, ৯৫-৯৬, ৯৯-২০০০, ২০০১-২০০২, ২০০৫-২০০৬, ২০০৭-২০১০) ১৪ বছর নির্বাচিত সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    Print       Email

You might also like...

6afed405318d4219e5ce1f58be1a4401-5a1580a4a4885

২৭ নভেম্বর লন্ডনে কারি শিল্পের ‘অস্কার’

Read More →