Loading...
You are here:  Home  >  এশিয়া  >  Current Article

লেবানন নির্বাচন: ‘বিজয়’ ঘোষণা হিজবুল্লাহর

Hizbullah
লেবাননের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও সংগঠনটির মিত্রদলগুলো। হিজবুল্লাহর প্রধান এমন দাবিই করেছেন। ২০০৯ সালের পর দেশটিতে এই প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ বলেছেন, তারা জয়লাভ করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই বিজয় ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। বিবিসি।

দেশের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বলেছেন, তার পশ্চিমা-সমর্থিত দল ফিউচার মুভমেন্ট এক-তৃতীয়াংশ আসন হারিয়েছে। তা সত্ত্বেও, ধারণা করা হচ্ছে যে, হারিরিকে প্রধানমন্ত্রী রেখে ঐক্যমতের সরকার গঠিত হবে। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, হারিরি প্রধানমন্ত্রী হলেও, আগের চেয়ে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে। অতীতের চেয়ে হিজবুল্লাহর ওপর তার প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা হ্রাস পাবে।
লেবাননের ক্ষমতা বণ্টনের নীতি অনুযায়ী, দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন সুন্নি মুসলিম, পার্লামেন্টের স্পিকার শিয়া এবং প্রেসিডেন্ট হবেন খ্রিস্টান।
নির্বাচনের পরদিন দেওয়া এক বক্তৃতায় হাসান নাসরাল্লাহ বলেন, ‘দেশের স্বার্বভৌমত্ব সুরক্ষাকারী প্রতিরোধ আন্দোলন বিরাট রাজনৈতিক ও নৈতিক বিজয় অর্জন করেছে।’ তিনি অবশ্য বলেননি, তার দল ও মিত্ররা কত আসন পেয়েছে। তবে তার মতে, নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্য সফলভাবে অর্জিত হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলেছে, প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ১২৮ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে কমপক্ষে ৬৭টি আসন পেয়েছে হিজবুল্লাহ ও সংগঠনটির মিত্ররা। তবে হিজবুল্লাহ এমপির সংখ্যা আগের মতো ১৩ জনের কাছাকাছি।
আশির দশকে লেবাননে ইসরাইলি দখলদারিত্বের সময় প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে হিজবুল্লাহর প্রতিষ্ঠা। বর্তমানে সংগঠনটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক পাওয়ারহাউজে রূপ নিয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব ও ক্ষমতা সমীহজাগানিয়া। তবে পশ্চিমা দেশসমূহ ও ইসরাইল এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইসরাইলের সঙ্গে ২০০৬ সালে যুদ্ধও হয় হিজবুল্লাহর।
বর্তমান লেবানিজ প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পিতা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরিকে ২০০৫ সালে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে।
প্রধানমন্ত্রী হারিরি বলেছেন, তার দল ২১টি আসন লাভ করেছে। ৯ বছর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩৩টি আসন পেয়েছিল তার দল। তিনি বলেন, ‘আমরা অধিকতর ভালো ফলাফল আশা করেছিলাম, এটা সত্য। আরও বেশি শিয়া ও খ্রিস্টান প্রতিনিধিত্ব সহকারে একটি বৃহত্তর জোট গড়ার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু আপনারা জানেন আমার দল ফিউচার মুভমেন্টের রাজনৈতিক অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন ছিল।’ খারাপ ফলাফল সত্বেও, প্রধানমন্ত্রী হারিরি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সকল লেবানিজের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন।
এই নির্বাচনের প্রতিক্রিয়ায় এক ইসরাইলি মন্ত্রী বলেছেন, এ থেকে দেখা যায় লেবানন ও হিজবুল্লাহকে পার্থক্যহীন। ইসরাইলি শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, ‘ইসরাইল একটি স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে লেবানন ও হিজবুল্লাহকে পৃথক করে দেখবে না। লেবাননের ভূখন্ড থেকে সংঘটিত যেকোনো কর্মকান্ডের জন্য লেবাননকেই দায়ী করা হবে।’
২০১৩ সালেই নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল লেবাননে। তবে নতুন নির্বাচনী আইন নিয়ে মতপার্থ্যকের জেরে এমপিরা বিদ্যমান পার্লামেন্টের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়েছিলেন। নতুন আইনে কিছু আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করা হয়। আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য জনগণকে ভোটদানে উতসাহিত করার কথা বলা হলেও, এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৪৯.২ শতাংশ ভোটার। অথচ, ৯ বছর আগেও ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৪ শতাংশ।
হারিরি এজন্য নতুন আইনের জটিলতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে সমস্যাটা হলো, অনেক মানুষ আইন বোঝেনি।’

    Print       Email

You might also like...

1527172006

কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক বাতিল

Read More →