Loading...
You are here:  Home  >  আমেরিকা  >  Current Article

রাখাইনে সহিংসতার প্রতিবাদ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে

5b09b84b14c011203b5e00d6f3d086fe-59ac30febb7a2

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়নের প্রতিবাদ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। চলমান সহিংসতার নিন্দা ও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ।

মস্কো

রবিবার রোহিঙ্গা মুসলমিদের সমর্থনে রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থিত মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষোভের সময় দূতাবাসের চারপাশে ব্যাপক পুলিশ অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীরা আল্লাহ আকবার বলে স্লোগান দেন এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা বন্ধের দাবি জানান।

চেচনিয়ার নেতা রামজান কাদিরভ জানিয়েছেন, চেচনিয়ার রাজধানী গ্রজনিতে সোমবার রোহিঙ্গাদের হত্যার প্রতিবাদে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির মুসলিমরা মিয়ানমারের মুসলমান ভাই ও বোনদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করবেন।

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার জাফনাতে তামিল মুসলমানরা শনিবার রোহিঙ্গাদের হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ করেছেন। জাফনার কেন্দ্রীয় বাস স্টেশনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মিয়ানমার সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত করেন বিক্ষোভকারীরা।

ইরানের সংসদের স্পিকারের উপদেষ্টা হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে। গণহত্যার কারণে সেখানে নতুন করে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার তিনি টুইটারে লিখেছেন, মিয়ানমারের মুসলমানদের জন্য এখন জরুরি ভিত্তিতে মানবিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি মুসলিম দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সমাজের নিরবতার সমালোচনা করেন।

গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফও মিয়ানমারে মুসলমান হত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের নিরবতার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, মিয়ানমারে জাতিগত নিধন বন্ধের জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় রোহিঙ্গা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। জাকার্তার মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে পুলিশে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হাতাহাতি হয়। শেষপর্যন্ত মিয়ানমারের কূটনৈতিক মিশনের সামনে সমাবেশ করেছে। এ সময়ে তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধের দাবিতে শ্লোগান দেন। এ ছাড়া, মিয়ানমারের মুসলমানদের সঙ্গে সংহতিও প্রকাশ করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা ইন্দোনেশিয়া থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বহিষ্কারের দাবি জানান।

মালয়েশিয়া

বুধবার প্রায় ১২০০ বিক্ষোভকারী মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালা লামপুরে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন রোহিঙ্গা মুসলিম। বিক্ষোভকারীরা রোহিঙ্গাদের হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানান।

শনিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি আশা প্রকাশ করেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেতা আং সান সু চি চলমান সহিংসতা বন্ধ করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবেন।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের হত্যাযজ্ঞের বিষয়টি তদন্তের জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে পাকিস্তান রোহিঙ্গা মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন। চলমান সহিংসতায় শরণার্থী হয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা ও হত্যার প্রতিবাদে মুসলিম দেশগুলোর নীরবতার নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভাসগলু। তিনি বলেন, অনেক বড় বড় মুসলিম দেশ রয়েছে। তারা এখন কোথায়? তারা কেন চুপ?

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা মুসলিমদের মানবিক সহযোগিতার জন্য তুরস্ক ৭০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের চেয়ে কোনও মুসলিম দেশ বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রাথেংডাংয়ে অভিযানে একদিনেই শতাধিক বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে খোদ মিয়ানমার সরকার। তবে রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি নিহত রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এ সময় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত তিনটি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২৬০০ বাড়ি পুড়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে অন্তত ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনসিএইচআর।

উল্লেখ্য, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। এসব রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে মিয়ানমার। দেশটি তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। বাংলাদেশও রোহিঙ্গাদের প্রবেশে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস করছেন। সূত্র: আরটি, পার্স টুডে, তামিল গার্ডিয়ান, আনাদোলু।

    Print       Email

You might also like...

Yunus-su-ki

কী অবস্থা এসে দেখে যান: সু চিকে ইউনূস

Read More →