Loading...
You are here:  Home  >  সাফল্য  >  Current Article

রাবি শিক্ষকের মাশরুম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য

RU-1রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহমেদ ইমতিয়াজ মাশরুম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট মাশরুম গবেষকও। মাশরুম গবেষণার সুবাদে তিনি কোরিয়া, জাপান ও ইউএসএসহ প্রায় পনেরোটি দেশে ঘুরেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) এবং এমএসসি শেষ করে ২০০৫-১২ পর্যন্ত কোরিয়া এবং জাপানে পি-এইচডি এবং পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে মাশরুম নিয়ে সফলভাবে গবেষণা করেন। বর্তমানে মাশরুম গবেষণা তার পেশা তো বটেই, নেশাও পরিণত হয়েছে। মাশরুমের পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অনেক শাখা-প্রশাখা আছে। কোন কোন উদ্ভিদের পাতা ফুল-ফল হয় আবার কোনটির উদ্ভিদে এসব হয় না। কিছু উদ্ভিদ আকারে বড় আর কিছু ছোট কিংবা অতি ছোট। পাতাহীন কাণ্ডহীন ফুলহীন ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদের একটি ফলদেহ হলো মাশরুম যা পুষ্টিময় বলবর্ধক খাদ্য এবং ওষুধ হিসেবে মহামূল্যবান। মাশরুমের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তথা পৃথিবীতে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুধুমাত্র শর্করা সমৃদ্ধ খাদ্যের সরবরাহই যথার্থ নয়; বরং এমন একটি সুষম আদর্শ খাদ্য চাই যা সত্যিকারেই প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য বস্তুতে শর্করার পাসাপাশি থাকতে হবে অন্যসব উপাদান। মাশরুমই হতে পারে সেই কাঙ্খিত আদর্শ খাদ্যবস্তু। মাশরুমই একমাত্র আদর্শ খাবার যা মানব শরীরের জন্য প্রয়োজন সব মৌলিক খাদ্য উপাদান সুসহনীয় মাত্রায় সরবরাহ করে। নিয়মিত মাশরুম খেলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ভেঙ্গে মেদ ভূঁড়ি দূর করে এবং দীর্ঘ দিন যাবত শরীরের মধ্যে বাসা বেঁধে থাকা অনেক জটিল ও কঠিন রোগ নিরাময়েও দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে মাশরুম ভিত্তিক কৃষি ও শিল্প কারখানা গড়ে উঠার সম্ভাবনা তথা আর্থসামাজিক অবস্থা কতটা উপযোগী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ্যাগ্রোক্লাইমেট এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাপনের ধরণ মাশরুম কৃষির জন্য খুবই উপযোগী।
এই কৃষির জন্য ফসলি জমির দরকার হয় না বরং শোবার ঘরের মতো ছোট ছোট ঘরেই র‌্যাকে মাশরুম চাষ করা যায়। কাজটি হালকা এবং নিজ বাড়িতে হওয়ায় নারী পুরুষ, স্কুলগামী ছেলেমেয়ে এবং বৃদ্ধরাও এই কৃষিতে অংশ নিতে পারে। সুতরাং পরিবারের সবাই তাদের স্ব স্ব কাজের পাশাপাশি মাশরুম চাষে অবদান রাখতে সক্ষম। দেশে মাশরুম চাষীদের বেশ কতকগুলো সমস্যা থাকলেও দুটি সমস্যাই প্রধান বলে মনে করেন তিনি। বীজের (স্পন) অভাব এবং উৎপাদিত মাশরুম বিক্রির স্থান বা ক্রেতা নেই। ফলে আগ্রহী কৃষক প্রশিক্ষণ নিয়ে অতি কষ্টে বীজ সংগ্রহ করে মাশরুম চাষ করে। বাংলাদেশে মাশরুমের গবেষণা ভিত্তিক কৃষি ও শিল্প কারখানা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার গবেষণা, চিন্তা ও মনন জুড়ে যেহেতু মাশরুম তাই এটা নিয়ে আমার স্বপ্ন ও পরিকল্পনাও অনেক। তাই টলমলে স্বপ্ন নিয়ে ‘মাশটেক’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে মাশরুম গবেষণার কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু করা হয়েছে। মাশরুম চাষীরা যেন নিরাশ না হয় সেই জন্য সারা দেশের মাশরুম চাষীদের নিকট থেকে মাশরুম ক্রয় করে ‘মাশটেক’ এর মাধ্যমে মাশরুম সমৃদ্ধ খাদ্য পণ্য তৈরি/প্রসেস করে পরীক্ষামূলক বাজার জাত করা হচ্ছে। এছাড়া ড. ইমতিয়াজ ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাশরুম ও মাশটেক প্রোডাক্ট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি খাদ্য পণ্য ফর্মুলেট করা হয়েছে বলে জানান তিনি। যেমন উচ্চ-রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়বেটিস রোগীদের জন্য মাশরুমের আটা, মাশরুম-কুমড়া বড়ি মাশরুমের আচার, ফার্মা গ্রেড প্রোডাক্ট, মাশরুমের চা/কফি, মাশরুম দিয়ে তৈরি হরলিক্স জাতীয় প্রোডাক্ট ইত্যাদি পন্য তৈরি করে তিনি স্বল্প মাত্রায় বাজারজাত করছেন। মাশরুমের উপকারিতা বা গুরুত্ব সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ‘মাশইনফো’ এর মাধ্যমে বেকার যুবক ও আগ্রহী চাষীদের খুব কম খরচে মাশরুম চাষের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন তিনি। এছাড়া জনসচেতনার জন্য এ বিষয়ে পত্রিকায় কয়েকটা আর্টিকেল লিখেছেন। এমনকি তিনি ‘মাশরুম বায়োলজি’ নামে বাংলায় একটি বই লিখেছেন যা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সিলেবাসের অংশ হিসেবে পড়া হয়। তবে মাশরুম ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য সরকারী/বেসরকারী বড় কোন উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান ইনিশিয়েটিভ নিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই যথাযথ সহযোগিতা করার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে বাংলাদেশে মাশরুম গবেষণার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অতি শুরুত্ব সহকারে মাশরুমের চাষ ও গবেষণা হলেও বাংলাদেশ হতাশাজনকভাবে পিছিয়ে। বেসরকারী উদ্যোগে যা হয় সেটা একেবারেই সীমিত। আর সরকারী উদ্যোগ বলতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে যা ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত। সরকারী আর দশটা প্রতিষ্ঠানের মতো এই প্রতিষ্ঠানও আমলা তান্ত্রিক জটিলতা এবং বদলি রোগে জর্জরিত। অনভিজ্ঞরা এসে কিঞ্চিত অভিজ্ঞ হতে না হতেই বদলি। ফলে সেই শ্বেত হস্তি! সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে মানসম্মত গবেষণার সক্ষমতা অর্জন করতে হলে সত্যিকারের অভিজ্ঞ মাশরুম গবেষকদের যথার্থ মর্যাদা দিয়ে গবেষণার সাথে তাঁদেরকে কীভাবে যুক্ত করা যায় তার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

    Print       Email

You might also like...

573446d48634ea19e6bfbe95894108f8-598b01c41132e

পর্তুগালে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি

Read More →