Loading...
You are here:  Home  >  ইউকে  >  Current Article

লন্ডনে বিয়ানীবাজারের পিএইচজি স্কুলের উৎসবমুখর শতবর্ষ পূর্তি

biyani-bazar-6যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিয়ানীবাজারের ঐতিহ্যবাহী স্কুল পঞ্চখ- হরগোবিন্দ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (পিএইচজি) –এর উৎসবমুখর পরিবেশে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সি ব্যাংকোয়েটিং হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ৭ শরও বেশি অতিথি।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচার হয় এলবি টিভিতে।

উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আসেক আহমদ আসুকের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সদস্য সচিব শিহাব উদ্দিন কাজল ও এম মাসুদ আহমদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই উদযাপক কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর সাংস্কৃতিক উপ কমিটির সদস্য বিনায়ক দেব জয়ের নেতৃত্বে উদযাপন কমিটির ৭৫ সদস্যের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। উদযাপক কমিটির আহ্বায়ক আসেক আহমদ স্বাগত বক্তব্যে অভ্যর্থনা জানান সবাইকে।

শতবর্ষে পা দেওয়া পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সুহৃদ-শুভাকাঙ্খী ও সাবেক শিক্ষার্থী যারা আর বেঁচে নেই তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এসময় বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় গত ৩০ অক্টোবর কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও বিয়ানীবাজারে ছয় তরুণকে।

টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এ অনুষ্ঠানটি নিয়ে দর্শকরাও উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জানিয়েছেন তাদের ভালো লাগার কথা।

তারা বলছেন, সাজানো-গোছানো, পরিকল্পিত এবং পরিচ্ছন্ন এই পুনর্মিলনী উৎসব বাঙালি কমিউনিটির অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে ‘গৌরবের ১০০ বছর: পঞ্চখ- হরগোবিন্দ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়’ শীর্ষক ইতিহাস ও স্মৃতিবিজড়িত স্মারকগ্রন্থ।

আলী আহমদ বেবুলের সম্পাদনায় প্রকাশিত এই স্মারকের মোড়ক উন্মোচন ছিলো অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

স্মারক প্রকাশনা পর্ব শেষে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক স্মৃতিচারণ পর্ব। ১৯৪৫ থেকে ২০০৯। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী এই ছয় দশকের ৪৯টি ব্যাচের পরিচিতি ও স্মৃতিচারণের আবেগে আপ্লুত হয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানের অতিথি

উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় পবিত্রনাথ দাসের নাতি, যুক্তরাষ্ট্রের আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডোমানি সিস্টেম ইনক শেলটন এর বোর্ড অব চেয়ারম্যান শান্তুনু দাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস এর মেয়র জন বিগস, ডেপুটি মেয়র সিরাজুল ইসলাম স্পীকার সাবিনা আক্তার, বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর, পিএইচজি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়েরর পরিচালনা পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি ও ক্রীড়া সংগঠক মো. আব্দুল জলিলসহ লন্ডনের কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উৎসবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশের সফলতম শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এক ভিডিও বার্তায় যুক্তরাজ্যে এমন আয়োজনের জন্য উদযাপক কমিটির সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “স্কুলের শতবর্ষে একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে আমিও গৌরবের অংশীদার। শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে আমার পক্ষ থেকে উপহার হচ্ছে পিএইচজি স্কুলের সরকারিকরণ।”

অন্য এক ভিডিও বার্তায় প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি এমপি রুশনারা আলী অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন।

বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে আগত সব অতিথিকে ব্যাগভর্তি উপহারে বরণ করে নেওয়া হয়। এসব উপহারের মধ্যে ছিলো মগ,কলম,স্মারকগ্রন্থ এবং স্মারকব্যাজ।

এছাড়া প্রত্যেক নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও উদযাপন কমিটির সদস্যদের জন্য ছিলো স্ব-স্ব নামের ফটোযুক্ত আইডি ব্যাজ।

অনুষ্ঠানে ১০ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। ছিলো উৎসব সঙ্গীতও। সাংস্কৃতিক উপকমিটি পিএইচজি হাইস্কুলকে নিয়ে চমৎকার এই উৎসব সংগীতটি তৈরী করে।
এছাড়া অনুষ্ঠানের নান্দনিক মঞ্চ, পিএইচজি স্কুলের গেটের আদলে নির্মিত ফটো ফ্রেম, চারুশিল্পী আব্দুস সামাদ এবাদের নিপুন হাতে তৈরি হয়েছে পঞ্চখ- হরগোবিন্দ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় পবিত্রনাথ দাস’র প্রতিকৃতি অনুষ্ঠানকে শৈল্পিক করে তোলায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।

নৈশভোজের শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনা মন জয় করে দর্শকদের।

রাত ১১টায় শেষ হওয়া এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে মুগ্ধতার অনুভূতি নিয়ে ঘরে ফিরেন অতিরিা।

সফল আয়োজনের নেপথ্যে

নিবন্ধন উপকমিটির নৈপুণ্যে পুনর্মিলনীতে নিবন্ধিত হন ৪০০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। প্রচার এবং প্রকাশনা কমিটির উদ্যোগে উৎসবের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের জন্য এ সাংবাদিক সম্মেলনসহ চ্যানেলএস ও এনটিভিতে সম্প্রচার হয় বিশেষ অনুষ্ঠান।

পুনর্মিলনী সফলে এই প্রচারণা রাখে বিশেষ ভূমিকা। তাছাড়া এই কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত স্মারককে বিদ্যালয়ের অনন্য দলিল বলে আখ্যা দিয়েছেন অনুষ্ঠানে আগত বিশিষ্টজনেরা। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে।

সাংস্কৃতিক উপকমিটির নির্মিত উৎসব সংগীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিলো মনোমুগ্ধকর। মঞ্চ উপ-কমিটির নান্দনিক মঞ্চ, পিএইচজি হাইস্কুলের গেটের আদলে নির্মিত ফটোফ্রেম, প্রথমবারের মতো স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পবিত্রনাথ দাসের রঙিন প্রতিকৃতি, উৎসব লোগো দিয়ে তৈরি ব্যাজ নজর কেড়েছে সবার।

আপ্যায়ন উপ-কমিটিও অতিথিদের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন নিশ্চিতে রাখেন বিশেষ ভূমিকা।

    Print       Email

You might also like...

33c0c188e88909270fab037f5553204c-5a11918023cbe

দুবাইয়ে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের সম্মিলনী

Read More →