Loading...
You are here:  Home  >  ধর্ম-দর্শন  >  Current Article

রমজানের সুস্থতায় আপনার করনীয়

ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল
ramzan-1434987359_p-3শরীরের সাথে সুস্থ ত্বক ব্যক্তির অনন্দকে প্রসারিত করে। পবিত্র রমজান মাসের অনেক রোজাদার ব্যক্তি তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মগুলো করে থাকে রুটিনমাফিক। আবারো রোজার দিনে এদিকে-ওদিকে ছোটাছোটি করে করার ফলে দিনের বেশি সময় খাওয়া দাওয়া ও পানি পানের বিরতি থাকার ফলে অনেকেরই ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগেই একজন মানুষ সুস্থ হয়ে উঠবে তা কিন্তু নয়। এর মধ্যে নিয়মিত খাদ্যাভাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান, গোসল, ত্বক সহনীয় সাবান, শরীরে সহনীয় তৈলমাখা ও সূর্যরশ্মি থেকে নিজেকে রক্ষা করা আপনার ত্বকের সুস্থতাকে পরিপূর্ণ করে তুলতে সহায়তা করে। রমজান মাসে রোজাদার ব্যক্তি সুদীর্ঘ সময় পানি পানে বিরতি থাকার ফলে অনেকের ত্বকই মলিন ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, আমাদের দেশে অনেকেই রমজান মাসে পরিপূর্ণ খাদ্যাভাস গ্রহণ করতে পারেন না, আবার কিছু কিছু ধন্যাঢ্য খাদ্য বিলাসীরা এতই খাবার গ্রহণ করেন যে তাতে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগ-বালাইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণত মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্তরা রোজায় খাদ্যাভ্যাসে পরিমাণমতো ইফতার, লেবুর শরবত, শসা, কিছু রসালো ফল, খেজুর, গাজর ও প্রচুর পানি পান করতে হবে। ভোররাতে নিয়মিত খাবারের সাথে দুধ ও শেষে অতিরিক্ত দুই গ্লাস পানি পান করলে আপনার সারাদিনের পিপাসা ও ক্লান্তি রোধ করতে পারে। মনে রাখতে হবে রোজায় অতিরিক্ত খাবারের চেয়ে পুষ্টিকর, চর্বিমুক্ত সীমিত খাবারই আপনার ত্বককে সুন্দর ও ¯িœগ্ধ রাখবে। এছাড়া পুরো রোজার মাস আপনি আপনার লাইফস্টাইলকে সাজিয়ে নিতে পারেন। খাদ্যাভ্যাস : আপনার প্রতিদিনের খাদ্য হবে সুষম, হজমযোগ্য ও পুষ্টিকর, যেমনÑ মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ফলমূল ও সবজি। পরিহার করবেন অতিরিক্ত মসলা, ঝাল, কফি ও চর্বি জাতীয় খাবার। মনে রাখতে হবে বেশি খাবারের জন্য রোজা নয়, সিয়াম সাধনার জন্য রোজা। বেশি খাবেন মুটিয়ে যাবেন। আর মুটিয়ে গেলে বিভিন্ন অসুখের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।পোশাকাদি : এখন রোজার সাথে বর্ষাকাল। এই রোদ ও এই মেঘ। ভ্যাপসা গরম আপনাকে সহজেই ক্লান্ত করে ফেলতে পারে। তাই আপনার পরিধেয় কাপড় হোক ঢিলেঢালা, নরম ও সুতি। টাইট ফিটিং নাইলন ও মোটা কাপড় পরিধান করা উচিত নয়। নাইলন কাপড় শরীর থেকে ঘামের উৎপত্তি বাষ্পীয়করণের স্বাভাবিক ব্যবস্থাকে প্রতিহত করে। ফলে ইহা পরিহার করাটাই শ্রেয়। ঋতুভিত্তিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পড়ার অভ্যাস করবেন। যা আপনার শরীরের ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে না পারে।গোসল : অনেকেই রমজান মাসে গোসল নিয়ে বিপাকে পড়েন যাদে অফিসের খুব তাড়া বা সকাল সকাল অফিস তারা খুবই চিন্তিত হয়ে পরেন। এর মধ্যে আপনি সেহরীর আগে গোসল করে নিতে পারেন। গোসলের সাথে ত্বকের একটা সুসম্পর্ক রয়েছে। যারা নিয়মিত গোসল করেন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন তাদের ত্বক এমনিতে ভালো থাকে। ত্বক সুস্থ রাখতে পরিষ্কার ও ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করাটা খুবই জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে। শরীরের ভাজযুক্ত ত্বক, পায়ের তালু ও গোপন স্থানের ত্বক ধৌত করতে হবে।সর্বদা : সর্বদা কম ক্ষারযুক্ত সাবার ব্যবহার করাই ভালো। রজমান মাসে যেহেতু আপনি নজেই একটু কম পরিশ্রম করতে চান তাই ত্বক তৈলাক্ত কম হয় ও ঘামও কম হয়। এ অবস্থায় আপনার কম সাবান ব্যবহার করাটাই বাঞ্ছনীয়।সূর্যরশ্মি : এখন যেহেতু বর্ষাকাল তাই সূর্যরশ্মি প্রকটভাবে আপনার উপর বর্ষিত হতে পারে, তবে রোজাদার ব্যক্তিরা সর্বদাই তাপ এড়াতে চায়। মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত সূর্যরশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। অনেক রোজাদাররা গরমে তৃষ্ণা অনুভব করেন। আবার অনেকেই প্রচ- গরমে ও তৃষ্ণায় পুকুরে বা চৌবাচ্চায় গোসলে অনেক সময় ব্যয় করেন। এতে আপনার চামড়া স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থা রোধে আপনার বাসাবাড়ি যাতে খোলামেলা, বাতাস চলাচল উপযোগী ও ঠা-া থাকে তা করতে পারেন। আর যাদের সামর্থ্য আছে তারা এয়ারকুলার ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখতে হবে আপনার ত্বকের সুস্থতায় আপনার ত্বকের প্রতি নিজেকে যতœশীল হওয়াই শ্রেষ্ঠ উপায়। এছাড়া ত্বকে মারাত্মক কোন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। লেখক: সহকারী অধ্যাপক (চর্ম-যৌন-এলার্জি)ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকামাল স্কিন সেন্টার,০১৭১১৪৪০৫৫৮।

    Print       Email

You might also like...

hazz-bg20170906213617

৪১৯ হাজি নিয়ে বিমানের প্রথম ফ্লাইট ঢাকায়

Read More →