Loading...
You are here:  Home  >  ফিচার  >  Current Article

সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার স্বাতন্ত্র্য

ফায়সাল আইয়ূব
faisalayyubনানা কারণে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকখানি ব্যতিক্রম। এ অঞ্চলের মানুষের আচার-ব্যবহার, আপ্যায়ন-আতিথেয়তার ঐতিহ্যিক সুনাম সুবিধিত। এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের একটি নিজস্ব লিপিও ছিল। নাগরিলিপি নামের ওই লিপিতে মুন্সী সাদেক আলীর কেতাব হালতুননবীসনহ দু-শতাধিক পুঁথি-পুস্তক ও দলিল রচনা হয়েছে। শুধুমাত্র ধন-সম্পদেই নয়; সিলেট অঞ্চলের মানুষ শিক্ষা-দীক্ষা, সভ্যতা-সংস্কৃতিতেও প্রাজ্ঞ ও প্রাগ্রসর ছিলেন বলেই এখন থেকে ছয় শ বছর আগে তাঁরা একটি লিপি তৈরিতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাংলা ভাষায় যে দুটি বর্ণমালা রয়েছে সিলেটী নাগরি তার একটি। বিশ্বভাষার ইতিহাসে (স্কটল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল ছাড়া) একটি ভাষায় দুটি বর্ণমালার এমন নজির বলতে গেলে আর নেই। চতুর্দশ শতকে এ লিপি সৃষ্টি হয় আরবি, কাইথি, বাংলা ও বেদনাগরির সংমিশ্রণে। নাগরিলিপিতে সৃষ্টি হয়েছে সাহিত্য। সিলেটী উপভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা ধারণ করে আছে এই লিপিআশ্রিত বহু শব্দ এবং একেবারে নিজস্ব উচ্চারণ। সিলেট অঞ্চলের মানুষ ছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের পক্ষে ওই সব শব্দের সঠিকভাবে মাখরাজ আদায় করে উচ্চারণ সম্ভব নয়। এর বহু উদাহরণ ইতোমধ্যে নাটক-টেলিছবির (শ্রদ্ধেয় শাকুর মজিদের লন্ডনি কইন্না ও করিমুন্নেছা) মাধ্যমে আমাদের সামনে রয়েছে। আর ওখানেই এই উপভাষা বা আঞ্চলিক ভাষার স্বাতন্ত্র্য।
অথৈ আনন্দের খবর যে ছয় শ বছর পরে এই লিপি নিয়ে আবারও কথাবার্তা, গবেষণা ও পুস্তাকাদি প্রকাশ শুরু হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে শ্রদ্ধেয় কবি ও গবেষক মোহাম্মদ সাদিক ও উৎস প্রকাশনের কর্ণধার শ্রদ্ধেয় মোস্তাফা সেলিম প্রাগ্রসর ভূমিকা পালন করে চলেছেন। শুধু বাংলাদেশেই নয়, য্ক্তুরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রেও নাগরিলিপি নিয়ে কাজ হয়েছে এবং হচ্ছে।
আজ এখানে অনেকটা হারিয়ে যেতে বসা কিছু শব্দ তুলে ধরা হল। এর বাইরেও হাজার হাজার শব্দ আছে। আগামিতে সে গুলো পর্যায়ক্রমে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা থাকবে। ফেসবুক বন্ধুদের কাছে আনুরোধ থাকল– আপনারাও হারিয়ে যেতে বসা সিলেটী শব্দগুলো এখানে অথবা নিজেদের রচনায় তুলে ধরবেন। কারণ, উত্তরসূরি হিশেবে আমাদেরও একটি নৈতিক ও ঐতিহ্যিক দায়িত্ব আছে; অস্বীকার করার উপায় নেই।
অখন, অইবো, অবায়দি, অমুকা, অলা, অলান, অয়, আখল, আই দা, আউক্কা, আফেরতা, আলিয়া, আই, আইরাম, আই, আওয়া, আখতা, আগর লাখান, আদি ফাটি, আমুয়ানি, ইছা, ইলা, ইলাখান, উকোইন, ঊকোইন, উবা, উছা, উগার, উট্রা, উদান মাদান, উড়কা/উক্ড়া, উন্দাল, উফোইত, এবলা, কই, কইনা, কইলা, কাঙলা, কান্দন/কান্দা,
কান্দাত, কুছা, কয়বর, কুয়াই, কানি, কাউয়া, কাউয়ানি, কিছা, কিয়ানো, কুন্তা, কুটুম, কুবংগশ, খলই, খট্টা, খাউক্কা, খাঙাল, খের, গফ, গফিয়া, গফিয়ার বাদা, গাই, গাত, গাতা, গাত্তা, গাভিন, গুছা, গুছি, গুয়া, ছকি, ছন বাউলা, ছল্লা, ছইন, ছাইন, ছালম/ ছালন, ছিফ, ছিফা, ছিফাত, ছিয়া, ছেইস, ছেফ, জবো, জাগা, জিল্লতি, ঝিমটি, ঝিয়ারি, তছলা, তাড়–, তিতাছড়, তেনা, থুকানি, দিগদারা, দিগদারি, দিরং, দাইর, দামান্দ, দুইফর, দুছোইন, দেওলা, ধুমা, নশা, নওশা, ননোড়ি, নিমরা, টঙ্গি, টল, টুফা, টুমা, টেঙ্গা, টেরা, ডেকা ডেকি, ডেঙ্গা, পাইজন, পুরকি, ফতা, ফটিক, ফল্না, ফাখা, ফুতা, ফুন্দ (যোনি), ফুয়া, ফুড়ি, ফুতরা, ফুটকি, ফেটনা, ফেল (পুরুষাঙ্গ), ফেলোইন, বউক্কা, বছই (শিশুর পুরুষাঙ্গ), বটনি, বড়ো দা, বলা, বয়ার, বাঙ, বাউটা, বাউর, বাউলা, বাতায়া, বাক্কা, বাংগড়, বাটিয়ল, বায়রা, বিলাই, বিয়ান, বিয়াল, বুবি, বুন্দা, বেটা, বেটি, বেটিন, বেন্দা, বেড়ি, বেলাইন, বুড়, বেউকানি, ভিক করা, মইল, মছন, মদুড়ি, মটকা, মটকি, মরকি, মরকির উফরা, মসিদ, মাত, মাতর ঠাকুর, মাইলে নেওরা, মাউগা, মিটা, মিটাই, মুই, মেকুর, মেউয়া, মোর, লউ, লাটিয়া, লাটিয়ার বাদা, লুবি/লুবিয়া, লুকলুক, লেবোইর, লেম, লেফটন, লেফা, সিরা, সুরু, সুরুয়া, শমালা, শলই, শামলাইয়া, হকল/হক্কল, হকির/ ফকির, হউর, হড়ি, হর, হমদি, হমদিক, হাইঞ্জা, হাখম, হাতরা/ হাতার, হান্ডি, হিং, হিকা মারা, হিকানি, হিঙ্গি, হিয়াল, হুকোইন, হুজা, হুত, হুতা, হুদ্দর, হুফু, হুফা, হরুতা, হুরোইন, হেনোস, হেফত/হেয়ত, হেবলা |

    Print       Email

You might also like...

শাবির ভর্তি পরীক্ষার ফল সোমবার

Read More →