Loading...
You are here:  Home  >  ইউকে  >  Current Article

লন্ডনে বাংলা সংগীত উৎসবের নবম অধিবেশন ৪ নভেম্বর

সৌধ আয়োজিত তিন মাসব্যাপী বাংলা সংগীত উৎসবের নবম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সাউথ লন্ডনের উইম্বলডন লাইব্রেরির মার্টন আর্ট স্পেসে। এতে হিন্দুস্তানি খেয়াল ও ঠুমরির সঙ্গে বাংলা রাগ প্রধান ও বাংলা আধুনিক গান পরিবেশন করবেন বিলাতের অন্যতম প্রধান শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী চিরঞ্জীব চক্রবর্তী। কিছু বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন চিরঞ্জীব চক্রবর্তীর কিছু সংগীত শিষ্য। কিবোর্ডে থাকছেন অমিত দে। তবলায় সংগতের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত সলো তবলা লহরি বাজাবেন কলকাতা থেকে আগত অতিথি শিল্পী পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য।

চিরঞ্জীব চক্রবর্তী শাস্ত্রীয় সংগীতের দীক্ষা নেন পণ্ডিত নিদানবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়, পণ্ডিত অনিল পালিত, পণ্ডিত সুধীর রায় ও পণ্ডিত অরুণ ভাদুড়ির কাছে। ভারতের প্রখ্যাত সংগীত রিসার্চ একাডেমিতে গান শেখার পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্র ভারতী থেকে খেয়ালের ওপর স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী পরিচালিত শ্রুতিনন্দনে সংগীত শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বিলাতে এসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভারতীয় বিদ্যাভবনে শাস্ত্রীয় সংগীত শিক্ষাদান শুরু করেন। সম্প্রতি লন্ডনের ট্রিনিটি কলেজ তাঁকে ভারতীয় কণ্ঠ সংগীতের অন্যতম ফেলো হিসেবে স্বীকৃতি জানায়। শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি তিনি বাংলা রাগ প্রধান, উপ শাস্ত্রীয় ঠুমরি বা গজলাঙ্গের গান এবং আধুনিক বাংলা গান পরিবেশনেও সমান পারদর্শী।
সৌধ পরিচালক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, এ বছর বাংলা সংগীত উৎসবে আমরা দুই কৃতি বাঙালি শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পীকে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আমরা উৎসবের সূচনা করেছিলাম কিটস মিউজিয়ামে শীর্ষ-শাস্ত্রীয় শিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তীর একক পরিবেশনা দিয়ে। তিন মাসব্যাপী এই উৎসবের প্রায় সমাপ্তি বিন্দুতে আমরা উপস্থাপন করতে যাচ্ছি আরেক গুণী শাস্ত্রীয় শিল্পী চিরঞ্জীব চক্রবর্তীকে। আমাদের শাস্ত্রীয় সংগীত পিপাসু দর্শকদের জন্য রাখছি পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্যের সলো তবলা লহরির সংক্ষিপ্ত পরিবেশনাও।
অনেকেই জানেন, এই বাংলা সংগীত উৎসবের মধ্য দিয়ে সৌধ শুরু করেছে এক ঐতিহাসিক অভিযান। বাণীপ্রধান বাংলা গানের দুরূহতা বিবেচনায় পশ্চিমে বাঙালির প্রথম ও প্রধান সংগীত দূত পণ্ডিত রবিশঙ্করও এই মহান সংগীতের প্রচারে কোনো লক্ষণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। সর্বভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত প্রচারে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান সৌধের কাছে বাংলা সংগীত উৎসবের শুরুর সময়টা নানা কারণেই ছিল চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমরা সৌভাগ্যক্রমে গত পাঁচ বছরে বিপুলসংখ্যক অবাঙালি দর্শকদের যুক্ত করতে পেরেছি। বাংলা সংগীতের শিল্প-সৌকর্যে তারা মুগ্ধ ও কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন। কবি নজরুল সেন্টারের মতো একটা অনাড়ম্বর ভেন্যুতেও অবাঙালি দর্শকেরা টিকিট কেটে ঢুকছেন। কোনো রকম পুশিং বা পুশ-মার্কেটিং ছাড়াই অধিকাংশ হলগুলোই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিলাতে বাংলা বা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের নতুন দর্শক তৈরির যে প্রচারাভিযান সৌধ শুরু করেছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি তা একটা অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু লন্ডনেই প্রায় সাড়ে চার হাজার দর্শক সৌধের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সানন্দে তাদের ফিডব্যাক ও ব্যক্তিগত ফোন ও ইমেইল রেখে গেছেন যাতে আমাদের অন্য সমস্ত অনুষ্ঠানের তথ্য তারা নিয়মিতভাবে পান। এ দেশের মূলধারার মিডিয়া সৌধের শিল্প-দর্শন, ব্যতিক্রমধর্মী ও গভীর দর্শন-সমৃদ্ধ অনুষ্ঠানমালা নিয়ে ফলাও করে ফিচার, পোস্ট-এডিটরিয়াল ছাপছে। ফলে সংগীত বা শিল্পকে আমরা যে বিপ্লব বা আন্দোলনের জায়গা থেকে দেখি, মনে হচ্ছে সেই আন্দোলনে সৌধ এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। হাউস অব কমন্সে আমাদের বাংলা সংগীত উৎসবের অধিবেশনের পর ব্রিটিশ শ্যাডো পিস অ্যান্ড ডিসআর্মামেন্ট মন্ত্রী ও লেবার দলীয় সাংসদ ফেবিয়ান হেমলটন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তাঁর বাইশ বছরের সাংসদ জীবনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এত উচ্চমানের নান্দনিক সংগীতের অনুষ্ঠান দেখেননি।
কায়সার আরও বলেন, বছরে একটা দুটো ভালো অনুষ্ঠান করার ধারণা থেকে সৌধ সরে এসেছে। প্রায় পাঁচ শ দর্শকদের নিয়ে সাউথব্যাংকের পার্সেল রুমে হাউসফুল অনুষ্ঠান যেমন আমরা করেছি, তেমনি এক শ–দেড় শ দর্শকের মাঝারি ভেন্যুগুলোতে বছরে পঞ্চাশেরও অধিক অনুষ্ঠান করে যাচ্ছি এবং প্রতিবছরই দর্শক বাড়ছে। আমাদের ডেটাবেইসে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন দর্শকদের নাম এবং তারা অধিকাংশই অবাঙালি। এতে নিজেদের মাঝেও খুব উৎসাহ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, সামনের বছর থেকে বাংলা সংগীত উৎসবের কলেবর আরও বাড়বে। মানের দিক থেকেও আমরা আরও কঠোরভাবে মনোযোগী হব। কমিউনিটিতে গান করে বেড়ান অথচ গানে নিজেদের কোনো উত্থান নেই, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা নেই, সংগীতের যথাযথ তালিম নেই এবং এমনকি নিজেদের গানের দর্শক তৈরিতেও ব্যর্থ, এমন গাইয়েদের সামনের বছর থেকে এই উৎসবে আর আমন্ত্রণ জানানো হবে না। আমাদের নিয়ে দর্শকদের বিপুল উচ্চাশা সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল এবং আমরা তা যথাযথভাবে পূরণ করব।

    Print       Email

You might also like...

8c153d8a82f1fb49a0030c95ac9fc82c-5a06ea555791f

লন্ডনে গাজী কালু চম্পাবতী পালা ১৭ নভেম্বর

Read More →