Loading...
You are here:  Home  >  অর্থ ও বাণিজ্য  >  Current Article

‘সবচেয়ে বড় বাণিজ্যযুদ্ধে’ জড়াল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র

233401_kalerkantho-2018-7-pic-78

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী উপেক্ষা করে শেষমেশ বাণিজ্যযুদ্ধে লিপ্ত হলো বিশ্ব-অর্থনীতির দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ওয়াশিংটন গতকাল শুক্রবার থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বসানোয় বেইজিংও একই পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, তারাও সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যে সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যযুদ্ধ বাধাল।’

এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিচ্ছিন্ন লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তেজনা প্রশমন করতে না পারলে বিশ্ব-অর্থনীতির পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে। এর মধ্যে ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, বেইজিং সংযত না হলে চীনের সব পণ্যেই আমদানি শুল্ক বসানো হবে।

এ বাণিজ্যযুদ্ধে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে—বিশ্লেষকদের এমন হুঁশিয়ারির পরও ট্রাম্পের বিশ্বাস, শেষমেশ যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে। অন্যদিকে চীনও বিশ্বাস করে, তারাই জিতবে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, চীনের অর্থনীতি রপ্তানির চেয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর দিকেই বেশি মনোযোগী।

তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি গত বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) মধ্যরাত থেকে কার্যকর করে ওয়াশিংটন। পরের দিন (শুক্রবার) চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, বেইজিংও তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্যে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনের নেওয়া পদক্ষেপ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোয়াছিয়াং বলেছেন, একটা বাণিজ্যযুদ্ধে কোনো পক্ষই লাভবান হয় না। কারণ এতে মুক্ত বাণিজ্য এবং বহুমুখী বাজারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য মা জুন গতকাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ধাক্কায় (তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার) চীনের অর্থনীতির তেমন কিছুই হবে না। তাঁর হিসাবে, ‘পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ০.২ শতাংশ কমতে পারে।’

এ বাণিজ্যযুদ্ধে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে চীনের ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বেশির ভাগ মানুষই বলছে, তারা এ লড়াইয়ে জিততে সরকারকে সহায়তা করবে।

ইয়াং নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘দেশীয় পণ্যকে বাঁচাতে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব। আমি মনে করি চীনের পণ্য বিশ্বের সেরা।’

এদিকে ট্রাম্প সর্বশেষ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে এ বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীনের আরো এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্যে আমদানি শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে।’ ট্রাম্প জানান, এর বাইরে আরো ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের ব্যাপারে ওয়াশিংটন প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া দরকার পড়লে আরো ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনের পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, উত্তেজনা বাড়তে থাকলে মোট ৫৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। অর্থাৎ চীন থেকে আমদানি করা সব পণ্যেই শুল্ক বসবে। কারণ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৫০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে চীন।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি, এপি।

    Print       Email

You might also like...

115602_bangladesh_pratidin_Ayub_Ali_BDP

দুর্বৃত্তের গুলিতে ফ্লোরিডায় যুবলীগ নেতা খুন

Read More →