Loading...
You are here:  Home  >  ফিচার  >  Current Article

সিলেটের ঐতিহ্য নরম খিচুড়ি

শাহ্ দিদার আলম নবেল
kisuri_nটেবিলে সাজানো হরেক পদের খাবার। বসে আছেন পরিবারের সব সদস্য। অপেক্ষা মাগরিবের আজানের। মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজান ভেসে আসলেই ইফতার করবেন সবাই। পরিবারের সব সদস্য এক টেবিলে বসে ইফতার করার রেওয়াজ সিলেটের ঐতিহ্যের একটি অংশ। এই ঐতিহ্যের আরেকটি অংশ হচ্ছে ইফতারে ‘নরম খিচুড়ি’ থাকা।
ইফতারে যত বাহারি পদ থাকুক না কেন ‘নরম খিচুড়ি’ না থাকলে সিলেটবাসীর ইফতারই যেন থেকে যায় অসম্পূর্ণ। শত শত বছর ধরে সিলেটের মানুষ এই পদটি দিয়ে তাদের ইফতার করছেন। সিলেট বিভাগ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এরকম খিচুড়ি দিয়ে ইফতার করার প্রচলন খুব একটা নেই। সারা দিন রোজা থাকার পর নরম খিচুড়ি দিয়ে ইফতার করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রমজানে সিলেটে প্রতিটি ঘরে ইফতার হিসেবে রান্না করা হয় নরম খিচুড়ি। সুগন্ধি চিকন চালের সঙ্গে গাওয়া ঘি, কালিজিরা ও মেথিসহ নানাজাতের মসলা দিয়ে রান্না করা হয় এ খিচুড়ি। অনেকে স্বাদে ভিন্নতা আনার জন্য খিচুড়িতে শাক ও সবজি দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ ইফতারে শুধু খিচুড়ি খেয়ে থাকেন। আবার কেউ কেউ খিচুড়ির সঙ্গে মাংস, তারকারি ও ছোলা মিশিয়ে খান।তবে যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন ইফতারের সময় সিলেটীদের পাতে নরম খিচুড়ি চাই-ই চাই। বাসা-বাড়ি ছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বড় বড় ইফতার মাহফিলেও রান্না করা হয় এরকম খিচুড়ি।কাজিটুলার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব নূরউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শত শত বছর ধরে নরম খিচুড়ি সিলেটের ইফতার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। ছোটবেলা থেকে ইফতারের সঙ্গে নরম খিচুড়ি খেয়ে আসছি। আমাদের বাপ-দাদার আমলেও ইফতারের সময় এরকম খিচুড়ি খাওয়ার প্রচলন ছিল। ইফতারের সময় বাহারি যত পদ থাকুক না কেন নরম খিচুড়ি দিয়েই সিলেটীরা ইফতার শুরু করেন।’ ডা. রেদওয়ান আফরোজ জানান, রমজানে সারা দিন অভুক্ত থাকার পর খিচুড়ির মতো নরম খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এতে বুক জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

    Print       Email

You might also like...

6d2072016765f4ee9e835bf74babc27b-59f833502c170

চীনে ইনোভেশন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশি

Read More →