Loading...
You are here:  Home  >  সিলেট সংবাদ  >  Current Article

সিলেটে মা-ছেলে খুনে জড়িত মামুন-তানিয়া দম্পতি

1980765A-9031-4A19-99C2-9D26B6875227

কুমিল্লা থেকে আটক হওয়া তানিয়া আক্তার ও তার স্বামী ইউসুফ মামুন সিলেটের মিরাবাজারের খারপাড়ায় মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। অসামাজিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করায় তাদের খুন করা হয়েছে।

পরিবারের সবাইকে রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করে এরপর গলাকেটে তাদের হত্যা করা হয়।

জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় গলা টিপে শিশু রাইসাকে মৃত ভেবে ফেলে যান মামুন-তানিয়া।

গত ৩০ মার্চ দিবাগত রাত ৩টায় হত্যাকাণ্ড শেষে স্বামী-স্ত্রী বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

সিলেটের আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে দাবি করে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নগরীর উপশহরস্থ তাদের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে।

ব্রিফিংয়ে পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সিলেট মিরাবাজারের খারপাড়ায় মা রোকেয়া বেগম ও ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তানিয়া আক্তারকে (২২) আটক করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী ইউসুফ মামুনের (২৪) দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ঘোষহাটা গ্রাম থেকে সোমবার ভোরে আটক করা হয় তাকে। পরে সিলেটে আনা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তানিয়া আক্তার দুই বছর আগে সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে আসেন। এখানেই পরিচয় হয় রোকেয়া বেগমের সাথে। পাশাপাশি দেখা হয় মামুনের সাথেও। পরে রোকেয়া বেগম কুমিল্লা থেকে আসা তানিয়াকে বোন বানিয়ে সিলেটে রেখে দেন।

এদিকে, মামুনের সাথেও তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর কয়েক দিন পরই মামুনের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা বসবাস করতেন।

তারা আরো জানান, তানিয়া রোকেয়ার বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি তানিয়াকে অসামাজিক কাজে নামাতে চান রোকেয়া। অনেক সময় রোকেয়া বেগম জোর করতেন। আর একথা স্বামী মামুনকে জানালে রোকেয়া বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এর অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তানিয়া, মামুন, রিপন, শিপন ছাড়াও আরো ৪/৫ জন রোকেয়ার বাসায় যান। রাত ৯টার দিকে লোডশেডিং হলে তানিয়া ও মামুন ছাড়া বাকিরা চলে যান।

ওইদিন তানিয়ার সাথে মামুন থেকে যান রোকেয়ার বাসায়। রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করা হয়। রাত ১টায় স্বামী- স্ত্রী মিলে প্রথমে রোকেয়া বেগমের কক্ষে যান। ঘুমে অচেতন রোকেয়া বেগমের মুখে কম্বল দিয়ে শ্বাসরোধ করার জন্য চেপে ধরেন তানিয়া আর ছুরি দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে রোকেয়াকে হত্যা করেন মামুন। এ সময় রাইসা জেগে উঠলে তার গলায় চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালান মামুন। এতে রাইসা অজ্ঞান হয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত হতে তানিয়া শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করেন।

পরে পার্শ্ববর্তী রুমে ঘুমে অচেতন রোকেয়ার ছেলে রোকনকেও একই কায়দায় হত্যা করেন তারা। রাত ৩টায় স্বামী-স্ত্রী বাসা থেকে বের হন। ভোরে তানিয়াকে কুমিল্লার গাড়িতে তুলে দেন মামুন। তবে মামুন সিলেটেই অবস্থান করেন।

পিবিআইর কর্মকর্তা রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, তানিয়া ও মামুন দাবি করেন রোকেয়ার বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। নিয়মিত খদ্দেরের আনাগোনা ছিল। আর ছেলে রোকন সবকিছু জানতো ও মাকে সহায়তা করতো। রোকেয়ার বাসায় নিয়মিত মাদকের আসর বসতো।

তারা আরো বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা আবাসন ব্যবসায়ী নাজমুলের কথা রোকেয়ার মুখে শুনলেও কোনো দিন তাদের দেখা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়া মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসায় রোকেয়া বেগম (৪০), তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৬) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় রোকেয়ার ৫ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলার পর গত বুধবার শহরতলীর বটেশ্বর এলাকা থেকে নাজমুল হোসেন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

সূত্র: ইউএনবি

    Print       Email

You might also like...

এনএসডিসি 2

৬ কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করার প্রত্যয় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদের

Read More →