Loading...
You are here:  Home  >  ইউকে  >  Current Article

লন্ডনে ফ্যাশন শোতে বাংলাদেশের অ্যাসিড আক্রান্তরা

ea656ec574f92e81303f481e47af3ff2-59de4fa44ce36
বাংলাদেশের অ্যাসিড আক্রান্তদের নিয়ে লন্ডনে গতকাল মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শো। এই শোতে বাহারি নকশার পোশাক কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়; অদম্য প্রাণশক্তি দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের অ্যাসিড আক্রান্তরা। নান্দনিক পোশাকের জৌলুশের স্মৃতির বদলে দর্শকেরা ঘরে ফিরেছেন জীবনে হার না মানার একেকটা সাহসী গল্প নিয়ে। নারী নির্যাতন ও সহিংসতা রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে এই ফ্যাশন শো।

বুধবার ছিল বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস। দিবসটি সামনে রেখে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাকশনএইড ইউকে এই ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শোর আয়োজন করে। পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইনের দ্য ওল্ড ট্রুম্যান ব্রিউরি মিলনায়তনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী শো অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল এই শো তত্ত্বাবধান করেন। মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন ফারজানা শাকিল। আর পুরো আয়োজন সমন্বয় করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের অ্যাসিড আক্রান্ত ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁরা হলেন সোনালী (১৫), গঙ্গাদাসী (৪০), জেসমিন আক্তার (৩০), নুরুন নাহার (৩৭), সাফুরা খাতুন (৪৩) নুরুন নাহার (৪১), সাদেকুর (৪০) ও নূর ইসলাম (৩৭)।

বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ব্যতিক্রমী এক ফ্যাশন শোতে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। ছবি: প্রথম আলো
গঙ্গাদাসী, জেসমিন আক্তার, নুরুন নাহার ও সাফুরা খাতুন প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন। আর নুরুন নাহারের অপরাধ, তিনি স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে রাজি হননি। অন্যরা সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে অ্যাসিড হামলার শিকার হন। এর মধ্যে সোনালীর পরিবারের ওপর যেদিন অ্যাসিড হামলা হয়, ওই দিন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ দিন। বছরের পর বছর ধরে অ্যাসিড হামলার ক্ষত নিয়ে দিনাতিপাত করছেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ফ্যাশন কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়; মানুষের ভেতরের যে সৌন্দর্য, মানুষের যে প্রাণশক্তি আছে, সেটাই আসল সৌন্দর্য। অংশগ্রহণকারী অ্যাসিড আক্রান্তদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। শোনান তাঁদের হার না মানার গল্প। ফারাহ খান বলেন, ২০০৪ সাল থেকে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ অ্যাসিড আক্রান্তদের নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করতে শুরু করে। তাঁদের সামাজিক একাকিত্ব ঘোচানোর লক্ষ্যে সেতুবন্ধন গড়ি নামে একটি সংগঠন করে। বর্তমানে দেশের অ্যাসিড আক্রান্ত ২৪০ জন এই সংগঠনের সদস্য। তাঁরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন, অধিকার নিয়ে কথা বলছেন। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আয়-রোজগারে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

অ্যাসিড আক্রান্তদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শোয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল। তিনি এই শো তত্ত্বাবধান করেন। ছবি: প্রথম আলো
অ্যাকশনএইড ইউকের প্রধান নির্বাহী গিরিশ ম্যানন বলেন, অ্যাসিড হামলা ঠেকানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ২০০২ সালে আইন প্রণয়ন করে। আজ বাংলাদেশের অ্যাসিড আক্রান্তরা ফ্যাশন শোর মাধ্যমে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের জন্য উদাহরণ তৈরি করল। তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশে বছরে ৪০০ অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটত। সেই সংখ্যা কমে এখন বছরে ১০০। তিনি বলেন, একজন মানুষও যাতে অ্যাসিড হামলার শিকার না হন, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের বাহ্যিক রূপ যা-ই হোক, প্রত্যেকের স্বপ্ন, আশা ও অনুভূতিগুলো সমান। তাই বাহ্যিক রূপের কারণে কেউ যাতে ঘৃণা বা বৈষম্যের শিকার না হন, সেই বার্তাও দিয়েছে এই ফ্যাশন শো।

প্রতিটি পরিবেশনা শেষে তুমুল করতালি দিয়ে বাংলাদেশের অ্যাসিড আক্রান্তদের বাহবা জানান দর্শকেরা। হলভর্তি দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান তাঁদের। শেষ পর্বে বাংলা গানের তালে তাঁদের সঙ্গে নাচে শামিল হন দর্শকেরা। অুনষ্ঠান শেষে কথা হয় ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে নতুন কিছু করতে পারে, তা আজকে বিশ্বকে আবারও দেখিয়ে দিল।

    Print       Email

You might also like...

16de4047f1b00c740eca5a206a9f31dd-59eb5649c6e27

এনআরবি গ্লোবাল বিজনেস কনভেনশন ২০১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

Read More →