Loading...
You are here:  Home  >  ইউকে  >  Current Article

লন্ডনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর আ’লীগের

242696_196
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সফরকে কেন্দ্র করে লন্ডনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বলা হলেও একই সময়ে বিএনপির আরো কিছু নেতার সেখানে অবস্থান সফরের গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে সরকারের কাছে। লন্ডনে খালেদা জিয়ার চলাফেরাসহ সব কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার মতে, খালেদা জিয়ার এই সফর পারিবারিক হলেও তিনি কয়েকটি টার্গেট নিয়েই সেখানে গেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- আগামী নির্বাচন নিয়ে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে পরামর্শ, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ এবং সর্বোপরি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করা। সেজন্য বিএনপির তরফ থেকে এই সফরকে একান্তই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বলা হলেও এটাকে নতুন ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীনেরা। এ কারণে খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য সফরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে চান তারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যেই বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর আমরা মনিটর করছি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনিটর করছে। তিনি কোথায় যাচ্ছেন কি করছেন তা আমরা দূতাবাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত খবর রাখছি।’

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার এই সফর নিয়ে আওয়ামী লীগ বেশ চিন্তিত ও আতঙ্কিত। কারণ, এই সময়ে খালেদা জিয়ার সাথে যোগ দিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের নেতা। এর মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তার ছেলে তাবিথ আউয়াল, বিএনপি স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রীসহ আরো অনেকে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, একইসময়ে চিকিৎসার নামে লন্ডনে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের রাজনীতির রহস্যপুরুষ খ্যাত সিরাজুল আলম খান দাদাভাই। সাধারণত চিকিৎসা করাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে গেলেও এবার তিনি কেন লন্ডনে গেছেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। তাকে এখনো বাংলাদেশের অন্তরালের রাজনীতির নায়ক বলে মনে করেন কেউ কেউ।

এ ছাড়া লন্ডনে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী সভাপতি লিয়াকত শিকদার। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমও। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে লন্ডনে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নতুন কোনো ছক কষা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ করছেন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। সেজন্য শুরুতে মামলার ভয়ে খালেদা জিয়া লন্ডনে পালিয়ে গেছেন বলা হলেও এখন সেই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা এখন এই সফরকে দেখছেন ষড়যন্ত্র হিসেবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘বিএনপি নতুন করে সঙ্কট সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা করছে। আমরা আশঙ্কা করছি লন্ডনে বসে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘লন্ডনে বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাতের জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
সফরকে উদ্দেশ্য করে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হটাতে বিদেশে দেন-দরবার হচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, ‘মা হিসেবে খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তারেক রহমান দলের একজন নীতিনির্ধারকও। কথা রেকর্ড হয় বলে টেলিফোনে অনেক কথাই বলা যায় না। সরাসরি দেখা হলে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা সহজ। তাই এ সফরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এ সময় আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনের বিষয়ে কৌশলগত দিকনির্ধারণ করা হবে। সেজন্য বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ খুব একটা স্বস্তিতে নেই। খালেদা জিয়ার এই সফরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছি আমরা।’

দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘এটা শুধু মা-ছেলের সাক্ষাৎ নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সফর। এ ছাড়া সেখানে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন নেতাও অবস্থান করছেন। সামনে নির্বাচন। এ মুহূর্তে তারা সেখানে বসে আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে কি ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছেন তা নিয়ে আমরা বেশ চিন্তিত। বিষয়টি আমরা কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছি।’

    Print       Email

You might also like...

রোহিঙ্গাদের ত্রাণে লাগবে সাড়ে ৭ কোটি ডলারের বেশি

Read More →